kalerkantho


বিশেষ আয়োজন

তাঁরাও ছিলেন তাঁরাও আছেন

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তাঁরাও ছিলেন তাঁরাও আছেন

৪৬তম বিজয় দিবস পালন করেছে দেশ। এই দেশ তৈরিতে রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের মতোই মাঠে যুদ্ধ করেছিলেন একদল ফুটবলার। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রাপ্য মর্যাদাটা তাঁরা পেয়েছেন? আমরা এই ধারাবাহিক আয়োজনে পুনঃপাঠ করতে চেয়েছি ইতিহাসের। বিস্তারিত অনুসন্ধানে বের করার চেষ্টা হয়েছে প্রকাশিত সত্যের পেছনে লুকানো আরো সত্য আছে কি না! ধারাবাহিক আয়োজনের শেষ পর্বে পড়ুন তাঁদের কথা, জীবন নদীর ওপারে চলে গেছেন যাঁরা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন নোমান মোহাম্মদ

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের বাকি ১০ সদস্যের সঙ্গে চাইলেও আর কখনো যোগাযোগ করা যাবে না। তাঁরা যে পাড়ি জমিয়েছেন জীবন নদীর ওপারে!

কোচ ননী বসাক ছিলেন রেফারি, তবু কেন যেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কোচ করে দেওয়া হয় তাঁকে! তেজগাঁ পলিটেকনিক স্কুলের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাকটর ছিলেন বলেই হয়তো বা! তবে ’৭১ সালের ওই দলটিকে কোচিং করাতেন মূলত আলী ইমাম। এই মিডফিল্ডার যুদ্ধের আগে খেলেন ইপিআইডিসি, আজাদ স্পোর্টিং, ওয়ারীতে। স্বাধীনতার পর আবাহনী দল গঠনে রাখেন বড় ভূমিকা। পরে তাঁর কোচিংয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী-মোহামেডান দুটো ক্লাবই।

শেখ মোহাম্মদ আইনুল হক ক্যান্সারে ধুঁকে ধুঁকে মারা যান গত বছর। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি তিনটি ম্যাচে। একাত্তরে আগরতলা থেকে ট্রেনে গিয়ে স্বাধীন বাংলা দলে যোগ দেন তিনি। যে ভ্রমণে তাঁর সঙ্গী আরেক প্রয়াত নরসিংদীর মাহমুদুর রশীদ। যদিও তেমন ভালো ফুটবলার ছিলেন না। কুষ্টিয়ার ডিফেন্ডার মনিরুজ্জামান পেয়ারারও ফুটবল-কীর্তি মনে করতে পারেন না কেউ।

গোলরক্ষক খোন্দকার নুরুন্নবী খেলেন শুধু কৃষ্ণনগরের প্রথম ম্যাচটি। তা-ও কত হ্যাপা! প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে দিয়ে জেনারেল ওসমানীর কাছে বলে ছুটি নেওয়াতে হয় সেনাবাহিনীর এই সদস্যের জন্য। এরপর ফিরে যান রণাঙ্গনের যুদ্ধে। নুরুন্নবী যেমন মোহামেডানের, অমলেশ সেন তেমনি আবাহনীর। গেল বছর নিভে গেল যাঁর জীবনপ্রদীপ। এই রাইট ইন যুদ্ধের পর আবাহনীতে হন মিডফিল্ডার। খেলোয়াড়ি জীবনের বাকি সময়ের মতো জীবনের বাকিটাও অমলেশ কোচ হিসেবে কাটিয়েছেন ওই প্রাণের ক্লাবে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গঠনের পর সাইদুর রহমান প্যাটেল কলকাতা থেকে মঈন সিনহাকে ঢাকা পাঠান খেলোয়াড় নিয়ে আসার জন্য। শাহজাহান, লালু ও সাঈদকে নিয়ে যান মঈন। ইস্ট এন্ড, রহমতগঞ্জের মিডফিল্ডার মনসুর আলী লালু খেলতেন মিডফিল্ডে। গেণ্ডারিয়ার ফরোয়ার্ড সাঈদ খেলেছেন ইস্ট এন্ড ক্লাবে। আরেক প্রয়াত দেওয়ান সিরাজউদ্দিন সিরু ছিলেন প্যাটেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইস্ট এন্ডে খেলেছেন এই স্টপার, স্বাধীনতার পর ভিক্টোরিয়াতে।

ম্যানেজার-কোচের সঙ্গে ৩৫ জন ফুটবলার। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল তাঁরাই। সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি’র কর্মকর্তাদের অবদানও ভোলার নয়। খেলোয়াড়দের বাইরে ওই দলের অংশ হিসেবে ‘সহযোগিতা’য় আছে আরো আটজনের নাম। ক্রিকেটার রকিবুল হাসান, সাঁতারু অরুণ নন্দী, ক্রীড়াব্যক্তিত্ব আতাউল হক মল্লিক, ক্যাম্প কমান্ডার বদিউজ্জামান খসরুর সঙ্গে মঈন সিনহা, নাজির হোসেন, আবুল কাশেম ও হেমায়েত সিদ্দিকী। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের আলোচনায় উল্লেখ করতে হবে তাঁদের নামও। এ কে এম নওশেরুজ্জামান যেমনটা বলেন আর কি, ‘আমরা সবাই মিলেই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের পরিবার।’

সেই পরিবারের প্রতি আমাদের অসীম কৃতজ্ঞতা। স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনায় অবদান রাখার জন্য তাঁদের প্রতি আমাদের টুপিখোলা অভিবাদন।

 


মন্তব্য