kalerkantho


মানদণ্ড এখন অনেক উঁচুতে

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মানদণ্ড এখন অনেক উঁচুতে

তামিমের উদ্‌যাপন : জিম্বাবুয়েকে হেসে-খেলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মাঠে থেকে সেই জয়টা দেখেছেন সাবেক কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেও। ম্যাচ শেষে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে থাকা হাতুরাসিংহের সঙ্গে মজা করতে ছাড়লেন না ৯৩ বলে হার না মানা ৮৪ রান করা তামিম ইকবাল। ইঙ্গিতে দুজন কথাও বলেন কিছুক্ষণ। তিনি দায়িত্ব ছাড়লেও বাংলাদেশ যে সাফল্যের কক্ষপথ থেকে ছিটকে যাবে না, হয়তো সেটাই বোঝাচ্ছিলেন তামিম। ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘ওয়ানডেতে এ নিয়ে বোধ হয় দ্বিতীয়বার তিন নম্বরে...’—কথা শেষ করতে পারেন না সাকিব আল হাসান। সংবাদ সম্মেলন কক্ষের চকিত প্রতিক্রিয়া, ‘তৃতীয়বার, তৃতীয়বার’। ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া হয়। সাকিবের তিনে নামা নিয়ে এত চর্চা চলছে কয়েক দিন ধরে, এখানে গণমাধ্যমের অন্তত ভুলে যাওয়ার সুযোগ কই!

এ তিন নম্বর পজিশনটি বাংলাদেশের জন্য সমস্যা হয়ে আছে অনেক দিন। কিছুতেই কিছু না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাকিব-শরণ! ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচে নেমেছিলেন ওখানে; আউট প্রথম বলে। এরপর সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম ম্যাচে। ৪৫ বলে ২৯ রানে খুব খারাপ করেননি সাকিব। কিন্তু তখনো তিন নম্বরে স্থায়ীভাবে ভাবা হচ্ছিল না তাঁর কথা। কিন্তু এই ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে ওই পজিশনটির স্বত্ব লিখে দেওয়া হয় সাকিবকে। তাতে উতরে গেছেন মোটের ওপর। তামিম ইকবালের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি, ওখানে তাঁর অবদান ৪৬ বলে ৩৭ রান—মন্দ কী!



সাকিব নিজেও চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেন। নতুন শুরুতে একেবারে অসন্তুষ্ট নন, তবে ভবিষ্যতে বড় ইনিংস খেলার প্রত্যয় কাল ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘এটি আসলে নতুন একটা চ্যালেঞ্জ। নতুন চ্যালেঞ্জ না থাকলে উপভোগ করাও কঠিন। পরেরবার চেষ্টা থাকবে

যাতে ইনিংস বড় করা যায়। তিন নম্বরের কাছে চাওয়া থাকে, শুরুতে উইকেট পড়লে তারা যেন ইনিংস বড় করতে পারে। যেহেতু তিনে ব্যাট করার সুযোগ এসেছে, সামনে চেষ্টা থাকবে বড় ইনিংস খেলার।’

সাকিবের জন্য তিনে ব্যাটিং নতুন চ্যালেঞ্জ, আবার বাংলাদেশের জন্যও তো ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টটি কম চ্যালেঞ্জিং নয়। চন্দিকা হাতুরাসিংহের বিদায়ের পর নতুন যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। বছরটাও নতুন। এসব নতুনের প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে খুশি সাকিব, ‘নতুন বছরের শুরুটা ভালো হলো, সেদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু তিন জাতির সিরিজ খেলছি, মোমেন্টামটা তাই গুরুত্বপূর্ণ। এই জয় তাই আমাদের আত্মবিশ্বাস দেবে, যেহেতু ভাবছি যে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। এটা তাই মানসিক দিক থেকে অনেক সাহায্য করবে। বিশেষ করে যারা বোলিং করেছে তারা সবাই ভালো করেছে।’

বোলিংয়ে শুরুতেই চমক। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা নতুন বল তুলে দেন দুই বাঁহাতি স্পিনারের হাতে। এমন পরিকল্পনার কারণটা জানিয়ে যান সাকিব, ‘বরাবরই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমাদের সফল হওয়ার বড় এক কারণ স্পিন। আর সকালের দিকে উইকেটে কিছু সাহায্য ছিল। যত সময় পার হয়েছে, ব্যাটিংয়ে জন্য তত সহজ হয়েছে। এ জন্য পরিকল্পনা ছিল দ্রুত উইকেট নেওয়া। ওরা তো পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে একটু হলেও স্বস্তিবোধ করে। স্পিনে শুরুর সেটিও কারণ।’ সাকিব নিজেই করেন প্রথম ওভার। প্রথম বলেই উইকেট, প্রথম ওভারে দুটি। এমন শুরুর গুরুত্বও উঠে আসে সাকিবের কথায়, ‘প্রথম উইকেটে মুশফিক ভাই ভালোভাবে বলটি ধরেছিলেন। কারণ ডাউন দ্য লেগে বল ধরা যেকোনো কিপারের জন্য কঠিন। আজকে উনার দিনটা ভালো ছিল, বেশ কিছু ক্যাচ ধরেছেন। আসলে দ্রুত উইকেট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এসব উইকেটে যদি ব্যাটসম্যান সেট হয়ে যায় আর উইকেট হাতে থাকে—তাহলে বড় শট খেলা সহজ হয়ে যায়।’

বাংলাদেশের বোলাররা তা হতে দেননি। তিন উইকেট নিয়ে সাকিব সফলতম বোলার হতে পারেন, তবে প্রশংসা তিনি ছড়িয়ে দিলেন পুরো বোলিং ইউনিটে। আলাদা করে বলেন দুই উইকেট পাওয়া মুস্তাফিজুর রহমানের কথা, ‘আমার কাছে মনে হয় নাই ও কখনো খারাপ করেছে। হয়তো উইকেট পায়নি, কিন্তু সব সময় উইকেট পাওয়া মানুষের পক্ষে কখনো সম্ভব না। ও খারাপ অবস্থায় ছিল না; এখন হয়তো আরো ভালো অবস্থায় এসেছে। অনেক কাজ করছে, ওর বোলিং দেখে আমি অনেক সন্তুষ্ট। মাশরাফি ভাই ভালো বোলিং করেছেন। রুবেলও অনেক ভালো। ব্যাটসম্যানরা যখন সেট তখন ও বল করতে আসে। সেটা ওর জন্য কঠিন কিন্তু সব সময় সে পারফরম করে।’

কাল আসলে দল হিসেবেই দারুণ পারফরম করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিংয়ে এক মুহূর্তের জন্যও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেয়নি জিম্বাবুয়েকে। ভীষণ আয়েশে তাই জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। চন্দিকা হাতুরাসিংহেবিহীন যুগের শুরুটা এমন দাপটে হওয়াটা কারো কারো কাছে অপ্রত্যাশিত। তবে সাকিবের সুস্পষ্ট ঘোষণা, ‘আমাদের এই পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত।’

নাহ্, বাংলাদেশ ক্রিকেটের মানদণ্ডটি এখন সত্যিই অনেক উঁচুতে!


মন্তব্য