kalerkantho


এখন মোহামেডান আর আবাহনীর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়!

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এখন মোহামেডান আর আবাহনীর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ঐতিহ্যের চোরাবালিতে কবেই হারিয়ে গেছে মোহামেডান। এখন যার-তার সঙ্গেই হারে, নিত্য হারে যেন তাদের লাজশরমের আব্রুটাও খসে গেছে।

তাই আবাহনীর ম্যাচে তাদের নতুন করে হারানোর কিছু নেই, হলে অর্জনেরই হতে পারত। লিগ চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ড্র করাটাও তো হালের মোহামেডানের জন্য গর্বের। এই সুযোগ পেয়েও হারাল তারা কিংসলে চিগোজির পেনাল্টি মিসে। তাই ম্যাচের চেহারাটা হয়ে গেল পুরো আকাশি-নীলময়। সানডে চিজোবার জোড়া গোলে তারা ২-০তে মোহামেডানকে হারিয়ে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানেই আছে। আর মোহামেডান ১৭ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে। দিনের অন্য ম্যাচে একচেটিয়া খেলে চট্টগ্রাম আবাহনী ২-০ গোলে বিজেএমসিকে হারিয়ে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে।     

এখনো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মোহামেডানের কিছু দর্শক-সমর্থক আসে। দল খারাপ করলেও তারা আসে।

কোনোদিন হয়তো অবিশ্বাস্য কিছু ঘটিয়ে দেবে, এই আশায়। কাল তা প্রায় পূরণ হয়েই গিয়েছিল। কিংসলে চিগোজি অমন পেনাল্টি কিক মারবেন, এটা যেন ভাবতেই পারেনি। সত্যিটা হলো হালের সাদা-কালোর করুণ অবস্থার মতোই তার বিদেশি ফরোয়ার্ডের দশা। ৬০ মিনিটে তার পেনাল্টি গোল হলেই ম্যাচে ফেরে দল, কিন্তু এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার মেরেছেন বাইরে। ওখানেই যেন শেষ হয়ে যায় সাদা-কালোর সব লড়াই। অথচ উল্টোদিকে চ্যাম্পিয়ন দলের চ্যাম্পিয়ন স্ট্রাইকার সানডে চিজোবার জুড়ি নেই। ৭২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ঢাকা আবাহনীকে পৌঁছে দিয়েছেন জয়ের বন্দরে। সুবাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন আবাহনীর ক্রোয়েশিয়ান কোচ দ্রাগো মামিচ, ‘সানডে আজ দুর্দান্ত খেলেছে। সে-ই খেলাটাকে বদলে দিয়েছে। এই জয়ে আমরা শিরোপার দৌড়ে আছি। জিততে হবে সামনের প্রত্যেকটি ম্যাচই। ’

আবাহনীর এই কোচের আরেকটা বিস্ময় হলো, ‘আবাহনীর সঙ্গে প্রতিটি দলই শতভাগ উজাড় করে দিয়ে খেলে, কঠিন লড়াই করে। এটা আমার কাছে বিস্ময়কর লাগে। ’ মোহামেডানও শুরুতে যে চাপ দিয়েছে, যেভাবে দৌড়-ঝাঁপ করে খেলেছে তার সঙ্গে শেষটা ঠিক মেলানো যায় না। ওই ২০-২৫ মিনিট পরেই যেন তারা ছন্দহীন। আগের মতো গতি আর নেই খেলায়। এবং আস্তে আস্তে দাপট প্রতিষ্ঠা করে ঢাকা আবাহনী। কয়েকটি আক্রমণের পর ৪৪ মিনিটে দারুণ এক মুভ তৈরি হয় ডানদিক দিয়ে। রুবেল-সানডে একটি পাস খেলার পর সানডে জায়গা নেন। তারপর রুবেলের বাড়ানো বল আয়ত্তে নিয়ে সানডে ওপেন করে ফেললেও শেষ মুহূর্তে বাবলুর ফাউলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি মিজানুর রহমান। সানডের নিখুঁত পেনাল্টি কিকে এগিয়ে যায় নীল-আকাশিরা। বিরতির পর অবশ্য লিডের সচরাচর রোগে ভুগে পেছাতে থাকে আবাহনী। তাতে মোহামেডানের সামনেও আসে পেনাল্টির সুযোগ, স্যামসন ইলিয়াসুকে ফাউল করেন আবাহনীর ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন। ৬০ মিনিটে কিংসলে চিগোজি পেনাল্টি কিকটা পোস্টে রাখতে পারলে ম্যাচটি আরো জমে উঠত। আরো কঠিন হতো চ্যাম্পিয়নদের জীবন। কিংসলে প্রথমে সেটা হতে দেননি, এরপর ৭২ মিনিটে নাবিব নেওয়াজের ক্রসে সানডে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করে চ্যাম্পিয়নদের রেখেছেন শিরোপা দৌড়ে।

চট্টগ্রাম আবাহনী ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্বার জাহিদ হোসেন। দারুণ খেলছেন তিনি এই মৌসুমে। গোল করেছেন তিনটি। তার চেয়েও বড় কথা, প্রতি ম্যাচে অকাতরে তৈরি করে চলেছেন গোলের সুযোগ। কালও ম্যাচের আট মিনিটে দলকে এগিয়ে নিতে পারতেন এই উইঙ্গার। বিজেএমসি ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে জাহিদ শট নিলেও ঠেকিয়ে দিয়েছে গোলপোস্ট। গোল করতে না পারলেও ৩১ মিনিটে তাঁর মাপা ফ্রি-কিকে নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার অ্যালিসন উদোকার হেডে এগিয়ে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী। এর পর থেকে তারা একচেটিয়া খেলেছে। ৪৪ মিনিটে আবার জাহিদের দিকে ছিল গোলের হাতছানি। ডানদিক দিয়ে আক্রমণে উঠে দারুণ শট নিয়েও পরাস্ত করতে পারেননি আরিফুল ইসলামকে। ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করেছেন এই গোলরক্ষক। ৬৫ মিনিটে আবাহনী কোচ মাঝমাঠ পরিবর্তন করেন মামুনুল ইসলামের জায়গায় আব্দুল্লাহকে নামিয়ে। তার অন্তর্ভুক্তিতে স্কোরলাইনে কোনো বদল হয়নি, তবে জাফর ইকবাল নামলেই যেন জেগে ওঠে আরামবাগের আগের মৌসুমের সফল জুটি। ৮৫ মিনিটে ক্লান্ত জাহিদকে বিশ্রামে পাঠিয়ে নামেন সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে আসা এই তরুণ উইঙ্গার। ইনজুরি টাইমে ওই আব্দুল্লাহর কর্নার কিকে তাঁর হেড জালে জড়িয়ে গেলে চট্টগ্রাম আবাহনী প্রথম লেগের মতোই ২-০ গোলে হারিয়ে দশম জয় নিয়ে ধরে রেখেছে শীর্ষস্থান।


মন্তব্য