kalerkantho


শুরুতেই মুখোমুখি রোমাঞ্চকর দুই দল

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শুরুতেই মুখোমুখি রোমাঞ্চকর দুই দল

হয়ে যাক... : ক্রিস গেইল ঝড় তুলেছেন। তবে এখনো স্বরূপে দেখা যায়নি ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। তবে নতুন কন্ডিশনে শুরুর অনভ্যাস এত দিনে কাটিয়ে ওঠার কথা সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের। গতকাল চট্টগ্রামে অনুশীলনের ফাঁকে রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে তিনি বলছেন, ‘কালকের (আজকের) দিনটি হবে তোমার!’ রাইডার্সের আজকের প্রতিপক্ষ দারুণ ফর্মে থাকা খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে ম্যাককালামের সংহার মূর্তি যে খুব করে দেখতে চায় তাঁর দল, বড় ক্যানভাসে বিপিএলের আমুদে দর্শকরাও। ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

একজন অনুশীলনে এলেন আর আরেকজন হোটেলেই থেকে গেলেন।

যিনি এলেন না, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের অনুশীলনে উত্সুক চোখ সবচেয়ে বেশি খুঁজে বেড়াল তাঁকেই—ক্রিস গেইল।

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার শরণাপন্ন হতেই মিলল তাঁর খবর, ‘ওস্তাদের অনুশীলন লাগে না। উনি বিশ্রামে আছেন, ম্যাচ খেলবেন। ’

রংপুরের সবশেষ দুই ম্যাচেই ফিফটি করে দলকে ঝোড়ো সূচনা দিয়েছেন স্বঘোষিত ‘ইউনিভার্সাল বস’। দলও জিতেছে। টানা তিন হারের পর যে দুটি জয়ে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাশরাফির দল। হয়তো দলকে এখনো সে রকম কিছু দিতে পারেননি বলেই অনুশীলনে আসা ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে সিরিয়াস দেখাল বেশ। ‘বোলার মারা বিদ্যা’য় যিনি নিজেও কম ওস্তাদ নন।

তবে এঁদের ‘ওস্তাদি’ও ম্যাচ জেতার পক্ষে যথেষ্ট না-ও হতে পারে। তা যে নয়, ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে রংপুরের রুদ্ধশ্বাস জয়ই এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

গেইলের দিয়ে যাওয়া ঝোড়ো শুরুর পরও পথ হারিয়ে রংপুর স্কোরবোর্ডে জমা করতে পেরেছিল মোটে ১৪২ রান। দলটির পেসার রুবেল হোসেনের দৃষ্টিতে এ রকম লো-স্কোরিং ম্যাচে সব কিছুর পরও বিশেষ কিছু লাগে, ‘এ রকম ছোট স্কোরের ম্যাচে বাড়তি কিছু করতে হয়। বিশেষ করে বলতে হয় থিসারা পেরেরার কথা। সেদিন শেষ ওভারটি অসাধারণ করেছে ও। ’

শুধু থিসারাই নন, রুবেল ও লাসিথ মালিঙ্গার করা ১৮ এবং ১৯তম ওভারটিও ‘বাড়তি কিছু’র মানদণ্ডে রংপুরকে জয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছিল বহুদূর। নিজ নিজ ওভারে তাঁরা মাত্র ৩ রান দেওয়ার পাশাপাশি তুলে নিয়েছিলেন একটি করে উইকেটও। তাতে শেষ ওভারে ১০ রানের প্রয়োজনীয়তার সামনে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের চেপে ধরা গিয়েছিল আরো। সেই সময়েই দুর্দান্ত বোলিংয়ে রংপুরের জয় নিশ্চিত করেন থিসারা।

যেমন নিজেদের সবশেষ ম্যাচে খুলনা টাইটানসের জয়েও শেষ আঁচড়টি দিয়েছেন আরিফুল হক। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর ৫৬ রানের ইনিংসটিও বিফলে যেতে পারত, যদি আরিফুলের ব্যাটে ম্যাচ ভাগ্য নির্ধারণী একেকটি স্ট্রোকের ফুলঝুরি না ছুটত। তাঁর ১৯ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংসই শেষ ওভারে খুলনাকে দেখিয়েছে নাটকীয় জয়ের পথ। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে জেতার ধরনই আবার এক মোহনায় নিয়ে এসে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে রংপুর আর খুলনাকে। দুই দলেরই যে সঙ্গী শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ জেতার টাটকা স্মৃতি।

