kalerkantho


সৌম্যর জায়গাই নিলেন এনামুল

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সৌম্যর জায়গাই নিলেন এনামুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নেলসনে ২০১৫ বিশ্বকাপের স্কটল্যান্ড ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়া এনামুল হক এরপর ওয়ানডে দলেই ঠাঁই পাননি আর। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো ওই বিশ্বকাপেই কার্যকর ব্যাটিং দিয়ে যাঁর উত্থান, পৌনে তিন বছর পর এনামুলকে ওয়ানডে দলে ফেরার সুযোগ করে দিতে এবার বাদ পড়েছেন সেই সৌম্য সরকারই। এনামুলের এত দিনের এত অপেক্ষার অবসান ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়েই। এটি যেমন অনুমিত ছিল, তেমনি অনেক দিন রানে না থাকা সৌম্যর বাদ পড়াও। অবশ্য বাঁহাতি এই ওপেনার একা নন, বিবর্ণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ওয়ানডে দল থেকে ছেঁটে নিয়েছে ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদের নামও।

দুই তরুণই এই প্রথমবারের মতো পারফরম্যান্সের কারণে ওয়ানডে দলে জায়গা হারালেন। লম্বা সময় বাইরে থাকার পর জায়গা ফিরে পাওয়ার দিক থেকে এনামুলকেও ছাড়িয়ে গেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। ২০১৪-র জুনে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন এনামুলের মতোই এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে এক ম্যাচে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ২৬ রান করা মিঠুন সেই যে বাদ পড়েছিলেন, ফিরলেন সাড়ে তিন বছর পর। এই ফেরায় ভূমিকা রেখেছে সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স। শিরোপাজয়ী দলের হয়ে করেছেন ৩২৯ রান।

১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য গতকাল ঘোষিত ১৬ জনের দলে সৌম্য-তাসকিন ছাড়াও জায়গা হারিয়েছেন সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ওয়ানডে দলে থাকা আরো তিনজন—লিটন দাশ, মমিনুল হক ও শফিউল ইসলাম। শেষেরজন অবশ্য গিয়েছিলেন ইনজুরিতে পড়া মুস্তাফিজুর রহমানের বদলি হিসেবে। ‘কাটার মাস্টার’ ফিট হয়ে ফেরায় স্বাভাবিকভাবেই নেই শফিউল। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য দীর্ঘদিন বিবেচনার বাইরে থাকা মমিনুলকে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজের পর ওয়ানডেতেও রেখে দেওয়া হয়েছিল তামিম ইকবালকে নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায়। এবার দেশের মাঠে খেলা বলে তেমন কোনো ব্যাপার নেই, কাজেই নেই মমিনুলও। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর দিয়েই ওয়ানডে দলে ফেরা লিটন সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার ফলও ভোগ করলেন দ্রুতই। ৩ ম্যাচে ৪১ রান করে বাদ পড়েছেন তিনিও। তাঁদের বাদ পড়ার দিনে এনামুল-মিঠুনের সঙ্গে ওয়ানডে দলে ফিরেছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার আবুল হাসান এবং বাঁহাতি স্পিনার সাঞ্জামুল ইসলামও।

এনামুল-মিঠুনের মতো লম্বা সময় বিবেচনায় ছিলেন না আবুল হাসানও। ২০১৫-র এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ ওভারে ৪২ রান খরচ করে বাদ পড়ার পৌনে তিন বছর পর ফিরলেন এই পেসারও। সবশেষ বিপিএলে বোলিং কার্যকারিতার পাশাপাশি ব্যাটিং জানাও তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে অবদান রেখেছে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানিয়েছেন, এই জানুয়ারির কনকনে শীতে কন্ডিশন অনুযায়ী বোলিংয়ে বাড়তি বিকল্প রাখার চিন্তার সঙ্গে আবুলের সুইং করানোর সামর্থ্যকেও প্রাধান্য দিয়েছেন তাঁরা। বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়ার লড়াইটা ছিল সাঞ্জামুল ইসলাম এবং বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে দারুণ বোলিং করা নাজমুল ইসলামের মধ্যে। তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে খেলে ফেলার অভিজ্ঞতায় এগিয়ে গেছেন সাঞ্জামুল।

এনামুল-সৌম্যর ক্ষেত্রে অবশ্য ফেরা আর জায়গা হারানোর মধ্যে পরিষ্কার ব্যবধান গড়ে দিয়েছে রানে থাকা এবং না থাকা। ২০১৫-র সেপ্টেম্বর থেকে খেলা ১৫ ওয়ানডেতে মাত্র দুটি ফিফটি সৌম্যর। গত মে মাসে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে পর পর দুই ম্যাচে ৬১ ও অপরাজিত ৮৭ রানের দুটি ইনিংস ছাড়া বলার মতো আর তেমন কিছুই আসেনি সৌম্যর ব্যাটে। গত বছর ১১ ম্যাচে তাঁর ব্যাটিং গড় মোটে ২৪.৩০। শেষ ৬ ম্যাচের ইনিংসগুলো নিশ্চয়ই তিনিও ফিরে দেখতে চাইবেন না—০, ২৮, ৩, ৩, ০ এবং ৮! অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে অবাধে রান করে গেছেন এনামুল। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) দুটি ডাবল সেঞ্চুরিসহ করেছেন টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৬১৯ রান। সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও (ডিপিএল) তাঁর ব্যাট ৩৭.২৫ গড়ে দেখেছিল ৫৯৬ রান। ওয়ানডে দলে তাঁর জায়গা ফিরে পাওয়াটা ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতারই সুফল। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৬১ ওভার বোলিং করে মাত্র ২ উইকেট পাওয়া তাসকিনকে কুফল ভোগ করতে হচ্ছে জায়গা হারিয়ে!


মন্তব্য