kalerkantho


জামালের আনন্দ রাসেলের বেদনা

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জামালের আনন্দ রাসেলের বেদনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কোচ যায় কোচ আসে; শেখ জামাল একই রকম আক্রমণাত্মক, দাপুটে। কাল নতুন কোচ মাহবুব হোসেন রক্সির অভিষেকেও জিতেছে তারা ৩-০ গোলে।

জোসেফ আফুসি চলে যাওয়ার পর ডাগআউট কোচহীন ছিল এক ম্যাচ। সেই ম্যাচেও জেতে তারা একই ব্যবধানে। কাল বিজেএমসিকে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়েও থাকল তারা ভালোভাবে। শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে ব্যবধান মাত্র ২ পয়েন্টের। দিনের অন্য ম্যাচে শেখ রাসেল অবশ্য ১-০ গোলে হেরে গেছে ব্রাদার্সের কাছে।

বিজেএমসির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে অন্তত গোলের পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি শেখ জামাল। কর্নারে সলোমন কিংয়ের হেড পোস্ট ঘেঁষে যায়, জাহেদ পারভেজের ক্রসে মার্কারের বাধা পেরোতে পারেন না রাফায়েল, আবার রাফায়েলের বাড়ানো ক্রসে দেখা যায় পা ছোঁয়ানোর মতো কেউ নেই। ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ তাই গোলশূন্যই থাকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে রাফায়েল ওদোয়িনের জোড়া গোলে জয়ের রাস্তায় উঠে যায় শেখ জামাল।

সলোমন কিংয়ের গোলে ব্যবধান আরো বাড়ে। প্রথমার্ধে বিজেএমসি কোনো হুমকিই হতে পারেনি জামালের বক্সে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রথম সুযোগটা তৈরি করে তারাই। ইসমাইল বাঙ্গুরার ক্রসে কিংসলে ওশিওখা শট নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে পা বাড়িয়ে সেই শটের গতিপথ পরিবর্তন করে দেন জামাল ডিফেন্ডার ইয়াসিন। জামালের ফরোয়ার্ড লাইন এর পাল্টা জবাব দেয় তাৎক্ষণিক। খান মোহাম্মদ তারার লম্বা পাস ধরে বক্সের ভেতর এক ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে রাফায়েল গোল করে বেরিয়ে আসেন অন্যপ্রান্তে। বিজেএমসির দিক থেকেও এর প্রতিক্রিয়া ছিল। মিনিট দুয়েকের মধ্যে প্রতিপক্ষের বক্সের ওপর ফ্রিকিকও আদায় করে তারা। তাতে কিংসলে বাঁ পায়ের যে শটটি নিয়েছিলেন গোলরক্ষক মিতুল হাসান ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই বল ফিরিয়ে হাততালি আশা করতেই পারেন। এই অর্ধে দুই দলের খেলায়ই গতি বাড়ে। তবে গোলের জন্য শেখ জামালের আক্রমণগুলোই ছিল ধারালো। রাফায়েলও যেন তাঁর ছন্দ পেয়ে গিয়েছিলেন। নইলে সলোমনের ক্রসে অমন অ্যাক্রোবেটিক ভলি হয় কী করে! ৬০ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তাঁর সেই ভলিতেই ব্যবধান ২-০। হ্যাটট্রিক করার সুযোগ অবশ্য পাননি এই নাইজেরিয়ান। গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড মামদু বাহকে সুযোগ দিতে ম্যাচের মিনিট পনেরো বাকি থাকতে তাঁকে তুলে নেন মাহবুব হোসেন। ম্যাচের শেষ সময়ে তাঁকে অন্য গোলটি উপহার দেন মাঠে থেকে যাওয়া সলোমন। ডিফেন্ডার মুশফিকুর উদ্দিনের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সের অনেক বাইরে থেকে বল জালে জড়িয়েছেন তিনি গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে। এমন দারুণ অভিষেকে স্বাভাবিকভাবেই কোচ রক্সির চোখে খুশির ঝিলিক। জামালের হয়েই শুধু না পেশাদার ফুটবলেই প্রথমবার ডাগআউটে দাঁড়ালেন জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিয়ে সফল এই কোচ। প্রিমিয়ারের ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েও শুরুটা উতরে গেলেন তিনি দারুণভাবে। রক্সি জানিয়েছেন, তিনি নতুন করে কিছু করতে চাননি দলটির ছন্দ ধরে রাখা নিয়েই শুধু কাজ করেছেন, ‘এই সময়ে এসে দলটিকে আমূল বদলে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। কোচ ছাড়াও ওরা বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে। তার মানে দলটির একটা চেহারা এর মধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে। আমি খেলোয়াড়দের যথাসময়ে জায়গামতো খেলিয়ে তাদের সেই ছন্দটা স্রেফ ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। ’

শেখ রাসেল ওদিকে এই ছন্দটাই হারিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করা দলটি ব্রাদার্সের বিপক্ষে কাল মাথা কুটেও গোলের দেখা পায়নি। প্রথমার্ধে আলমগীর রানা ছোট বক্সের ওপর থেকে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা গোল হজম করে তার খেসারত দিতে হয়েছে। মাঝমাঠ থেকে এনামুল হকের তুলে মারা বলে মাথা ছুঁইয়ে দিয়েছেন জুনাপিও, গোলরক্ষক সেই বল ফেরাতে পারেননি। লিগে ১৩ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে রাসেল এখনো পঞ্চম স্থানে। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে ব্রাদার্স।


মন্তব্য