kalerkantho


দশবারে ছয়বারই সেরা আবাহনী

শাহজাহান কবির   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দশবারে ছয়বারই সেরা আবাহনী

ছবি : মীর ফরিদ

নাহ, পারেনি শেখ জামাল আবাহনীর শিরোপা উৎসবে বাঁধ দিতে। তারকাহীন একটা দল নিয়ে নিজেরাও পারেনি সেই ফুল ফোটাতে। জামালকে ২-০ গোলে হারিয়ে পেশাদার লিগের ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে তুলেছে আবাহনীই। তাও এক ম্যাচে হাতে রেখে! মাঝপথে কোচ সরে গেছেন, স্কোরিং সমস্যা নিয়ত চোখ রাঙিয়েছে। কিন্তু দলে নাসিরউদ্দিন চৌধুরীর মতো ম্যাচ উইনার ছিলেন। কর্নার থেকে দারুণ স্লাইডিং হেডে গোল করে লিগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি তিনিই জয়ের রাস্তায় তুলে দিয়েছেন আকাশি-নীলদের। শেষ মুহূর্তের গোলে ব্যবধান বাড়িয়েছেন সানডে।

ম্যাচের শুরুতেই রাফায়েলের ক্রস শহীদুল গ্রিপে নিয়েছেন। পরের মুহূর্তেই একটা লং বল চেজ করতে গিয়ে জামাল গোলরক্ষককে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখে বসেন এমেকা ডার্লিংটন। মাঠে উত্তেজনার পারদ চড়েছিল শুরু থেকেই। দুই দলেরই ডিফেন্সলাইন ছিল মারমুখী। ওয়ালি ফয়সালের অনুপস্থিতিতে আবাহনী উইঙ্গার সাদউদ্দিনকে রাইট ব্যাক খেলিয়েছে। এই তরুণ দারুণ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন ডান প্রান্ত ধরে। জামালের আক্রমণে সলোমন, রাফায়েলের বোঝাপড়া চোখে পড়ছিল শুরু থেকেই। মিনিট পনেরো দুই দলই কোনো গোলের সুযোগ বের করতে পারেনি। ২৪ মিনিটে সোহেল রানার দুর্দান্ত এক শটে মাথা ছুঁইয়ে সেই সুযোগ করা শুধু নয়, গোলই করে বসেন নাসিরউদ্দিন। শর্ট কর্নার নিয়েছিলেন সোহেল, ইমনের কাছ থেকে ফিরতি বল নিয়েই মিডফিল্ডার ইমরান হোসেনকে দারুণ টার্নে বোকা বানিয়ে যে শটটি নিয়েছেন, তাতে শুধু একটি ছোঁয়ার অপেক্ষা ছিল, নাসিরের স্লাইডিং হেডে বল জালে জড়িয়েছে বুলেট গতিতে।  একসময়ের স্ট্রাইকার নাসির অনেক দিন ধরেই ডিফেন্ডারের ভূমিকায়। কিন্তু গোল করার প্রশিক্ষণটা তাঁর ঠিকই আছে। আবারও সেটি দেখিয়েছেন তিনি লিগে নিজের ষষ্ঠ গোল করে।

