kalerkantho


ফেভারিট বাংলাদেশের সঙ্গে বাকিদের লড়াই

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ফেভারিট বাংলাদেশের সঙ্গে বাকিদের লড়াই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিজয়ের দিনে প্রতিপক্ষের সমীহ আদায় করে নিয়ে উন্নত শিরে বাংলাদেশ ফুটবল দিয়েছে আরেক বিজয়ের প্রতিশ্রুতি। এ ঘোষণায় খাদ নেই, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল নেই, বরং ছোটনের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে যেন স্বাগতিক কর্মকর্তারাও বলতে চাইছেন, ‘আমরা ফেভারিট’।

কারণ খেলাটা মেয়েদের আর খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দল। দেশের পুুরুষ ফুটবলের শির কবেই বেঁকে গেছে। কখন-কোথায় ফেভারিট হয়ে তারা মাঠে নেমেছিল সেটাও কারো মনে নেই। এখন আসলে তারা ‘ব্যাক-বেঞ্চার’ আর ‘ফ্রন্টলাইনে’ নারী ফুটবল—প্রতিদিন যেন একটু একটু করে এগোচ্ছে মেয়েদের ফুটবল। আর আন্তর্জাতিক সাফল্যের সুরভি ছড়িয়ে তারাই হয়ে গেছে দেশের ফুটবলের একমাত্র আনন্দের উৎস। তাই সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবলের কালকের সংবাদ সম্মেলনটিও স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো, যেখানে ভারত-নেপালের কোচরাও সমীহ করে এগিয়ে রাখছে স্বাগতিক অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দলকে। সত্যি বললে, ফুটবলের এমন কোনো সংবাদ সম্মেলন খুঁজে পাওয়া দায়। আর বিস্ময়ের হলো, পাঁচ-ছয় বছর আগেও যে দেশের মেয়েরা ‘হন্টন ফুটবল’ খেলত, তারা এখন দৌড়াচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে—এটা রীতিমতো ফুটবল-বিপ্লব। তারই সর্বশেষ সংস্করণ হলো সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবলে ফেভারিট হয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ।

চার দলের টুর্নামেন্ট শুরু হবে আজ কমলাপুর স্টেডিয়ামে। প্রথম ম্যাচ সকাল সাড়ে ১১টায় ভারত-ভুটানের লড়াইয়ের পর দুপুর ২টায় বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নেপালের। নেপালি কোচ গঙ্গা গুরম একটি নতুন দল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। এ উপলক্ষে তাঁদের দেড় মাসের প্রস্তুতি। নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি নিজের অস্বস্তির কথাটাও প্রকাশ করে ফেলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক দলের বিপক্ষে খেলতে হবে, এটা একটু কঠিনই। আমার দৃষ্টিতে এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ সবচেয়ে শক্তিশালী দল। টেকনিক ও ট্যাকটিক্যালি তারা অনেকখানি এগিয়ে।’ নেপালের যেখানে দেড় মাসের প্রস্তুতি সেখানে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রায় সারা বছর ক্যাম্পে কাটায়। অনুশীলনের মধ্যে থাকে, বিদেশে গিয়ে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে। গত সেপ্টেম্বরে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের আগে তারা ২১টি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছে বিদেশে গিয়ে। এরপর থাইল্যান্ডে মূল লড়াইয়ে গিয়ে খেলেছে উত্তর কোরিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশ ফিরেছে ফুটবল উত্তরণের ছবি এঁকে। ওই দল থেকে কৃষ্ণাসহ ১২ জন বাদ পড়লেও বয়সে টিকে গেছে ১১ জন। কেবল নতুন ঢুকেছে ময়মনসিংহের ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার ও ঠাকুরগাঁওয়ের গোলরক্ষক সাগরিকা। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের বিশ্লেষণে এত বড় পরিবর্তনে যেন দলের মূল সুর কেটে যায়নি ‘এ টুর্নামেন্ট সামনে রেখে তিন মাস ধরে আমরা প্রস্তুতির মধ্যে আছি। থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের দলের ১১ জন এই দলে আছে। মেয়েরা খেলার মধ্যে আছে। সবাই মেয়েদের ফুটবল নিয়ে মনোযোগী। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’

ভারতও সেই লক্ষ্যে ঢাকা এসেছে। তবে বাংলাদেশের উত্তরণের গল্প অজানা নয় ভারতীয় কোচ ময়মল রকির কাছে, ‘বাংলাদেশ ভালো দল। শেষবার তাদের কাছে আমরা হেরেছি। তবে সব দলই সাফল্য পাওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ভালো করছে। আশা করি, ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হব আমরা।’ ২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলের আঞ্চলিক পর্বে ভারতকে দু-দুইবার হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সুবাদে আপাতত ফাইনালের বেশি চিন্তা করাও কঠিন ভারতীয়দের জন্য। মহিলা ফুটবলে আগের মতো ভারতভীতি আর নেই। এক বছর আগে সাফ নারী ফুটবলের সিনিয়রদের লড়াইয়ে ফাইনালে ০-১ গোলে হেরে গেলেও বাংলাদেশ গ্রুপে ড্র করেছিল ভারতের সঙ্গে।

এ দেশে নারী ফুটবল বিপ্লব শুরুর সময় ভারত ছিল মহীরুহ। সেরার আসনে ছিল এই অঞ্চলে। তাদের বিপক্ষে নামলেই মাথা নোয়াতে হতো। কিন্তু বিপ্লবের পরম্পরায় লাল-সবুজের পতাকা কয়েকটি ফুটবল মাইলস্টোন অতিক্রম করে এখন ভারতীয় নারী ফুটবলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। সিনিয়র দলে জয় অধরা থাকলেও বয়সভিত্তিক লড়াইয়ে লাল-সবুজের সুস্পষ্ট আধিপত্য। অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের লড়াই নিয়ে অধিনায়ক মারিয়া মান্ডাও তাই চাপহীন, ‘আমাদের কোনো চাপ নেই। অনেক দিন আমরা একসঙ্গে খেলছি, নিজেদের মাঠে স্বাভাবিক ফুটবল খেলে নিজেদের সামর্থ্য আরেকবার প্রমাণ করতে হবে।’ সংবাদ সম্মেলনের ফেভারিট দলকে মাঠে খেলে প্রমাণ করতে হবে।


মন্তব্য