kalerkantho


পরেরবারের দল গোছানোও শুরু

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পরেরবারের দল গোছানোও শুরু

চ্যাম্পিয়নের হাসি : বিপিএলে বাজিমাত! পাঁচবারের চারটি ট্রফিই উঠেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার হাতে। গত পরশু পুরস্কার বিতরণীর পর নিজের চতুর্থ ট্রফি নিয়ে ড্রেসিংরুমে এবারের কোচ টম মুডিকে ফ্রেমবন্দি করেছেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক। পাশের ছবি নিজেই কথা বলছে, তিনি ফাইনালের সেঞ্চুরিয়ান ক্রিস গেইল। ছবি : টুইটার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এবার দলের সঠিক ভারসাম্যের খোঁজ টুর্নামেন্টজুড়েই চলেছে রংপুর রাইডার্সের। বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য সেটি শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়ার খুব দরকারও হয়নি। ক্রিস গেইল, জনসন চার্লস এবং ক্রিস গেইল—এই ক্রমে আসা তিন তিনটি দানবীয় ইনিংসেই এলিমিনেটর থেকে শুরু করে ফাইনালের বাধা পেরিয়েছে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়নরা। দল গোছানোর কাজ একটু বিলম্বে শুরুর জন্য টুর্নামেন্টের ডাবল লিগভিত্তিক পর্বে ভুগতে হলেও শেষ ধাপে এসে বাজিমাত তাদের। তাই বলে প্রতিবারই তো আর এভাবে সব হয়ে যাবে না। ট্রফি ধরে রাখতে হলে দলটাও জমাট হওয়া চাই।

পরেরবারের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার কাজও তাই এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দলটির প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেকের বক্তব্য অনুযায়ী সেটি শুরু হয়ে গেছে রংপুর রাইডার্স ট্রফি জেতার অনেক আগে থেকেই, ‘এটা ঠিক যে এবার আমরা যখন দল গড়তে নামি, তত দিনে অনেক ভালো খেলোয়াড়কেই বিভিন্ন দল নিশ্চিত করে ফেলেছে। সেই অভিজ্ঞতায় পরেরবারের প্রস্তুতি আমরা এই টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি থেকেই শুরু করে দিয়েছি।’ কোচ টম মুডিকে নিয়ে চিন্তা নেই। তাঁকে আনাই হয়েছে তিন বছরের চুক্তিতে। তবে মাঠে যাঁরা খেলেছেন, তাঁদের কারো সঙ্গেই চুক্তি এক বছরের বেশি নয়।

অনেকের সঙ্গে সেটিই এবার দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা। বিশেষ করে দলের সাফল্যে যাঁরা হয়ে উঠেছিলেন ‘প্রাণভোমরা’; পরেরবার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানও তাঁদের নিয়েই শুরু করতে চায় এবারই বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানায় আসা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ২০১৮-র বিপিএলেও রংপুর রাইডার্সের হয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজাকেই টসে দেখা যাওয়ার কথা, ‘মাশরাফিকে আমরা রাখতে ইচ্ছুক, যদি সে খেলতে চায়।’ আর একা হাতে বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে এলিমিনেটর ও ফাইনাল ভাগ্য গড়ে দেওয়া ক্রিস গেইলও পরের বিপিএল মাতাতে চান রংপুর রাইডার্সের হয়েই, ‘গেইলকে এক বছরের চুক্তিতেই আনা হয়েছিল। আগামী বছরের ব্যাপারেও তাঁর সঙ্গে আমাদের মৌখিকভাবে কথাবার্তা সম্পন্ন হয়ে আছে। তিনিও খেলতে ইচ্ছুক। আমরা তো ইচ্ছুকই।’

পরের বিপিএলের জন্য এখনই আটঘাট বেঁধে নেমে যাওয়াকে বড্ড জরুরি বলেও মনে করেন ইশতিয়াক, ‘ট্রফি জিতে দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। একটা কথা আছে না যে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে সেটি রক্ষা করা বেশি কঠিন। আমাদের ক্ষেত্রেও এখন ব্যাপারটি তাই। শিরোপা তো ধরেও রাখতে হবে।’ আগামীবার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে অন্য রংপুর রাইডার্সকে দেখা যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি, ‘পরেরবার অবশ্যই আরো গোছানো দল হবে। এবার দলের ভারসাম্য নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। পরেরবার সেই ভারসাম্যও খুব ভালো হবে আশা করি।’

ভালো দল গড়ার নিশ্চয়তা দিলেও দলের গায়ে ‘বড় দল’-এর তকমাও জুড়ে নিতে চান না রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী। তাঁর যুক্তি, ‘বড় দল দিয়ে তো ট্রফি হয় না। ঢাকা ও কুমিল্লা আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল ছিল। কিন্তু রেজাল্ট তো পায়নি।’ বড় দল দিয়ে ট্রফি না হলে কিসে হয়? ইশতিয়াকের ব্যাখ্যা, ‘পুরো দলটির এক সুতোয় গেঁথে থাকার ব্যাপারটি ছিল। সঠিক খেলোয়াড় সঠিক সময়ে পারফরমও করেছে। সেই সঙ্গে সহায় ছিল ভাগ্য। মাশরাফির নেতৃত্বের কথাও বলতে হয়। সব কিছু মিলিয়েই আমাদের সাফল্য।’ 

এই সাফল্যে সাধারণ মানুষের শুভকামনাও ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্বাস ইশতিয়াকের, ‘অনেক মানুষের দোয়ায় রংপুর ট্রফি জিতেছে। মালিকানা বদলের আগে দলটির ইমেজ সংকট ছিল। আমরা সেটি পুনরুদ্ধার করেছি। কিছু একটা করে দেখানোর বাসনা আমাদের মধ্যে শুরু থেকেই খুব তীব্র ছিল। সেটি শুধু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই না, আরো অনেক কিছুর জন্যও।’ এর সবিস্তার বর্ণনাটা এ রকম, ‘আমরা টুর্নামেন্ট শুরুর বেশ আগে থেকেই মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছি। যা অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি করেনি। বন্যা, মঙ্গা থেকে শুরু করে এতিমখানা ও মাদরাসা—কোথায় যাইনি আমরা। আপনারা এর অনেক কিছু দেখেনওনি। প্রচারের অন্তরালে থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা অনেক কিছু করেছি। চেষ্টা করেছি মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার। সেই মানুষের প্রার্থনারও তো একটা শক্তি আছে।’

সেই শক্তির সঙ্গে গেইলের মতো দানবদের শক্তি যোগ হয়েই ট্রফি উঠেছে হাতে। ট্রফি ধরে রাখতে সেই জোর আগামীবার আরো বাড়াতে হবে তো! রংপুর রাইডার্স তাই আগে থেকেই মাঠে!


মন্তব্য