kalerkantho


যেখানে তৃপ্ত ধারাবাহিক মাহমুদ উল্লাহ

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যেখানে তৃপ্ত ধারাবাহিক মাহমুদ উল্লাহ

সংবাদ সম্মেলন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে তাঁর মনে পড়ল, একটা বিষয়ে নিশ্চিত হওয়াটা খুব জরুরি। তাই কাছে পাওয়া একজনকেই মাহমুদ উল্লাহ জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘আচ্ছা, রবি বোপারা কি এগিয়ে গেল নাকি?’

উত্তরে জানলেন রংপুর রাইডার্সের এই ইংলিশ ক্রিকেটার সত্যিই তাঁর চেয়ে এগিয়ে গেছেন।

দল ৯ রানে হারলেও ৪৪ বলে ৫৯ রান করা বোপারার ব্যাটে রংপুরের জয়ের আশা টিকে ছিল প্রায় শেষ পর্যন্ত। ম্যাচের শেষ বলে আউট হয়েছেন তিনি। দলের হারের হতাশার মধ্যেও চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএলে) তাঁর ব্যাটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের উজ্জ্বল দীপ্তি। ৭ ম্যাচ খেলা বোপারাই যে এখন এই আসরের শীর্ষ রান সংগ্রাহক। তাঁর নামের পাশে ২৭৮ রান। আবার ব্যাটিং গড়ের (৬৯.৫০) শীর্ষেও তিনিই।

অবশ্য রংপুর রাইডার্স-খুলনা টাইটানস ম্যাচের একটা সময় পর্যন্ত ব্যাটিংয়ের শীর্ষ নামটি কিন্তু ছিল মাহমুদ উল্লাহরই। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ঠিক আগের ম্যাচেই ৫৬ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ে রেখেছিলেন বিশাল ভূমিকা। রংপুরের বিপক্ষে পাওয়া তাঁর টানা দ্বিতীয় ফিফটি তাঁকে কয়েক ঘণ্টার জন্য রাখে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকার এক নম্বরেও।

৩৬ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় সাজানো কালকের ৫৯ রানের ইনিংসটি যোগ হয়ে ৭ ম্যাচে ৪১.৩৩ গড়ে ২৪৮ রান তাঁর। স্ট্রাইক রেটও (১৩২.৬২) বোপারার (১২৩) চেয়ে বেশি।

নিশ্চিত যে এই আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের ব্যাটনটা আরো বেশ কয়েকবার অদল-বদল হবে। তাতে মাহমুদ উল্লাহ কতটা এগোবেন বা পেছাবেন, তা জানতে অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে। তবে এটাও জেনে রাখুন, বোপারার চেয়ে পিছিয়ে পড়ার দিনেই আবার আরেক ক্ষেত্রে শীর্ষারোহণ করেছেন মাহমুদ উল্লাহ। বিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যানও বনে গেছেন একই দিনে। এত দিন এই জায়গাটায় এক নম্বরে থাকা মুশফিকুর রহিমের (৫৩ ম্যাচে ৩৪.৯১ গড়ে ১২৯২ রান) চেয়ে সামান্য পিছিয়ে থেকেই কালকের ম্যাচটি শুরু করেছিলেন তিনি।

খুলনা টাইটানসের অধিনায়ক মুশফিককে টপকে যাওয়াও উদ্‌যাপন করলেন জয় দিয়েই। ৫৮ ম্যাচে ২৯.০৪ গড়ে ১৩৩৬ রান করা মাহমুদ উল্লাহর আনন্দকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও। যদিও তিনি নিজে দলের জন্য অবদান রাখতে পারার ব্যাপারটিকেই গুরুত্ব দিলেন সবচেয়ে বেশি, ‘দলের জন্য অবদান রাখতে পারছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। ’ তাই বলে নিজের পারফরম্যান্স তাঁকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, সেটি নিয়ে সচেতনতাও কম নয়। তা না হলে কি আর জানতে চাইতেন যে বোপারা এগিয়ে গেলেন কি না!

আর বিবেচ্য যদি হয় বিপিএলের গত আসরের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা, তাহলে এখানেও সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নামটি মাহমুদ উল্লাহরই। গতবার খুলনা চূড়ান্ত সাফল্য না পেলেও ব্যাটে-বলে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলকে যেমন সেরা চারে রেখেছিল, তেমনি নিজেও ভেসেছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় হওয়ার স্বীকৃতির আনন্দে। ১৪ ম্যাচে ৩৩ গড়ে করেছিলেন তামিম ইকবালের (৪৭৬) পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯৬ রান। সেই সঙ্গে বল হাতে অফস্পিনেও একাধিক ম্যাচে জয়-ভাগ্য নির্ধারণ করা মাহমুদ উল্লাহ নিয়েছিলেন ১০ উইকেট।

এই আসরেও গত বিপিএলের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা। যে ধারাবাহিকতায় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে গতবার ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়াও, ‘যখন কোনো স্বীকৃতি জুটবে, তখন সেটি অবশ্যই পরেরবার অনুপ্রাণিত করবে আপনাকে। আমার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি ভিন্ন কিছু নয়। অবশ্য আমাদের গতবার আর এবারের দল এক নয়। যে কারণে এই আসরে চ্যালেঞ্জের জায়গাটিও ভিন্ন। ’ যে ভিন্নতা অনন্য ধারাবাহিক মাহমুদ উল্লাহকে তৃপ্তিও দিতে পারছে, ‘দেখুন, অস্বীকার করার উপায় নেই যে পাঁচজন বিদেশি খেলানোর নিয়মের কারণে স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারফরম করার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে অনেকটাই। এ জন্যই বলছিলাম এবারের চ্যালেঞ্জ একেবারেই আলাদা। এই আসরে পারফরম করার অনুভূতিও তাই আলাদা। ’

পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে নেওয়া মাহমুদ উল্লাহর তৃপ্তির জায়গাও এটিই!


মন্তব্য