kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

আমার যা আছে তা নিয়েই এগিয়ে যাব

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আমার যা আছে তা নিয়েই এগিয়ে যাব

আন্তর্জাতিক আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় দাবায় অংশ নিতে যাওয়া ব্র্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় দাবা দলের অন্যতম সদস্য ইজাজ হোসেন। কিন্তু আর সবার সঙ্গে তাঁকে মেলালে চলবে না। অন্ধত্বকে জয় করে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছেন এই দাবাড়ু। কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি দাবা ও তাঁর সেই জীবনের গল্পই শুনিয়েছেন তিনি

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : অন্ধত্বের বাধা জয় করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও আপনি অংশ নিচ্ছেন, এটা সম্ভব হচ্ছে কী করে?

ইজাজ হোসেন : অন্ধদের অন্যান্য খেলা যেমন—ক্রিকেট, ফুটবল নিজেদের কমিউনিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সেখানে দাবাই একমাত্র খেলা যেখানে আন্তর্জাতিক ফেডারেশনই অনুমোদন করে যে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীও অংশ নিতে পারবে তাদের সাধারণ যেকোনো টুর্নামেন্টে। যেহেতু এটা মেধার খেলা, দৌড়-ঝাঁপের ব্যাপার নেই, অর্থাৎ আমি কী চাল দিলাম সেটা যদি আমার প্রতিপক্ষ জানতে পারে আর উনি কী চাল দিলেন সেটা যদি আমি জানতে পারি তাহলেই তো হলো। এ ক্ষেত্রে আমরা একটা স্পেশাল বোর্ড ব্যবহার করি, প্রতিপক্ষ যে চাল দেয় সেটা আমাদের ঘোষণা করে জানিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বে অন্ধদের মধ্যে অনেক শক্তিশালী আছেন কিন্তু।

প্রশ্ন : তেমন কাউকে কি আপনি অনুসরণ করেন?

ইজাজ : যুক্তরাজ্যের ক্রিস রস আমার আইডলদের একজন। উনি জন্মান্ধ। রেটিং বর্তমানে সাড়ে ২২০০। আরো একজন আছেন, অন্ধদের গত এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আমি তাঁর কাছে হেরে যাই, তাঁর নাম কিষাণ গাঙ্গুলি। শুধু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হিসেবে নন, খেলোয়াড় হিসেবেই এখন উনি ভারতের একজন উদীয়মান দাবাড়ু।

প্রশ্ন : দাবায় এ পর্যন্ত আপনার সাফল্য কী?

ইজাজ : আমার বর্তমান রেটিং ১৯৯৫। ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ রেটিং ছিল ২২১৭, সেটা একটা অর্জন অবশ্যই। আমি দৃষ্টি সম্পূর্ণভাবে হারাই ২০০৩ সালে। তার আগে স্বল্প দৃষ্টি ছিল। তখন আমি দুইবার জাতীয় দাবা খেলেছি বাছাই পেরিয়ে। ২০০৩-এ একটা দুর্ঘটনায় আমি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারাই। ভেবেছিলাম দাবা খেলা আর সম্ভব হবে না। বিশেষ বোর্ডের কথাও তখন জানতাম না। পরে যখন ব্লাইন্ড কমিউনিটির সঙ্গে মিশি, তাদের উন্নয়ন- অধিকার নিয়ে কাজ করি, আর বিশ্বের অন্ধ দাবাড়ুদের ব্যাপারে জানতে পারি, তখন আমার ধারণাটা বদলায়। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বিভাগ লিগ দিয়ে আবার নতুন করে আমার ক্যারিয়ার শুরু করি।

প্রশ্ন : নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আপনি জুনিয়র দাবা খেলেন, তখন তো গ্র্যান্ড মাস্টার আব্দুল্লাহ আল রাকিব বা এনামুল হোসেনরা উদীয়মান খেলোয়াড়। তাঁরা আজ কোথায় এমন ভেবে নিজের এই প্রতিবন্ধকতার জন্য আক্ষেপ হয় কি?

ইজাজ : না হয় না। মানুষের জীবনে অনেক রকম বাধাই তো আসতে পারে। সেসব বাধাকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই তো কাজ। আমার যা আছে সেটি নিয়েই আমি এগিয়ে যাব।


মন্তব্য