kalerkantho


চ্যালেঞ্জকে এখন স্বাগতই জানাচ্ছেন তাঁরা

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চ্যালেঞ্জকে এখন স্বাগতই জানাচ্ছেন তাঁরা

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : অনুশীলনের পর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রীতিমতো এক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সম্মেলনই বসে গেল যেন! রাজশাহী কিংসের ড্যারেন সামি ও লেন্ডল সিমন্সের সঙ্গে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ডোয়াইন আর ড্যারেন ব্রাভো। প্রত্যেকের হাতে ধরা কিছু লিখে আনা একটি করে কাগজ।

কাছে যেতেই বোঝা গেল যাঁর যাঁর কাগজে লিখে আনা একেকটি তালিকা নিয়ে তাঁদের নিজেদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক। বিতর্ক সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশ নিয়ে। পরে অবশ্য ড্যারেন ব্রাভোর সঙ্গে বাকি সবাই একটি বিষয়ে একমতও হয়ে গেলেন, ‘তোমরা যে যেভাবেই একাদশ করো না কেন, ফাস্ট বোলিং জুটি হিসেবে ম্যালকম মার্শাল আর ওয়াসিম আকরামকে রাখতেই হবে। ’

ধরুন এ রকম একটি আলোচনাই যদি হতো চলতি বিপিএলের সিকিভাগ পেরিয়ে যাওয়ার পর, সেই একাদশে স্থানীয় ক্রিকেটারদের কারো ঠাঁই হওয়া নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে। নবাগত সিলেট সিক্সার্স থেকে শুরু করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস কিংবা রংপুর রাইডার্স, প্রতিটি দলেরই প্রাণভোমরা হয়ে উঠছিলেন বিদেশিরা। তবে টুর্নামেন্ট যখন এখন প্রায় মাঝপথ পেরিয়ে যাচ্ছে, তখন স্থানীয় ক্রিকেটাররাও নিজ নিজ দলকে জেতানোর ক্ষেত্রে রাখছেন অগ্রণী ভূমিকা। দেশি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সও ডানা মেলতে শুরু করায় একাদশে পাঁচ বিদেশি খেলানোর নিয়ম নিয়ে পাল্টাতে শুরু করেছে দৃষ্টিভঙ্গিও।

উঁচু দরের বিদেশি ক্রিকেটারদের ভিড়ে পাল্লা দিয়ে পারফরম করার প্রতিযোগিতায় যে উতরে যেতে শুরু করেছেন স্থানীয় ক্রিকেটাররাও। এমনকি দলকে ম্যাচ জিতিয়ে আলোচনায় চলে এসেছেন প্রচারের আলোর বাইরের থাকা কেউ কেউও।

এঁদের অন্যতম খুলনা টাইটান্সের আরিফুল হক। ঢাকায় রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে তাঁর মাত্র ১৯ বলে খেলা অপরাজিত ৪৩ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংসটির প্রশংসা এখনো মুখে মুখে। কুমিল্লার অধিনায়ক তামিম ইকবাল গতকালও আরিফুলের ইনিংসটির প্রসঙ্গ টানলেন, ‘আপনারা যদি আরিফুলের ইনিংসটি দেখেন, সেটি দুর্দান্ত ছিল। এ রকম ইনিংস যদি প্রতি ম্যাচে বা প্রতি দুই ম্যাচে হয়, আমাদের ক্রিকেটের জন্য ভালো। ’

এ রকম ইনিংসের কারণেই শুরুতে পাঁচ বিদেশি খেলানোর নিয়মের বিপক্ষে থাকা অনেকে এখন এই চ্যালেঞ্জকে স্বাগতই জানাচ্ছেন। এঁদেরই অন্যতম রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলছিলেন, ‘এখন তো মনে হচ্ছে এই নিয়মটায় ভালোই হয়েছে। আমাদের ক্রিকেটারদের একটি পরীক্ষা হচ্ছে এবং সে পরীক্ষায় ওরা পাসও করছে। বিদেশিদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া পারফরম্যান্স ওদের আরো আত্মবিশ্বাসীও করে তুলছে। ’ ওদিকে রাজশাহীর বিপক্ষে জয়ে আরিফুলের দুর্দান্ত ইনিংসটি সর্বত্র প্রশংসিত হওয়ায় কিছুটা আড়াল হয়েছে খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর ৪৪ বলে খেলা ৫৬ রানের ইনিংসটিও।

