kalerkantho


ক্রিস গেইল খেলছেন

ফাইনালেও নির্ভার মাশরাফি

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ফাইনালেও নির্ভার মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : একটি দল সবার আগে নিশ্চিত করেছিল কোয়ালিফাইয়ার। অন্য দলটি গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই জিতেছে ‘আইসিইউ’তে জীবনযুদ্ধে লড়াই করে। অথচ কি আশ্চর্য, আয়েশে ফাইনালের পথে ধাবিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস গতরাতে বিদায় নিল শিরোপা রেস থেকে আর ধুঁকতে থাকা রংপুর রাইডার্স নক আউটের দুই ম্যাচ দাপটে জিতে ফাইনালে! তাই নবরূপের রংপুরকে বিপজ্জনক বলে গেলেন ভিক্টোরিয়ানসের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ওদিকে ফাইনালে ওঠা রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রতিক্রিয়ায় উত্তাল ঢেউ নেই। বরং আজকের ফাইনালে ক্রিস গেইল খেলছেন—এই সুখবর দেওয়ার সময়ই সবচেয়ে বেশি উত্ফুল্ল দেখাল তাঁকে।

গোড়ালিতে চোট পাওয়ায় গতকাল ফিল্ডিংয়েই নামেননি রংপুরের ব্যাটিং ‘ট্রাম্পকার্ড’ ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল। তবে ফাইনালের মহারণে এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ানের খেলার সম্ভাবনা নিশ্চিত করে মাশরাফি জানিয়েছেন, ‘কাল (আজ) একটু দৌড়াদৌড়ি করলেই বোঝা যাবে। তবে হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে না।’ এবারের আসরে ক্রিস গেইল কি আর দৌড়াচ্ছেন, হেঁটে প্রান্ত বদল আর সীমানা পার করা শটেই এক সেঞ্চুরির সঙ্গে এক জোড়া ফিফটিও করেছেন। কাল ম্যাচ শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের পর চিরায়ত ভঙ্গিতে রংপুরের অধিনায়ক জানিয়ে গেলেন, ‘খেলবে না মানে, অবশ্যই খেলবে!’

গেইল খেলছেন, সঙ্গে গতরাতে বিধ্বংসী ব্যাট চালিয়ে নিশ্চিতভাবেই অধিনায়কের মনে প্রশান্তির প্রলেপ দিয়েছেন জনসন চার্লস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এই ত্রয়ী যদি ফাইনালের মঞ্চেও ‘খেলে দেন’, তাহলে তো বিপিএলের পঞ্চম আসরে চতুর্থ শিরোপা জেতা হয়ে যাবে মাশরাফির! শুনে প্রশান্তির হাসি তাঁর ঠোঁটে, ‘তাই তো! আসলে ওসব নিয়ে ভাবছি না। গ্রুপ পর্বের একটা পর্যায়ে মনে হয়নি ফাইনাল খেলব। সত্যি বলতে কি, নক আউট পর্বের চারটি দলের মধ্যে আমরাই সবচেয়ে পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই পর্বে দলের নামি ব্যাটসম্যানরা অনেকটা একা হাতেই ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছে। গেইলের পর এই ম্যাচে চার্লির (চার্লস) সঙ্গে ম্যাককালামও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে।’

ঠিক উল্টো পরিণতি হয়েছে কুমিল্লার। মাশরাফি নির্দ্বিধায় রায় দেন, ‘গ্রুপ পর্বে নিঃসন্দেহে সেরা দল ভিক্টোরিয়ানস। ওদের আর ঢাকার ব্যালান্সের সঙ্গে অন্যদের তুলনা হয় না।’ বিষাদগ্রস্ত তামিম ইকবাল তাই তাঁর দলের জন্য গর্বিত, ‘এই নক আউট পর্বের আগে আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমাদের দলের স্থানীয় তরুণদের পারফরম্যান্সই সবচেয়ে ভালো। কিন্তু ভুল সময়ে দুটি ম্যাচ হেরে ফাইনালের আগেই বিদায় নিলাম। এটা হতাশার।’ সে হতাশা ঠিকরে পড়ছিল ভিক্টোরিয়ানস অধিনায়কের অভিব্যক্তিতে। তবে মুষড়ে না পড়ে আগামী মৌসুমে আরো দাপটে ফিরে আশার কথা জানিয়েছেন তামিম, ‘আমাদের দলের মালিক অসাধারণ সমর্থন দিয়েছেন, যা চেয়েছি তা-ই পেয়েছি। আমার দলের কোচ এই মুহূর্তে দেশের সেরা। তরুণরা এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের কথাই বলব যে, আমি তাদের জন্য গর্বিত।’ অনুতাপও আছে তামিমের, ‘আমার তিরিশ রানের ইনিংসগুলো যদি ৬০/৭০ রানের হতো, তাহলে হয়তো আমরা ফাইনালে থাকতাম। আজকের হারের দায় তাই আমি নিজের ওপর নিচ্ছি।’

ফাইনালে ওঠা মাশরাফির মনে অনুতাপ থাকার কোনো কারণ নেই, সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত তিনিও, ‘আমরা ধীরে ধীরে ভালো খেলছি। সবাই কনট্রিবিউট করছে। মিঠুন খুব ভালো ব্যাটিং করছে। সোহাগ গাজী অসাধারণ বোলিং করছে। এ ছাড়া রুবেল, (নাজমুল) অপুও দারুণ বোলিং করছে। একটা দলের তিন-চারজন যদি প্রতিটি ম্যাচেই ভালো বোলিং করে, তাহলে কাজটা সহজ হয়ে যায়।’

ফাইনালেও কি এই ধারা অব্যাহত থাকবে? পূর্বাভাস দেওয়ার ঝুঁকি কেন নেবেন তিনি? বরং প্রতিপক্ষ ঢাকা ডায়নামাইটস সম্পর্কে যথেষ্ট শ্রদ্ধা মাশরাফির কণ্ঠে, ‘আমার কাছে মনে হয় ঢাকার দলটা টুর্নামেন্টেরই সেরা।’ সেই সেরা দলের বিপক্ষে শেষ বাউটে নামার আগেও ধীরস্থির রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক, ‘ফাইনালে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার উপায় নেই। তবে আমরা চাপ নিচ্ছি না। ছেলেদের আগেও যেটা বলেছি, সেটাই বলব যেন নিজের খেলাটা উপভোগ করে। আমরা তো আর ফাইনাল খেলবই—এতটা ভেবে টুর্নামেন্ট শুরু করিনি!’

ফ্ল্যাশব্যাকে মাশরাফির ওই ‘দূরের ভাবনা’র সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার লোক ফ্র্যাঞ্চাইজি পর্যায়েও খুঁজে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। তবু অনিশ্চয়তার ক্রিকেট ফাইনালে টুর্নামেন্ট শুরুর দিককার ‘হেভিওয়েট’ ঢাকার পাশে তুলে এনেছে রংপুরকে।


মন্তব্য