kalerkantho


‘শততম ম্যাচ’ জিম্বাবুয়ের

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘শততম ম্যাচ’ জিম্বাবুয়ের

সিকান্দার রাজাদের উচ্ছ্বাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের দুঃসময় চলছে বহু দিন ধরে। বছরখানেক হয় এর প্রায় কাছাকাছি অবস্থা শ্রীলঙ্কারও। তার ওপর যদি বিবেচ্য হয় এই দুই দলের সবশেষ সিরিজ, তাহলে কাউকে এগিয়ে রাখা বা না রাখা ধন্দে ফেলে দেওয়ার মতো ব্যাপারই। লঙ্কাদ্বীপে গিয়ে গত বছর জুলাইতে যে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ এ জিতে নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। এবার ঢাকায় ত্রিদেশীয় সিরিজে তাদের মুখোমুখি লড়াইটা তাই শুরু অনেকটা এক সমতায় থেকেই। এখান থেকে কে এগিয়ে যায়, মিরপুরের গ্যালারি ফাঁকা থাকলেও সেই কৌতূহলটা ছিলই। আর সেই কৌতূহল নিত্যই উসকে দেওয়া ম্যাচ দেখল জমজমাট সমাপ্তিও।

যে সমাপ্তিটা আবারও লঙ্কানদের ওপর জিম্বাবুয়ের চড়ে বসারও। একাই ম্যাচ ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে থাকা থিসারা পেরেরাকে ফিরিয়ে ম্যাচের লাগাম নেওয়া আফ্রিকান দলটি ১১ বল বাকি থাকতে ১২ রানের জয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়েও যেন ঠাঁই করে নিল। বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে শ্রীলঙ্কার হেড কোচ হওয়া চন্দিকা হাতুরাসিংহেকে প্রথম ম্যাচেই হারের তিক্ত স্বাদ দিতে পারা বলে কথা! যেটি আবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হওয়া শততম ওয়ানডে ম্যাচও। এই ম্যাচের শেষ হাসি গ্রায়েম ক্রেমারের দলের। অথচ জিম্বাবুয়ের ২৯০ রান তাড়া করতে নামা শ্রীলঙ্কাকে একটা সময় কঠিন অবস্থা থেকে সহজ জয়ের তীরই যেন দেখাচ্ছিলেন থিসারা পেরেরা। আরেক ‘পেরেরা’ ওপেনার কুশলের দুইবার জীবন পেয়ে খেলা ৮০ রানের ইনিংসের পরও লঙ্কানদের জয়ের সম্ভাবনা ঝুলে গিয়েছিল। ১৯৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর ব্যাটসম্যান বলতে যে থিসারা ছাড়া আর কেউই অবশিষ্ট ছিলেন না। কিন্তু এ রকম অবস্থা থেকেও বহু ম্যাচ বের করা লঙ্কান অলরাউন্ডার টেল এন্ডারদের নিয়েই দেখাতে শুরু করেছিলেন জয়ের তীর।

সেই সঙ্গে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন চার বছর আগে এই মিরপুরেই বাংলাদেশের হৃদয় ভাঙা ইনিংসটির কথাও। সেটি ছিল ২০১৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। যাতে ৬৭ রানে লঙ্কানদের ৮ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের আগাম স্বাদই পেতে শুরু করে দিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু এই থিসারাই সেবার মাত্র ৫৭ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কায় অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংসে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাচের মোড়। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচভাগ্য গড়ে দিতে দিতেও পারলেন না থিসারা। ৩৭ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৬৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস থামল জয় থেকে মাত্র ১৬ রান দূরে থাকতে। যখন সহজ সমীকরণ মেলাতে বাকি আরো ২১ বল। পেসার টেন্ডাই চাতারার ধীরগতির ফুলটসে হাঁকাতে গিয়ে থিসারা ডিপ মিড উইকেটে সিকান্দার রাজার তালুবন্দি হতেই যেন ধপ করে নিভে যায় শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্ন। সেই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের আশার পালেও নতুন হাওয়া লাগান ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়া চাতারা। লঙ্কানদের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে থিসারাকে ফেরত পাঠানোর পর শেষ ছোঁয়াটাও তাঁরই। শেষ ব্যাটসম্যান দুশমন্ত চামিরাও তো চাতারারই শিকার। অবশ্য ব্যাটসম্যানরা বড় পুঁজি না দিলে চাতারার মতো বোলারদের পক্ষে জয় বের করা মুশকিলই ছিল। তাঁদের জন্য জয়ের রাস্তা দেখিয়ে যাওয়া ব্যাটিং শুরুতে করেছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

সুলেমান মায়ারকে (৩৪) নিয়ে দলকে প্রথমে ৭৫ রানের দারুণ সূচনা এনে দেন এই ওপেনার। ব্রেন্ডন টেলরকে (৩৮) নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৫৭ রানের আরেকটি পার্টনারশিপ গড়া মাসাকাদজার (৮৩ বলে ৭৩ রান) বিদায়ের পর প্রতিপক্ষকে ২৯১ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার বাকি কাজটি করেছেন সিকান্দার রাজা। সঙ্গী হিসেবে যোগ্য সংগত পেয়েছেন কখনো ম্যালকম ওয়ালারের (২৯), কখনো পিটার মুরের (১৮ বলে ১৯ রান)। শ্রীলঙ্কার সফলতম বোলার আসেলা গুণারত্নে (৩/৩৭) ওই দুজনকে ফেরালেও শেষ পর্যন্ত হাল ধরে থেকেছেন সিকান্দার। ৬৭ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় তাঁর অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংসেই শ্রীলঙ্কার লক্ষ্যটা নিয়ে যায় তিন শর কাছাকাছি।

লঙ্কানদের রান তাড়ায় জয়ের সম্ভাবনা প্রতিপক্ষের দিকেও ঝুঁকে পড়েছে কখনো কখনো। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সেই সম্ভাবনা আবার নিজেদের দিকেই টেনে আনেন থিসারা। কিন্তু সমীকরণ সহজ করে আনার পর ফুলটসে হাঁকানোর লোভ সামলাতে না পারার ভুলেই জিম্বাবুয়ের জয়ের ফুলটা গিয়ে ফোটে সিকান্দারের হাতে। দলকে বড় স্কোরের পথ দেখানো ব্যাটিংয়ের পর এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নেওয়া সিকান্দারের হাতে ধরা পড়েছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজও (৪২)। তাই সিকান্দারের ম্যাচসেরা হওয়া নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ ছিল না কোনো!


মন্তব্য