kalerkantho


তাঁদের ভরসা শুধুই পারফরম্যান্স

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তাঁদের ভরসা শুধুই পারফরম্যান্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সৌম্য সরকার-এনামুল হকরা বিকেএসপিতে তাঁর অনেক জুনিয়র। তাঁরা অনেক পরে এসেও জাতীয় দলে মোটামুটি লম্বা সময় খেলেছেন। কিন্তু এঁদের অনেক আগে সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ মিঠুনের কিনা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করতেই অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে আরো পাঁচ বছর।

এখনো পরিষ্কার মনে করতে পারেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসার পর ঘরোয়া ক্রিকেটেও ভালো করেছিলাম। সেই সূত্রে সুযোগ পেয়েছিলাম ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে। দেখুন, কত দিন হয়ে গেল! এত দিনেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলাম না।’ না পারার দুঃখে এখন আর কাতরও হন না। কারণ জীবন নামের পাঠশালা থেকে এই শিক্ষাটি অন্তত নিতে পেরেছেন যে, ‘সাফল্য সবার একভাবে আসে না। কেউ কেউ খুব সহজে অনেক কিছু পেয়ে যায়। কারো কারো খুব কষ্ট করতে হয়। সাকিব ভাইয়ের কথাই ধরুন। ওনার ক্যারিয়ারটা খুবই মসৃণ। উনি যা-ই করেছেন তাতেই সফল হয়েছেন। আবার ইমরুল কায়েসের কথাই ধরুন। ওনাকে এখনো সংগ্রাম করতে হচ্ছে।’

নিজেকে পরের দলের ধরে নিয়ে কষ্ট করে গেছেন মিঠুন। সবশেষ বিপিএলের পারফরম্যান্সে দিয়ে ওয়ানডে দলে জায়গা ফিরে পাওয়ার আনন্দে ভীষণ আপ্লুতও, ‘বাংলাদেশের হয়ে খেলার এবং পারফরম করার স্বপ্ন সবারই থাকে। এখন আবার সেই সুযোগ এসেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাই খুব খুশি।’ মিঠুনের মতো বিকেএসপিতে তাঁর জুনিয়র এনামুলও অপেক্ষায় থেকেছেন আরেকটি সুযোগের। সুযোগ না পাওয়ার হতাশা ভুলেও তৈরি করছিলেন নিজেকে, ‘আমার কাছে হতাশার চেয়ে চ্যালেঞ্জটাই বেশি ছিল। প্রতিটা ঘরোয়া আসরই চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রিমিয়ার লিগ শেষ হলেই যেমন কথা উঠত, বিজয় কত রান করল বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও একই কথা। বিপিএলেও সবাই খোঁজ রেখেছে আমি কত করলাম। নিজেকে আরো ভালো কিছুর জন্য অনুপ্রাণিত করে গেছি।’

সেই অনুপ্রেরণায় আগের মৌসুমের চেয়ে পরের মৌসুমে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণও করেছেন, ‘আমি সব সময় বড় স্বপ্ন দেখি। যেখানেই খেলি, বড় কিছু করার চেষ্টা থাকে। চেষ্টা করি আগের বছরের চেয়ে ভালো কিছু করতে। এর আগেরবার জাতীয় লিগে করেছিলাম ৫০০-র বেশি রান। এবার করেছি ৬০০-র বেশি। ভালো কিছু করতে না পারলে কোথাও জায়গা নেই। আর ভালো কিছু করতে পারলে ভালো জায়গা প্রস্তুত হয়ে যায়।’

ঘরোয়া আসরগুলোতে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক হওয়ায় সেই জায়গাটি প্রস্তুত হয়েই গেল। সেটি প্রস্তুত করার পথে লম্বা চুল রেখে নাকি এমন পণও করেছিলেন যে জাতীয় দলে না ফেরা পর্যন্ত আর তা কাটবেনই না। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেটে জাতীয় দলের কৃত্রিম আলোয় অনুশীলন পর্বের মাঝখানে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে এসে জানিয়ে গেলেন ওই প্রচারটা ভুলও নয়, ‘আসলে বড় চুল রাখা আম্মুর খুব পছন্দের। বাবার যদিও ভীষণ অপছন্দ। গতকালও (গত পরশু দল ঘোষণার পর) এটা নিয়ে কথা হয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম চুল কেটে ফেলব কি না। আম্মু বলল, চুল থাকুক। এটা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। ভালো করে খেলো।’ 

এবার ভালো খেলার লক্ষ্যে অন্য রকম স্বস্তি নিয়েও নামতে পারার কথা। কারণ এ রকমও প্রচার ছিল যে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন সাবেক কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের বিশেষ পছন্দের ছিল না। উঠল সে প্রসঙ্গও, ‘আসলে একজন আরেকজনকে অপছন্দ করতেই পারে। জোর করে আপনি কারো পছন্দের পাত্র হতে পারবেন না। আমি কোচের বিষয়ে না ভেবে পারফরম করে যাওয়ার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি। কোচ কেউ আসবে আবার চলেও যাবে, কিন্তু আমাকে তো খেলে যেতেই হবে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে দেদার রান করতে করতে নিজেকে এখন আরো শানিতই মনে হচ্ছে এনামুলের, ‘নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকলেই উন্নতির সুযোগটা বেশি থাকে। আমার কাছে মনে হয়, উন্নতি অনেক বেশি হয়েছে। ইনিংসগুলো বড় হচ্ছে। দুটো ডাবল সেঞ্চুরি করেছি। সব কিছুতেই নিজেকে আগের থেকে ভালো লাগছে।’ সেই সূত্রে পারফরম করে এবারের সুযোগটি কাজে লাগানোর অগাধ বিশ্বাসও জন্ম নিয়েছে। মিঠুনের ক্ষেত্রে যেটি জন্ম নিয়েছে বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলার সময় থেকেই। 

দলের স্বীকৃতিই মিঠুনের আত্মবিশ্বাসে লাগিয়েছিল দমকা হাওয়া, ‘‘আমার দল যখন সংগ্রাম করছিল, এমন একটা সময়ে আমিই দলের মূল ব্যাটসম্যান। আমাকে তখন এই বলে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল, ‘তুমি ভালো খেললে ম্যাচ জিতব, তা ছাড়া জিতব না।’ এই জিনিসটা অনেক বড় পাওয়া। আমি ভালো খেললে দল জিতবে, এর চেয়ে বড় উৎসাহ কিছু হতে পারে না। এখানে আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটা অনেক বেড়ে যায়।’’ সেই সঙ্গে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে রংপুর রাইডার্সে অধিনায়ক হিসেবে পাওয়াকেও নিজের সৌভাগ্য ধরছেন মিঠুন, ‘আমার সৌভাগ্য যে বিপিএলে আমার দলে অধিনায়ক বাংলাদেশ দলেরও অধিনায়ক। উনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। রেখেছেন বলেই আমি আজ এখানে। উনি আস্থা না রাখলে আমি এখানে থাকতে পারতাম না।’

মিঠুন-এনামুলরা পারফরম করেছেন বলেই জাতীয় দলও তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছে। সেই আস্থা অটুট রাখতেও সেই পুরনো জিনিসটাই চাই। পারফরম্যান্স!


মন্তব্য