kalerkantho


ঢাকাকে ভুলে যাননি ক্লুজনার

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকাকে ভুলে যাননি ক্লুজনার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৭১ ওয়ানডে আর ৪৯ টেস্ট খেললেও প্রোটিয়া জার্সিতে কখনো বাংলাদেশে আসা হয়নি ল্যান্স ক্লুজনারের। ২০০০ সালের এপ্রিলে ঢাকায় এশিয়া একাদশ আর অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশের ম্যাচে খেলতে এসেছিলেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। সেই ম্যাচে মাইকেল বেভানের অবিশ্বাস্য ১৮৫ রানের ইনিংসের কথাই বেশির ভাগ দর্শক মনে রেখেছে। ক্লুজনারের ৩২ বলে ১৬ রানের ইনিংস তো মনে রাখার মতো কিছু নয়ও।

দেড় যুগ পর, আবার ঢাকায় ক্লুজনার। জিম্বাবুয়ে দলের ব্যাটিং কোচের ভূমিকায়। প্রতিপক্ষ হিসেবে জিম্বাবুয়ে এখন আর ঠিক রোমাঞ্চিত করে না বাংলাদেশের দর্শকদের। তাই দল হিসেবেও যেন ‘ভিআইপি’ খাতির নেই, যেমনটা অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড বা ভারতের। ক্লুজনারকে তাই প্রথম দিনের অনুশীলনে একাডেমি মাঠে একা বসে থাকতে দেখা যায়! মূল কোচ হিথ স্ট্রিক আগে বাংলাদেশের বোলিং কোচ ছিলেন বলে স্টেডিয়ামের অন্ধিসন্ধি ভালো চেনেন। একটু পিছিয়ে পড়া ক্লুজনার পথের দিশা খুঁজে পান না। তাঁর ক্যারিয়ারটাও কি একটু এ রকম নয়? এই আইপিএল, বিপিএল যুগে হলে ক্লুজনারকে নিয়ে নিঃসন্দেহে নিলামে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। কিন্তু হায়, টি-টোয়েন্টির এই জমকালো দিন আসতে আসতে ক্লুজনারই যে খেলা ছেড়ে দিলেন। জিম্বাবুয়ের বোর্ডের আর্থিক অবস্থার কথা ক্রিকেটপাড়ায় অজানা নয়। সেই দলের ব্যাটিং কোচের চাকরি আর দিন কয়েক বাদে আইপিএল নিলামের খেলোয়াড় তালিকার পাশের ভিত্তিমূল্য তুলনা করলে ক্লুজনার নিশ্চিতভাবেই মনঃকষ্টে ভুগবেন। তবু একেবারে মন খারাপ করেন না ‘জুলু’, ‘জীবন একদিকে দরজা বন্ধ করলে অন্যদিকে খুলে দেয়। ইংল্যান্ডে কিছুদিন টি-টোয়েন্টি খেলেছিলাম, তখন খেলাটার এত বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ছিল না। আমি হয়তো সময়ের সঙ্গে লড়াইতে হেরে গেছি। তবে কোচিংয়ের সুযোগটা এতে করে তৈরি হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচটা শেষ করে আসা গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেটাই শেখানোর চেষ্টা করি।’ ম্যাচ শেষ করার সামর্থ্যটা ছিল বলেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপে হতে পেরেছিলেন সেরা খেলোয়াড়। ১১২ স্ট্রাইক রেটে ২৮১ রান, ৮ ইনিংসের ৬টিতে অপরাজিত আর বল হাতে ১৭ উইকেট। যদিও বললেন, বিশ্বকাপ সেরার স্মারকের চাইতে সেমিফাইনালটা জিতলেই বেশি খুশি হতেন, ‘সেই বিশ্বকাপে আমি বোধ হয় জীবনের সেরা ক্রিকেটটা খেলেছিলাম। কিন্তু সেমিফাইনালটা...। আসলে কাউকে দোষ দিই না। মাঠে প্রচণ্ড আওয়াজ হচ্ছিল আর ডোনাল্ডের ওই পরিস্থিতিতে ব্যাট করার কথাও নয়।’ এভাবেই সান্ত্বনা খোঁজেন ক্লুজনার। সেই পাগুলে রান আউটটা যে এখনো প্রোটিয়াদের চোকার নামটার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। নিজের সেরা ক্রিকেটটা খেলেছিলেন যে বিশ্বকাপে, হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা, সেই বিশ্বকাপই তাঁর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ক্লুজনার যে এখানেও হেরে গেছেন নিয়তির কাছে।


মন্তব্য