kalerkantho


‘বিরুষ্কা’ ছাপিয়ে রোহিতের কীর্তি

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘বিরুষ্কা’ ছাপিয়ে রোহিতের কীর্তি

গ্যালারিতে ঋতিকার ছলছল চোখ খুঁজে নেয় ক্যামেরা। ঠিক আগের ফ্রেমেই স্টার স্পোর্টসের পর্দায় দেখে গেছে বিয়ের আংটিতে চুমু খাচ্ছেন রোহিত শর্মা। বিবাহবার্ষিকীর দিনে, ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরি করে প্রিয়তমা স্ত্রীকে উড়ন্ত চুম্বন ছুড়ে দেওয়ার মতো ভাগ্য ক’জনার হয়? রোহিত সেই বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন।

ভারতীয় পত্রপত্রিকায় কালকের দিনজুড়ে শুধুই ‘বিরুষ্কা’! ইতালিতে রূপকথার বিয়ে, মুম্বাই ও দিল্লিতে দুটি গ্র্যান্ড রিসেপশন আর মধুচন্দ্রিমা দক্ষিণ আফ্রিকায়। সব্যসাচীর নকশায় শেরওয়ানি আর কোটি টাকার হীরের ওয়েডিং রিং। এসবের ভেতর থেকে ক্রিকেটে মন ফেরাতে এমন একটা কিছুই তো দরকার ছিল মাঠে! কোহলির অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের দায়িত্ব এই সিরিজে রোহিত শর্মার কাঁধে। ধর্মশালায় স্মরণকালের অন্যতম বাজে ব্যাটিংয়ের নজির গড়ে ভারতের হার, সমর্থকদের মনে হায় বিরাট, নেই বিরাট হাহাকার! চণ্ডীগড়ে সেসব উধাও রোহিতের ব্যাটে। টস হারলেন রোহিত, থিসারা পেরেরা সাধলেন ব্যাট করার জন্য। এরপর যেটা হলো, তা নিয়ে নিশ্চয়ই বাকি জীবনভর আক্ষেপ করবেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক।

বাংলাদেশের দর্শকদের চোখ থেকে গেইল মুগ্ধতা এখনো কাটেনি। ২০ ওভারের ম্যাচে ১৮ ছক্কা দেখা চোখে অবশ্য রোহিতকে অতটা খুনে মনে হবে না! তবে ৫০ ওভারের ম্যাচে ১৩ বাউন্ডারি আর ১২ ছয়ের মার মোটেও নিরীহ কিছু নয়। শুরুতে যথারীতি সাবধানী রোহিত, সেঞ্চুরির পর বিধ্বংসী! শিখর ধাওয়ান আর রোহিতের উদ্বোধনী জুটিটা স্থায়ী হয় ২১ ওভার। তাতে ধাওয়ানই ছিলেন আক্রমণাত্মক। ৬৭ বলে ৬৮ রান করে ধাওয়ান বিদায় নেওয়ার সময় রোহিতের রান ৬৫ বলে ৫০। ৪০তম ওভারের তৃতীয় বলে আসে রোহিতের সেঞ্চুরি, ওভার শেষে ১১৬ বলে ১০১ রান রোহিতের। তখনো ডাবল সেঞ্চুরির ধারেকাছেও ছিলেন না মুম্বাইর এই ব্যাটসম্যান। হাত খুললেন সুরঙ্গা লাকমলের করা ম্যাচের ৪৪তম ওভারে ৪ ছক্কা মেরে। নুয়ান প্রদীপের পরের ওভারে আরো দুটি ছয়। ১৫০ রান হয়ে গেল ১৩৩ বলে! এরপর প্রদীপের আলো ক্রমশ কমিয়েছেন রোহিত, তাঁর ইনিংসের ১২ ছক্কার ছয়টিই এসেছে প্রদীপের বলে। ১০ ওভারে ১০৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য এই পেসার। সেঞ্চুরিকে ডাবলে তিনি পরিণত করেছেন মাত্র ৩৬ বলে!

শেষ ১২ বলের আগে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ১৭ রান দূরে ছিলেন রোহিত। প্রদীপের করা ৪৯তম ওভারটায় একটি ছক্কার সঙ্গে একটি সিঙ্গেলের বেশি যোগ করতে পারেননি। শেষ ওভারের প্রথম বলেই ছয় হাঁকিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছে চলে যান রোহিত। পরের বলে ডাবলস নিয়ে ১৯৯, তার পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে তিন ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডশৃঙ্গ স্পর্শ করেন রোহিত গুরুনাথ শর্মা।

২০১০ সালে শচীন টেন্ডুলকার কাঁটায় কাঁটায় ২০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। মাস্টার ব্লাস্টারই ওয়ানডের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মালিক। এরপর ‘বীরু’ বীরেন্দর শেবাগ ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ২১৯ রান। ২০১৩ ও ২০১৪-র নভেম্বরে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি ছিল রোহিত শর্মার; ইডেনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ২৬৪ রানের ইনিংসটা তো ওয়ানডেরই সর্বোচ্চ ইনিংস। ২০১৫ বিশ্বকাপে ক্রিস গেইল ও মার্টিন গাপটিলের ব্যাট থেকেও দেখা গেছে ডাবল সেঞ্চুরি, বছর দুয়েক বিরতির পর সেই রোহিতের ব্যাটেই ফের ওয়ানডের ডাবল। এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি সাতটি, করেছেন চারজন। অন্য কারো যেখানে একাধিকই নেই, সেখানে রোহিতের একারই তিনটি! সীমিত ওভারের খেলায় যাঁর তিনটি ডাবল, টেস্টে নিশ্চয়ই তাঁর প্রতিফলন থাকার কথা। মজার বিষয় টেস্টে রোহিতের কোনো ডাবল সেঞ্চুরি নেই, সেঞ্চুরিই মাত্র তিনটি।

রোহিতের ডাবল সেঞ্চুরির পাশাপাশি শ্রেয়াস আইয়ারের ৮৮ ও ধাওয়ানের ৬৮ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ৩৯২ রান তুলেছিল ভারত। এই বিশাল রান তাড়ার দুঃসাহস দেখায়নি শ্রীলঙ্কা, তাদের ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল সেই সুর। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ১৩২ বলে ১১১ রানে অপরাজিত থেকে একপাশ আগলেছেন। ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৫১ রানের বেশি করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা, হার তাই ১৪১ রানের। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতায় ভারত, ১৭ ডিসেম্বর শেষ ওয়ানডে বিশাখাপত্তনমে। ক্রিকইনফো


মন্তব্য