এই দুটি দলের ম্যাচ দিয়েই আজ দুপুর ২টায় চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চট্টগ্রাম পর্বের পর্দা উঠছে। আর টুর্নামেন্টও এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে একেকটি জয় আরো মহামূল্যবান হয়ে উঠতে চলেছে। এই চট্টগ্রাম পর্বেই সেরা চারের পথে দলগুলোর অবস্থানও আরো স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। মাশরাফি অবশ্য এখনই অত দূরের কথা ভাবতে চান না, ‘আরো অন্তত তিনটি ম্যাচ জেতার পরে এই নিয়ে ভাবা যাবে। ’

এখনই ভাবার খুব সুযোগও নেই। ৬ ম্যাচ খেলে পাওয়া তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে পাঁচ নম্বরে অবস্থান রংপুরের। তুলনায় আপাতত অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে মাহমুদ উল্লাহর খুলনা টাইটানস। ৭ ম্যাচে চার জয়ের সঙ্গে একটি পরিত্যক্ত ম্যাচের ১ পয়েন্টও যোগ হওয়ায় তারা এখন ৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে তিন নম্বরে। যদিও এই অবস্থায় নিশ্চিন্ত হওয়ারও উপায় নেই কোনো। যে কারণে মাশরাফির মতো দূরের ভাবনায় এখনই ডুবে যাচ্ছেন না মাহমুদ উল্লাহও, ‘পয়েন্ট টেবিলটা এখন খুবই জমজমাট দেখাচ্ছে। আমার কাছে এখন প্রতিটি ম্যাচকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। তাই ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করাটাই ভালো। ’

সেই হিসাবে আপাতত রংপুর বাধা পেরোনোর চিন্তাই প্রাধান্য পাচ্ছে তাঁর কাছে। বিশেষ করে গেইল-ম্যাককালাম জুটির কথাও ভাবতে হচ্ছে। তবে সব কিছুর ওপরে একটিই সমাধানসূত্র জানা আছে তাঁর, ‘রংপুরকে হারাতে হলে আমাদের নিজেদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। ’ খুলনা টাইটানসের মতো করে ভাবছে রংপুর শিবিরও। দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসা রুবেল বলে গেলেন, ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলব। প্রতিটি ম্যাচই আমরা জেতার জন্য নামব। সামনে দলের অবস্থান কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনই চিন্তা করছি না। ’

চিন্তা না করলেও চিন্তা করার মতো জায়গায় অন্তত তাঁরা আছে। কিন্তু এই পর্বের স্বাগতিক চিটাগং ভাইকিংস সেই অবস্থায়ও নেই। ৬ ম্যাচে মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলানিতে। নিজেদের মাঠে তাদের ভাগ্য ফেরে কিনা, ভাইকিংদের ঘিরে আপাতত এটুকু কৌতূহলই অবশিষ্ট আছে। আজ সন্ধ্যার ম্যাচে ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে থাকা সিলেট সিক্সার্সের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। জিতলে ফেরার সুযোগ তৈরি হতেও পারে। আবার প্রথম তিন ম্যাচ জেতার পর হারের বৃত্তে ঢুকে পড়া সিলেটের জন্যও জয়টা কম জরুরি নয়। সেরা চারে যাওয়ার লড়াইয়ে তো তারা এখনো ভালোভাবেই আছে। অবশ্য নিজেদের সবশেষ ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জেতার পর রংপুর-খুলনার ম্যাচকে ঘিরেই আকর্ষণটা সবচেয়ে বেশি। যে ম্যাচে ‘ওস্তাদ’রা যেমন আছেন, তেমনি আছেন শেষের ঝলকে ম্যাচ জেতানোর নায়করাও!


মন্তব্য