১-০তে পিছিয়ে পড়ে জামাল কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটি ছিল দেখার। তবে আবাহনী প্রেসিং থামায়নি। গোলের পরপরই সাদউদ্দিন একা বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন, ডিফেন্সের কড়া প্রহরায় ফাইনাল পাসটি তাঁর দেওয়া হয়নি। তবু ম্যাচের আধঘণ্টায় জামাল ডিফেন্সে একরকম ঝড় বইয়ে দিয়েছে আবাহনী। বিরতির মিনিট পাঁচেক আগে কাউন্টার অ্যাটাকে শেখ জামাল সুযোগ তৈরি করে। ডান দিক থেকে জাভেদ খানের ক্রসে রাফায়েল ব্যাকহিলে পেছনে সলোমনকে দিয়েছিলেন। এই গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ডের শট আবাহনীর ডিফেন্স দেয়ালে বাধা পেয়ে ফিরে আসে। ইনজুরি টাইমে জাহেদ পারভেজের সঙ্গে ওয়ান টু খেলে জাভেদ খান যে শট নিয়েছিলেন, তা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাইরে পাঠিয়ে আবাহনীর লিড ধরে রাখেন গোলরক্ষক শহীদুল। নাসিরের গোলের সময় সোহেলের টার্নে বিভ্রান্ত হওয়া ইমরান হোসেনকে প্রথমার্ধেই উঠিয়ে নিয়েছিলেন রক্সি। তাঁর জায়গায়ই নামেন জাহেদ। তিন হলুদ কার্ডের কারণে আকাশি-নীলের একাদশ ভেঙেচুরে গেছে মৌসুমে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। আক্রমণই সুরক্ষার সেরা অস্ত্র—নীতিতে ঘানাইয়ান সেন্টারব্যাক সামাদ ইউসুফকে বেঞ্চে বসিয়ে দুই বিদেশি ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা ও এমেকা ডার্লিংটনকে একসঙ্গে একাদশে সুযোগ দিয়েছেন মূল কোচের ভূমিকায় থাকা আতিকুর রহমান। অভিজ্ঞ লেফট ব্যাক ওয়ালি ফয়সালের অনুপস্থিতিতে এমন একাদশে নিশ্চিতভাবেই চমকে দিতে পেরেছেন তিনি প্রতিপক্ষ কোচ মাহবুব হোসেনকে। শেখ জামাল সম্ভাব্য সেরা একাদশটাই সাজিয়েছিল রাফায়েল ওদোয়িনকে সামনে রেখে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে।

শিরোপার অপেক্ষায় আবাহনী গ্যালারিতে এদিন উল্লেখযোগ্য দর্শক। বিরতিতে ‘আবাহনী-আবাহনী’ স্লোগানে তারা পুরনো দিনের স্মৃতি ফেরাচ্ছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আবাহনী ডিফেন্সে ভিড় বাড়িয়েছে। জামালের মরিয়া আক্রমণের মুখে তবু গোলের সুযোগ বের করেছে তারা। ৫৭ মিনিটে যেমন খান মোহাম্মদ তারার ভুলে নাবিব সানডেকে বল বের করে দিয়েছিলেন। কিন্তু নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার পোস্টের কাছাকাছি গিয়ে বল উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে খেলার গতি কমিয়ে এই অর্ধে জামালকে মারমুখো হতে না দেওয়াটা তাদের বড় সফলতা। জামালের বিকল্প ফরোয়ার্ড মামদু বা ইনজুরিতে, সুস্থ থাকলেও কার্ড সমস্যায় খেলতে পারতেন না, ম্যাচের শেষ পর্যায়ে রক্সি এমন একজন বিকল্পের অভাবে নিশ্চিত ভুগেছেন। নুরুল আবছারকে উঠিয়ে সোহেলকে নামিয়েছেন তিনি। কিন্তু তা কোনো প্রভাব ফেলেনি। অন্য প্রান্তে একা বক্সে ঢুকে দারুণ এক শটে শেষ মুহূর্তে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়েছেন সানডে।

দিনের অন্য ম্যাচে ব্রাদার্সের ছিল অবনমন এড়ানোর লড়াই। সেই ম্যাচে ফরাশগঞ্জকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা সফল।

আবাহনী : শহীদুল; রায়হান, নাসিরউদ্দিন, টুটুল, সাদ; আতিকুর (প্রাণতোষ), ইমন, সোহেল; এমেকা, সানডে, নাবিব (মামুন)।

শেখ জামাল : নাঈম; রফিকুর, তারা, দিদার, শ্যামল; ইমরান (জাহেদ), আলী; সলোমন, আবছার (সোহেল), জাবেদ; রাফায়েল।


মন্তব্য