kalerkantho


অস্ট্রেলিয়ার এগিয়ে যাওয়ার লড়াই

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অস্ট্রেলিয়ার এগিয়ে যাওয়ার লড়াই

ক্রিকেটের প্রাচীনতম দ্বৈরথের বয়স হয়ে গেছে ১৩৫ বছর। ১৮৭৭ সালে, মেলবোর্নে; ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচের পর সংশ্লিষ্টরা ভাবেননি যে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বৈরিতা এ পর্যায়ে এসে ঠেকবে। ১৮৮২ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট জয় এবং স্পোর্টিং টাইমস পত্রিকার সম্পাদকীয়তে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটকে ‘মৃত এবং সমাহিত’ ঘোষণার পরই যেন জ্বলে ওঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মশাল, যেটা এখনো সগৌরবে জাজ্বল্যমান! কাছাকাছি দেড় শ বছরের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে দুই দলেই ৩২-৩২ সমতা, অর্থাৎ ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া দুই দলই ৩২ বার করে টেস্ট সিরিজ জিতেছে। সেই সমতা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই অস্ট্রেলিয়ার। ইতিহাসের খেরোখাতায় ৩২-৩২ সমতা, চলমান সিরিজে প্রথম দুটিতে জিতে ২-০তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। আজ থেকে শুরু হওয়া টেস্টটা জিতে সিরিজ ৩-০ করে ফেলার মানেই হচ্ছে সর্বকালের পরিসংখ্যানটাও ৩৩-৩২ করে ফেলা!

অ্যাডিলেডের দিন-রাতের টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসটা ব্যাটিং ব্যর্থতার মুখেই পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তৈরি হয়েছিল ইংল্যান্ডের জেতার সুযোগও। ফলোঅন না করিয়ে স্টিভেন স্মিথ যে খানিকটা উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছিলেন, ইংল্যান্ডের এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরে খুব সম্ভবত সেটাই সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মুহূর্ত! এসব দেখে সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের বক্তব্য, ‘আমার মনে হয় ওরা দলে অনেক পরিবর্তন আনবে, কারণ এত দিন ওরা যেভাবে খেলেছে তাতে একটুও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠেনি।’ বেছে বেছে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারের দুর্বলতা বের করেছেন পন্টিং, ‘স্টোনম্যানকে ভালোই দেখাচ্ছে, তাকে ২২ গজে ভালোই দেখায়। সমস্যা হচ্ছে ভালো দেখাতে দেখাতেই আচমকা সে আউট হয়ে যায়। ভিনসেরও একই অবস্থা। একটা-দুটো দৃষ্টিনন্দন শট খেলে কিন্তু টিকে থাকতে পারে না। মালান ক্রিজে সময় কাটায় বটে, কিন্তু বোঝা যায় ওর তরফ থেকে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। মঈনকে বল হাতে অকার্যকর দেখাচ্ছে আর লিওন ওকে পেয়ে বসেছে।’ পন্টিং যদিও বলেছেন দলে অবশ্যই পরিবর্তন আনা দরকার, সবাইকে অবাক করে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই আজ মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। শুধু  পরিবর্তন হচ্ছে জনি বেয়ারস্টোর ব্যাটিং অর্ডার। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের সারিতে বৈচিত্র্য আনার জন্যই ছয়ে নামবেন বেয়ারস্টো, মঈন নামবেন সাতে।

পরিবর্তন আসন্ন অস্ট্রেলিয়া দলে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নেওয়া হবে আজ সকালেই, উইকেট দেখার পর। দলে ডাকা হয়েছে মিচেল মার্শকে, একাদশে তাঁরই ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা জোরালো। তাঁকে জায়গা করে দিতে বসতে হতে পারে পিটার হ্যান্ডসকম্বকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটিংটা বেশ ভালো করছেন জিওফ মার্শের ছোট ছেলে, ডান হাতি মিডিয়াম পেসেও দলের বোলিং আক্রমণে যোগ করবেন বৈচিত্র্য।

গোলাপি বল থেকে ফের লাল বলে ফেরা। টি-ডিনার সূচির বদলে ফের চিরায়ত লাঞ্চ-টির সূচিতে ফেরা। ভরদুপুরের বদলে সাতসকালেই মাঠে নেমে যাওয়া। সবই হবে ওয়াকায়, এবং খুব সম্ভব শেষবারের মতো। অন্তত অ্যাশেজের শেষ টেস্ট তো বটেই! আগামী বছর থেকেই ইংল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে এবং বিগ ব্যাশ লিগের সব ম্যাচ হবে পার্থের নতুন স্টেডিয়ামে। ওয়াকা হয়ে পড়বে স্মৃতি। স্মিথ এবং রুটের ওয়াকাকে ঘিরে স্মৃতিটা কেমন হবে, তার ঝলক পাওয়া যাবে প্রথম দিনেই। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া


মন্তব্য