kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

জাতীয় দলে খেলতেই আমি এসেছি রাগবিতে

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জাতীয় দলে খেলতেই আমি এসেছি রাগবিতে

শেষ হয়েছে ওয়ালটন জাতীয় মহিলা রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ। ফাইনালে কিশোরগঞ্জকে ৫-০ পয়েন্টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নড়াইল জেলা দল। সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন নিশা আক্তার, যিনি আগে খেলতেন হ্যান্ডবল। এখন দারুণ আসক্তি তাঁর রাগবিতে। নতুন খেলার প্রতি তার আকর্ষণ এবং এই খেলাটির হাল-হকিকত নিয়ে নড়াইলের এই খেলোয়াড় কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে।

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : আপনার নড়াইল জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আপনি সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। অভিনন্দন।

নিশা আক্তার : ফাইনালে আমরা কিশোরগঞ্জকে হারিয়েছি। প্রতিপক্ষ খুব ভালো দল। আমি সাধারণত রানার হিসেবে খেললেও ফাইনালে একই সঙ্গে রানার এবং ডিফেন্স সামলানোর কাজও করেছি। এ কারণেই হয়তো আমি সেরা হয়েছি। বলতে গেলে শিরোপাটা আমাদের পুরো টিম গেমের ফল।

প্রশ্ন : আপনি কী নড়াইলে রাগবি খেলেন?

নিশা : আমি থাকি ঢাকায়। রাগবি খেলাটা নতুন এ দেশে। ১২টা দল এই টুর্নামেন্টে খেলেছে, প্রতি দলে বাইরের খেলোয়াড় আছে। জেলাভিত্তিক খেলা হয় না বলে এভাবে করেই মহিলা রাগবির প্রচলন শুরু হচ্ছে। খেলাটি এখনো ঢাকাকেন্দ্রিক হলেও আমাদের ফেডারেশন বিভিন্ন জেলায় গিয়ে এটা চালু করার ব্যবস্থা করছে। আমার জানা মতে, কিছুদিন আগে সিলেটে স্কুল পর্যায়ে রাগবির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন : এই খেলাটির প্রতি আপনার আকর্ষণ কী করে?

নিশা : আমি খেলতাম হ্যান্ডবল। ২০১৪ সালে প্রথম আমি রাগবি খেলা সম্পর্কে জানতে পারি। খেলাটা দেখে আমার ভালো লেগে যায়। এই খেলার প্রতি আকর্ষণের আরেকটা কারণ হলো, এখানে আমার জাতীয় দলে খেলার সুযোগ আছে। মহিলা রাগবির বয়স মাত্র দুই বছর, এখনো জাতীয় দল তৈরি হয়নি। দল হলে আমার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আমরা আশা করছি, আগামী বছরের মধ্যে মেয়েদের দল দাঁড়িয়ে যাবে।

প্রশ্ন : কিন্তু হ্যান্ডবলের চেয়ে এই খেলাটা তো কঠিন, অনেক বেশি শারীরিক...

নিশা : এটা অনেক শারীরিক খেলা; কিন্তু আমি খুব উপভোগ করি। এই খেলায় ইনজ্যুরড হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে ছোট থেকে এ খেলার ট্রেনিং করা গেলে অবশ্যই ভালো করা সম্ভব। খেলাটি বিস্তারের জন্য বাচ্চাদের মধ্যেই আগ্রহ তৈরি করতে হবে। এখানেও শুধু লড়াই নয়, টেকনিক ও দক্ষতা দেখানোর সুযোগ আছে।

প্রশ্ন : রাগবি খেলায় পারিবারিকভাবে সম্মতি আছে?

নিশা : হ্যাঁ, আমি ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় খুব উৎসাহী। হ্যান্ডবল খেলেছি নিজের আনন্দে, তখনো আমার মা-বাবার সমর্থন পেয়েছি। এখন রাগবিতে এসেও সেই সমর্থন অব্যাহত আছে। খেলাকে খেলার মতো করে দেখতে হবে। ছেলেদের খেলা, মেয়েদের খেলা বলে কোনো ভাগ নেই। ইউরোপের মেয়েরা রাগবি খেলছে; কিন্তু তাদের তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না।



মন্তব্য