kalerkantho


অবশেষে অবসরে রোনালদিনহো

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অবশেষে অবসরে রোনালদিনহো

রোনালদিনহোকে কিভাবে মনে রাখবেন ফুটবল দর্শকরা। অসামান্য প্রতিভা, নাকি প্রতিভার অপচয়। ডেভিড সিম্যানকে বোকা বানানো বিশ্বকাপের সেই গোল, লিওনেল মেসিপূর্ব যুগে বার্সেলোনার হীরক ছকের প্রাণভোমরা নাকি অবহেলায় নিজেকে ফুরিয়ে ফেলা প্রতিভা! অনুশীলনে অবহেলা, উদ্দাম নৈশজীবন আস্তে আস্তে কেড়ে নিল তাঁর ঔজ্জ্বল্য। প্রত্যাশিত জায়গায় শেষ পর্যন্ত যাওয়া হয়নি রোনালদিনহোর। তবে হেলাফেলা করেও তাঁর ফুটবল থেকে যা প্রাপ্তি, সেটা অনেকের কাছেই মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, কোপা আমেরিকা, ব্যালন ডি’অর—সবই তো আছে তাঁর ট্রফিকেসে। এগুলোর যেকোনো একটি, কিংবা কিছু না জিতেও তো কেউ কেউ কিংবদন্তি হয়ে গেছেন, রোনালদিনহো সেই মর্যাদা পাবেন না কেন?

২০১৫ সালের পর থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি রোনালদিনহো। তবু নামের আগে সাবেক শব্দটা বসেনি। আইএসএল, চীনা লিগ; কত কিছুই তো হচ্ছে। এই ৩৭ বছর বয়সেও এসবে খেলে নিজের সেরা সময়ের দু-চারটা ঝলক দেখাতেই পারতেন গাউচো। তবে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে গোটা সাতেক ম্যাচ খেলে গোল করতে না পারা রোনালদিনহো হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন, অতীতের ছায়া হয়ে খেলার চাইতে না খেলাই ভালো। তাইতো আর মাঠে নামা নয়। অবসরের ঘোষণাটাও তাই মাঠ থেকে নয়, এমনকি নিজের মুখেও বললেন না। ভাই ও এজেন্ট রবার্তো অ্যাসিস জানিয়েছেন, ‘সে (রোনালদিনহো) আর খেলবে না। সে খেলা থামিয়ে দিয়েছে।’ তবে একেবারে থেমে থাকবেন না রোনালদিনহো, ভাই-ই জানালেন ‘সে ব্রাজিল, ইউরোপ আর এশিয়ায় নানা রকম ইভেন্টে অংশ নেবে। শুধু তা-ই নয়, ব্রাজিল দলের সঙ্গেও নানা রকম কাজ করা হবে।’

পেশাদার ফুটবল থেকে দূরে থাকলেও ফুটবলের সঙ্গেই ছিলেন রোনালদিনহো। বার্সেলোনার বিশেষ দূত হয়েছিলেন গত ফেব্রুয়ারিতে, সাবেকদের নিয়ে আয়োজন করা ‘এল ক্লাসিকো’তে খেলেছিলেন। নিকোলাস আনেলকা, রায়ান গিগসদের নিয়ে ‘রোনালদিনহো অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ নামের দল নিয়ে পাকিস্তানে খেলে গেছেন সেভেন-এ-সাইড ফুটবল। আভাসে-ইঙ্গিতে বোঝাই যাচ্ছিল, পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা এলো কালই।

গ্রেমিওর যুব দলে শুরু, সেখান থেকে মূল দলে উত্তরণ ১৯৯৮তে। ইউরোপে প্রথম পা রাখেন ফ্রেঞ্চ লিগে, প্যারিস সেন্ত জার্মেইতে। সেখান থেকে ৩০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে তাঁকে নিয়ে আসে বার্সেলোনা। বার্সাকে দুটো লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন, ১৯৯১-৯২তে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর অধরাই থেকে যাওয়া ইউরোপ সেরার ট্রফিটা জিতিয়েছেন ২০০৫-০৬ মৌসুমে। রোনালদিনহো সেই বিরল ব্রাজিলিয়ানদের একজন, যারা বয়সভিত্তিক ফুটবলের প্রতিটি ধাপেই দেশের হয়ে খেলে জাতীয় দলে খেলেছেন। মিসরে ব্রাজিলের জেতা প্রথম অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের দলে ছিলেন রোনালদিনহো, ২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদোর সঙ্গে তার ‘রো রো’ জুটিই তো শিরোপার পথ করেছিল সুগম।

ব্যালন ডি’অর, ওয়ার্ল্ড সকার ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ফুটবলার, ফিফা প্রো-বর্ষসেরা ফুটবলার...সব সেরার স্বীকৃতিই পেয়েছেন রোনালদিনহো। বিবিসি


মন্তব্য