kalerkantho


দুই আবাহনীর দুই রকম জয়

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুই আবাহনীর দুই রকম জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই আবাহনীই জিতেছে। তবে ঢাকা যখন খুব সহজে রহমতগঞ্জ হার্ডল পার হয়েছে, সেখানে চট্টগ্রাম আবাহনী কোনো রকমে আরামবাগকে হারিয়েছে। সুশান্তের গোলে জয় পাওয়া চট্টগ্রামের দলটি ১৭ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তাদের ৩ পয়েন্ট পেছনে থেকে চ্যাম্পিয়নরা শেষ করেছে লিগের সপ্তদশ রাউন্ড।   

বেশ দোর্দণ্ড প্রতাপে রহমতগঞ্জকে হারিয়েছে ঢাকা আবাহনী। প্রথম লেগে ড্র করলেও গতকাল ১৯ মিনিটে গোল বের করে নেয় তারা। সাদ উদ্দিনের ক্রসটি হেডে গোলরক্ষকের হাতে দিতে চেয়েছিলেন এক ডিফেন্ডার। কিন্তু রাজীব ঠিকঠাক গ্রিপ করতে না পারায় ফসকে যাওয়া বলটি এক টোকায় জালে পৌঁছে দিয়ে সানডে এগিয়ে নেন চ্যাম্পিয়নদের। শুরুতে লিড পেয়ে তাদের খেলায় আরো বেগ যোগ হয়। ব্যবধান বড় করে ৩৩ মিনিটে। ওই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ডই গোলরক্ষককে বাইরে টেনে এনে লক্ষ্য ভেদ করে একটা নিশ্চিন্ত অবস্থানে নিয়ে যান দলকে। দ্বিতীয় লেগে এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার যোগ হওয়ার পর থেকে আবাহনীর গোলখরা কেটেছে অনেকখানি। গতবারের সর্বোচ্চ গোদলাতা ছয় ম্যাচে করেছেন ৬ গোল।

বিরতির পর আবার খেলার ধারা বদলের চেষ্টা করেছে রহমতগঞ্জ একটি গোল ফিরিয়ে দিয়ে। ৫৫ মিনিটে সোহেল রানার কর্নার কিকে হেড করে নাইজেরিয়ান ওলাদিপো ব্যবধান কমিয়েছেন। তাতে অবশ্য আবাহনীর জয় ঠেকানো যায়নি। কারণ মিনিট দুয়েক বাদেই নাবিব নেওয়াজের হেড রহমতগঞ্জের জালে জমা হয়ে গেলে চ্যাম্পিয়নরা ৩-১ গোলের লিড ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করে। প্রধান কোচ দ্রাগো মামিচ চলে যাওয়ার পর এখন স্থানীয় আতিকুর রহমানের অধীনেই চলছে আবাহনীর শিরোপা অভিযান।        

অন্য ম্যাচে খুব কষ্টে জিতেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। গোল সংকটে ইদানীংকালে তাদের জয়গুলো এমন স্নায়ুরোধী হয়ে গেছে। মাঠের দাপটও খানিকটা কমে গেছে। প্রথম লেগে আরামবাগের সঙ্গে ড্র করা চট্টগ্রাম আবাহনী কালও গোলহীন থেকেছে প্রথমার্ধে। গোলের সুযোগ তারা পেয়েও জালে পাঠাতে পারেনি বল। ৩০ মিনিটে ডান দিকের এক ক্রসে তৌহিদের ফ্লিক গিয়ে লাগে বাইরের জালে। দুই মিনিট বাদে আরামবাগের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড বুকোলা করেন অমার্জনীয় মিস। বক্সে ঢুকে বাইরে মারার কঠিন কাজটি করেছেন তিনি। এভাবে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ধার বাড়ে আবাহনীর আক্রমণে। তার ফল পায় ৭৪ মিনিটে, ডান দিক থেকে জাহিদের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে সুশান্তের ড্রপ হেড খুঁজে নেয় আরামবাগের জাল। ইনজুরি টাইমে বদলি জাফর ইকবালের সামনে স্কোরলাইন বড় করার সুযোগ এসেছিল। বক্সে একদম ফাঁকায় দাঁড়িয়ে ডান পায়ে বাইরে মারতে দেখে পরিষ্কার জাফরের ম্যাজিক কেবল বাঁ পায়েই।

শেষমেশ ওই একখানা গোলে আরেকটি ম্যাচ পার করেছে লিগের শীর্ষ দলটি। এটা বড় বিপজ্জনক ব্যাপার মনে করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ সাইফুল বারী, ‘এভাবে খেললে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। গোল পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুযোগগুলোর ৫০ শতাংশ কাজে লাগাতে পারলেও আমাদের এত বেগ পেতে হয় না।’ এই গোলের জায়গায় সংস্কার করে বাকি পাঁচ ম্যাচ চালিয়ে নিতে পারলেই হয়ে যায়।


মন্তব্য