যে ইনিংসেই রচিত হয়েছিল খুলনার জয়ের ভিত। একই ম্যাচে দুই স্থানীয় ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সে পাওয়া জয় নিয়ে মাহমুদ উল্লাহর কণ্ঠ আরো উচ্ছ্বসিত শোনাল এ জন্য, ‘প্রথম দিকে হয়তো স্থানীয় ক্রিকেটারদের একটু সমস্যা হয়েছে, যেহেতু পাঁচজন করে বিদেশি খেলছে। তবে আস্তে আস্তে অনেকেই ভালো পারফরম করতে শুরু করেছে। দেশি বোলাররা বেশ ভালো করছে, ব্যাটসম্যানরাও রানে আছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। ’ একই কারণে পাঁচ বিদেশি খেলানোর নিয়মও এখন আর অত নেতিবাচক মনে হচ্ছে না তাঁর, ‘আমার মনে হয় তাঁদের (বিদেশিদের) বিপক্ষে খেলতে পারাটা ভালো একটি চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়াটাই ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের কাজ। পাঁচজন বিদেশি খেলানোতে একদিক দিয়ে ভালোই হচ্ছে, ভিন্ন একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি আমরা। তবে দেশি ক্রিকেটারদের পারফরম করাও জরুরি। আমার মনে হয় দেশি ক্রিকেটাররা সবাই এখন টাচে আছে। এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য ভালো। ’

তামিম ইকবাল অবশ্য এখনো চারজন বিদেশি খেলানোর পক্ষে। তাই বলে এখন আর ওই নিয়মকে অজুহাত বানানোর পক্ষেও নন। তাঁর কথা, ‘একজন বাংলাদেশি হিসেবে বলব, আমরা যতটা ভালো খেলেছি, তার চেয়ে ভালো করা উচিত ছিল। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে বারবার পাঁচজন বিদেশির কথা এসেই যায়। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, পাঁচ বিদেশির কারণে যেসব স্থানীয় ক্রিকেটার ওপরে ব্যাটিং করতে পারত, ওদের এখন নিচে ব্যাটিং করতে হচ্ছে। এটিকে আমি অজুহাত হিসেবে দেখাতে চাই না, কারণ আমার মনে হয় যারা যেমন খেলেছে, তার চেয়ে আরো ভালো খেলা উচিত ছিল। ’ সেই সঙ্গে এ কথাও জুড়তে ভুললেন না তামিম, ‘এ ক্ষেত্রে আমি আমার কথা বলতে পারি। আমি নিজের কাছে আরো ভালো কিছু আশা করি, যা আমি করতে পারিনি। স্থানীয়দের যে পারফরম্যান্স হয়েছে, তাতে খুশি হওয়ার কিছু নেই। তবে শুরুটা যেমন ছিল, এখন তার চেয়ে ভালো হচ্ছে। আশা করি বিপিএলের বাকি অংশে স্থানীয়রা আরো ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দেবে। ’

দিলে বিপিএলের সেরা একাদশে স্থানীয়দের জায়গা নিয়েও তর্ক হবে না আর। হয়তো পাঁচ বিদেশি খেলানোর নিয়ম নিয়েও তখন আর উচ্চবাচ্য করবেন না কেউ। চলতি বিপিএলকে এখন পরীক্ষায় উতরানোর সেই চ্যালেঞ্জ জেতার অপেক্ষায়ই রেখেছেন স্থানীয় ক্রিকেটাররা।


মন্তব্য