kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

ভাবছি এবার কোচদের নিয়ে কাজ করব

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভাবছি এবার কোচদের নিয়ে কাজ করব

বিকেএসপির সেই প্রতিষ্ঠার সময় থেকে কাওসার আলী সেখানকার হকি কোচ। দীর্ঘ ৩০ বছরের সেই চাকরিজীবন শেষে গত ১৯ নভেম্বর অবসরে গেছেন।

দেশের হকিতে অনেক তারকা খেলোয়াড়ের জন্ম দেওয়া এই কোচ কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে পেছন ফিরে দেখেছেন তাঁর বিকেএসপির সময়টাকে

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিকেএসপির হকির সঙ্গে আপনি, ছেড়ে যাওয়াটা দারুণ আবেগের নিশ্চয়?

কাওসার আলী : আমি কাজ করে গেছি। আমার কর্ম এখানে রেখে যাচ্ছি। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এখন আমার কাছে। যা রেখে যাচ্ছি, যাদের রেখে যাচ্ছি আশা করি তারা বিকেএসপিকে এখান থেকে আরো এগিয়ে নেবে। সর্বশেষ জাতীয় দলেরও সব খেলোয়াড় আমাদের। বিকেএসপির হকি ডিপার্টমেন্টটাকে এমন একটা জায়গায়ই আমি রেখে যাচ্ছি।

প্রশ্ন : তার মানে তৃপ্ত আপনি আপনার কাজ নিয়ে?

কাওসার : তৃপ্তি এটাই, যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম তা আলোর মুখ দেখেছে। সারা বাংলাদেশ থেকে প্রতিভা বাছাই করে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় দলের জন্য তৈরি করা এবং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। সেটা করতে পেরেছি।

এ পর্যন্ত ৩৭৫ জন বিকেএসপির হকিতে ভর্তি হয়েছে, তার মধ্যে ৮৭ জন এখন আছে। বাকি ২৮৬ জনের মধ্যে ১১৮ জন খেলেছে জাতীয় দলে, ঢাকা লিগে খেলেছে দুই শর বেশি। এই পরিসংখ্যানও বলছে আমরা হকিটাকে একটা সঠিক পথেই রাখতে পেরেছি।

প্রশ্ন : এখন সব খেলোয়াড় বিকেএসপির— এটা বিকেএসপির জন্য প্রশংসনীয় হলেও দেশের হকির জন্য নয়, অনেকেই বলেন। আপনার কী মত?

কাওসার : এটা আমারও দুঃখ। সারা দেশে হকি থাকলে বিকেএসপিতে আমরা বরং আরো বেশি প্রতিভাবান খেলোয়াড় পেতাম। আমাদের এখন ভালো মানের একজন খেলোয়াড় তৈরি করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। কেউ হয়তো হকি খেলেইনি কখনো, তাকে ধরে-বেঁধে শেখাতে হয়। সারা দেশে চর্চাটা থাকলে এমন হতো না। বিকেএসপি থেকে বেরিয়ে গিয়েও খেলোয়াড়রা কী করবে—এ নিয়ে একটা হতাশা কাজ করে। কারণ ওদের জন্য হাইপারফরম্যান্স ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নেই। এটা ফেডারেশনেরই দায়িত্ব। কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই তারা আমাকে হতাশ করেছে।

প্রশ্ন : বিকেএসপির এখনকার দায়িত্ব যাঁদের হাতে রেখে যাচ্ছেন, তাঁদের নিয়ে কতটা আশাবাদী?

কাওসার : ওরা সবাই তরুণ, সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্যও হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস। এই মুহূর্তে স্থায়ী চাকরিতে আছে রাজু, নান্নু ও বিপ্লব, চুক্তিভিত্তিক কাজ করছে শুভ ও আলমগীর—প্রত্যেকেই খুব ভালো কাজ করছে। বিকেএসপি থেকেই তাদের শুরু, আমার ওদের নিয়ে তাই কোনো সংশয় নেই।

প্রশ্ন : আপনিও নিশ্চয় এখন হকিতেই সম্পৃক্ত থাকবেন, সেটি কিভাবে?

কাওসার : ভাবছি এবার কোচদের নিয়েই কাজ করব।


মন্তব্য