kalerkantho


ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতার চ্যালেঞ্জ

স্পিনারের দেশে পেসারে বাজি

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্পিনারের দেশে পেসারে বাজি

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সেই জুনে ভারতকে চমকে দিয়েছিল প্রবলভাবে। একাদশে চার পেসার নামিয়ে দেয় যে বাংলাদেশ! মাশরাফি বিন মর্তুজা, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেনের সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমানের অভিষেক। গুণে না হোক, সংখ্যায় তো অন্তত সত্তরের দশকের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল বাংলাদেশ!

এই জানুয়ারিতে এর পুনরাবৃত্তিতে হয়তো চমক হবে না। না-ই বা হলো! কিন্তু এই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে পেসারদের ওপর আবার নির্ভর করবে বাংলাদেশ। তাতে স্পিনারদের কার্যকারিতা ক্রমশ কমে যাওয়ার দায় রয়েছে। তবে এর চেয়েও বেশি করে সাম্প্রতিক আবহাওয়া। এর চেয়ে আদর্শ পরিবেশ তো আর পেসারদের জন্য হতে পারে না!

ভারতের বিপক্ষে আড়াই বছর আগের সিরিজে চার পেসার খেলিয়ে শুধু ভড়কে দেয়নি প্রতিপক্ষকে; সিরিজও জেতে বাংলাদেশ। এর পর থেকে ওয়ানডেতে তিন পেসারের কম নিয়ে কখনো খেলেনি মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। এবারের স্কোয়াডে পেসার রয়েছেন পাঁচজন। অধিনায়কের সঙ্গে মুস্তাফিজ, রুবেল, আবুল হাসান ও সাইফ উদ্দিন। পেসারদের ওপর ভরসা করার কথা কাল সংবাদ সম্মেলনে খোলাসা করে দিয়েছেন মাশরাফি, ‘আমরা চার পেসার নিয়ে খেলে সফল হয়েছি। এরপর তিন পেসারের কম নিয়ে খেলিনি। পেস বোলারদের ওপর সব সময় একটা আস্থা আমরা রেখেছি। হয়তো বা অনেক সময় আমরা পারফরম করতে পারিনি। যখন পেরেছি, সেই ম্যাচগুলো কিন্তু আমরা জিতেছি। আবার যখন পারিনি আমাদের কারণেও ম্যাচ হেরেছি।’ পেসারদের ওপর আস্থা থাকলেও ধারাবাহিকতা ছিল না সেভাবে। এবার সেটাই প্রত্যাশা অধিনায়কের, ‘এখন অবশ্যই আস্থা আছে। আশা করছি ধারাবাহিকতাও আগের মতো ফিরবে। যেটা ২০১৫-১৬ সালে ছিলাম। এ বছর বাকি সিরিজগুলো দেশের বাইরে। পরের বছরের বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডের মতো জায়গায়। সেখানে উইকেট আরো ফ্ল্যাট হবে। এসব জায়গায় পেসারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। আমি মনে করি তাদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি।’

এই পেসারদের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেছেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদও, ‘স্পিন আমাদের শক্তির জায়গা। সেইসঙ্গে পেস বোলাররা চালিকাশক্তি। আমরা পাঁচ স্পিনার নিয়ে খেলতে পারব না নিশ্চয়ই। তো পেস বোলিংটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’ নিজ দলের পেসারদের আরো ধারাবাহিক হওয়ার তাগিদ তাঁর কণ্ঠে, ‘পেস বোলিংয়ে আমাদের বৈচিত্র্য আছে। অভিজ্ঞ মাশরাফি নেতৃত্বে থাকবে। বাকি যারা আছে, সবাই ভিন্ন রকমের বোলার। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের পেসাররা হয়তো বা ছোট ছোট জায়গায় ভালো করেছে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে পারেনি।’

সেই ভুল-ত্রুটি শোধরানোর জন্য প্রস্তুতি পর্বে পেসারদের নিয়ে বিস্তর কাজ করেছেন মাহমুদ। তবে কোন বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি মাহমুদ, ‘এগুলো টেকনিক্যাল বিষয়। বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করেছি। স্লোয়ার, বাউন্সার সব কিছু নিয়েই। দু-একজন বোলারের সুইং নিয়েও কাজ করেছি। আসলে দক্ষতা তো সবার আছে; পরিস্থিতি অনুযায়ী তা কে কতটা কাজে লাগাতে পারে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন কুয়াশা পড়ছে, রাতে বল করা কঠিন হয়। ওই সময়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক যে লেন্থে বল সকালে এক রকম, সন্ধ্যায় আরেক রকম করতে হবে।’

এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। একাদশ নির্বাচন নিয়েও শলাপরামর্শ। সাইফ ও আবুল হাসানকে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ধরে একাদশে দুজনকে নামিয়ে দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠল কালকের সংবাদ সম্মেলনে। মাশরাফি ইঙ্গিত দেন দুজনেরই একাদশে থাকার, সঙ্গে অবশ্য সতর্কতা মিশিয়ে, ‘ক্রিকেটে স্মার্ট হওয়া ভালো, কিন্তু ওভার স্মার্ট হওয়া ভালো না। আমরা ওভার স্মার্ট হতে চাচ্ছি না। অবশ্যই হাতুরাসিংহে একটা পরিকল্পনা করবে। আমাদেরও থাকবে। প্রয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা অবশ্যই নতুন কিছু করার চেষ্টা করব। যে প্রশ্ন করেছেন, এর কাছাকাছি আমরাও চিন্তা করছি। ঝুঁকি থাকলেও আমরা অমন কিছু কাজ করতে পারি।’ সেই ঝুঁকি কাজে লাগার নিশ্চয়তা তো আর দিতে পারেন না অধিনায়ক, ‘সফলতা পেলে মনে হয় যে এটি ক্যালকুলেটিভ রিক্স ছিল। ঝুঁকি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মনে হয়, এটি কাজে লেগে যাবে। কাজে লাগলে সবাই প্রশংসা করে, আর সফল না হলে বলে—এত বড় ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হয়নি। আমার দিক থেকে তাই বুঝেশুনেই ঝুঁকিটা নেব।’

সে ঝুঁকি আড়াই বছর আগে নিয়ে সফল হয়েছিল বাংলাদেশ। আবার ত্রিদেশীয় সিরিজে পেসারদের ওপর ভরসায় সাফল্যের পুনরাবৃত্তিই কাম্য। স্পিনারদের দেশে একাদশে পেসারদের দাপট! ওই যে মাশরাফি মনে করিয়ে দিলেন, বুঝেশুনেই ঝুঁকিটা নিচ্ছেন তাঁরা!


মন্তব্য