kalerkantho


প্রথম দিনেই অল আউট প্রোটিয়ারা

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রথম দিনেই অল আউট প্রোটিয়ারা

২৫ বছরের হিসাব চুকানোর সময় এসেছে এবার! বিজ্ঞাপনে দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত সিরিজ নিয়ে এমন আবেগী শব্দের ব্যবহারের পেছনে আশা জোগাচ্ছে ভারতের বর্তমান ফর্ম। কিংবা বলা ভালো, ভারত অধিনায়কের ফর্ম! বিরাট কোহলির ব্যাটে ছিল বসন্ত, জীবনেও লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়, যেখানকার পিচ একটা সময় ছিল ভারতের ব্যাটসম্যানদের রাতের দুঃস্বপ্ন। সেই আত্মবিশ্বাসটাই ছুঁয়ে গেছে গোটা দলকে। তাইতো ভারতীয় পেসাররাই প্রথম দিনে প্রোটিয়াদের কোণঠাসা করে অল আউট করেছেন মাত্র ২৮৬ রানে। স্বস্তিতে নেই ভারতও। ১১ ওভারে ২৮ রান তুলতেই তারা হারিয়ে ফেলেছে তিন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে। আউট হয়ে ফিরেছেন মুরালি বিজয়, শিখর ধাওয়ান এবং অধিনায়ক কোহলি নিজেও।

বিবাহিত জীবনে প্রথম মুদ্রানিক্ষেপে হারলেন বিরাট কোহলি। ফাফ দু প্লেসিস টস জিতে নিলেন ব্যাটিং। কিছুক্ষণ পর অবশ্য দু প্লেসিসেরই কপালে চিন্তার ভাঁজ। সফরেরই মোটে তৃতীয় বল, তাতেই ভুবনেশ্বরের ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন ডিন এলগার। গত বছর টেস্টে এক হাজারের বেশি রান করা এলগারকে নতুন বছরের প্রথম ইনিংসেই শূন্য রানে ফিরিয়ে দিয়ে দারুণ সূচনা ভারতের। ভুবির পরের শিকার এইডেন মারক্রাম। অভিষেক টেস্টে অল্পের জন্য শতরান পাননি, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৯৭ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্টে করেছিলেন ১৪৩ রান। এরপর জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্টে একমাত্র ইনিংসে ১২৫ রান! প্রথম ৪ ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি আর একটি প্রায় সেঞ্চুরি; একটু শক্তপোক্ত প্রতিপক্ষের সামনে পড়তেই সেটা নেমে এলো ৫ রানে! ভুবনেশ্বরের বলে ৫ রানে এলবিডাব্লিউ হওয়াটাই তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কম রানের ইনিংস। পরের ওভারে হাশিম আমলাকেও ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে দিলেন ভুবনেশ্বর। অফের বাইরের বল, একটু লেট সুইং আর আমলার আলতো খোঁচা; প্রোটিয়াদের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিদায় নিলেন মাত্র ৩ রানেই। ১২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে প্রোটিয়ারা, পুরো টপ অর্ডারকেই ড্রেসিংরুমে পাঠিয়ে দিয়েছেন ভুবনেশ্বর। সবচেয়ে কম রান দিয়ে প্রথম ৩ উইকেট তুলে নেওয়ায় ভারতের এটা দ্বিতীয় সেরা সাফল্য। এর আগে ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে ৫ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার ৩ উইকেট নিয়েছিল ভারত, এবার সেটা করতে খরচ ১২ রান। রেকর্ড বইতে পরের এন্ট্রি অবশ্য অনেক দূরের, সেই ১৯৩৬ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই দু প্লেসিস আর এবি ডি ভিলিয়ার্সের রুখে দাঁড়াবার শুরুটা। এবি খেলেছেন স্বভাবজাত ইনিংসই। ১১ বাউন্ডারিতে ৮৪ বলে ৬৫ রান এখনো ওয়ানডেতে গ্রহণযোগ্য, সেটাই টেস্টে করেছেন ডি ভিলিয়ার্স। দু প্লেসিস ছিলেন অনেক সংযত, তাঁর ৬২ রানের ইনিংস এসেছে ১০২ বলে। চতুর্থ উইকেটে এই দুজনের ১১৪ রানের জুটিতেই বিপর্যয় এড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে দ্রুত এই দুজনকে হারিয়ে ফের পড়ে বিপদে। ৩৩তম ওভারের শেষ বলে, দলীয় ১২৬ রানে, জাসপ্রিত বুমরাহর বলে বোল্ড হয়ে যান ডি ভিলিয়ার্স। ৩৬তম ওভারের পঞ্চম বলে হার্দিক পাণ্ডেকে উইকেট দেন দু প্লেসিসও। দুজনের বিদায়ের পর কুইন্টন ডি কক যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন টেল এন্ডারদের নিয়ে। বলা যায় লেজের লড়াইতেই ভদ্রস্থ দেখিয়েছে প্রোটিয়াদের স্কোরকার্ড। ডি কক ৪৩, ফিল্যান্ডার ২৩, কেশব মহারাজ ৩৫, কাগিসো রাবাদা ২৬ ও ডেল স্টেইন ১৬ রান করায় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় তিন শর কাছাকাছি, ২৮৬ রান। ৮৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর। ক্রিকবাজ


মন্তব্য