kalerkantho


তামিমের কাছ থেকে শেখার চেষ্টায় এনামুল

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তামিমের কাছ থেকে শেখার চেষ্টায় এনামুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : চোটে পড়ে তিনি যখন দল থেকে ছিটকে যান, তখনো ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল বাংলাদেশের জন্য অনেক দূরের পথ। তখনো বাংলাদেশের ক্রিকেট দৃশ্যপটে আবির্ভাবই হয়নি মুস্তাফিজুর রহমানের। এবার প্রত্যাবর্তনের আগে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে নিউজিল্যান্ডের নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা এনামুল হকের সবশেষ ম্যাচের সময়ও বড় ম্যাচ জিতিয়ে তারকা হয়ে যাননি সৌম্য সরকার। পরে ফর্ম হারিয়ে দলে জায়গা হারিয়ে এনামুলকে আবার ফেরার পথ করে দেওয়ার আগে গত তিন বছরে আরো অনেক কিছুই বদলেছে বাংলাদেশ দলের। যে পরিবর্তনগুলো ড্রেসিংরুমে ফিরেই ধরতে পারছেন এনামুল।

তিনি দলে ফিরতে ফিরতে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির বিন মর্তুজার নেতৃত্বে সাফল্যের একেকটি অধ্যায় রচিত হয়ে গেছে। ২০১৫-র বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে তামিম ইকবাল ক্রমেই হয়ে উঠেছেন ধারাবাহিকতার মূর্ত প্রতীক। সাকিব আল হাসান সময়ে আরো পরিণত, কার্যকর এবং শাণিত। ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিম হয়ে উঠেছেন আরো বেশি ভরসার। শীর্ষপর্যায়ে ঝলসে ওঠার জন্য নিজেকে আরো উপযোগী করে তোলা মাহমুদ উল্লাহও বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে। এঁদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে বসে অন্য রকম ভালোলাগায়ই শুধু আচ্ছন্ন হন না এনামুল, বড় কিছু করার তাগিদও আরো বেড়ে যায় তাঁর, ‘এখন ড্রেসিংরুমে থাকলে একটা ভালোলাগা কাজ করে। তামিম ভাইয়ের ১১ হাজার রান (বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ম্যাচে), সাকিব ভাইয়ের হলো ১০ হাজার। বাংলাদেশের হয়ে ৩০০ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে মুশফিক ভাইয়ের। সেই সঙ্গে মাশরাফি ভাইয়ের মতো নেতা এবং রিয়াদ ভাইয়ের মতো তরুণ লড়াকু ক্রিকেটারও আছেন দলে। আছে মুস্তাফিজের মতো ক্রিকেটারও। ড্রেসিংরুমটা এখন অনেক ভারী। মনে হয়, বাংলাদেশ দলটা এখন অনেক বড়। যেখানে থাকলে মনে হয় আমাকেও আরো ভালো কিছু করতে হবে।’

অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের মিশেলে এখন অনেক অর্জনে ভারী বাংলাদেশ দলে টিকে থাকতে হলে বড় ইনিংসের চাহিদাও অজানা নয় এনামুলের। এই ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে দলে ফিরে খেলেছেন দুই ম্যাচ, বড় ইনিংসের দেখা মেলেনি অবশ্য। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে করেছেন ১৯, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কয়েকবার জীবন পাওয়া ৩৫ রানের ইনিংস। ইনিংস বড় না হলেও দলের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছেন বলে সন্তুষ্টি আছে এনামুলের। তাঁর ব্যাটিংয়ে আগ্রাসনই যে দেখতে চেয়েছে দল, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে আমাকে নিজের মতো করে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। দল যেভাবে চাচ্ছে, চেষ্টা করছি সেভাবেই খেলার। আসলে স্বাধীনতা পেলে ভালো লাগে। তাতে নিজের সামর্থ্যটা আরো দেখানো যায়, কতটুকু আমার পক্ষে পারা সম্ভব বা কতটুকু পারি।’

এনামুলের দাবি পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী নিজের ব্যাটিং বদলানোর সামর্থ্যও তাঁর আছে। যদিও আগে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে খোদ বাংলাদেশ দলেই প্রশ্ন ছিল। কিন্তু এই ওপেনার বলছেন দলের চাহিদামতোই ব্যাটিং করতে চেয়েছেন সব সময়, ‘দল যেভাবে চায়, সব সময় সেভাবেই ব্যাটিং করতে চেয়েছি। আমার খেলাটা আমি যেকোনো সময় বদলাতে পারি। কোনো সমস্যা নেই। যদি দেখা যায় অনেকগুলো উইকেট দ্রুত পড়ে গেছে, তখন ধরে খেলার চেষ্টা করব। মেরে খেলার দরকার হলে চেষ্টা করব মারার। আমি আমার খেলা থেকে যেকোনো সময়ে বের হয়ে আসতে পারি। দল যেভাবে চায়, সেভাবেই ব্যাটিং করার সামর্থ্য অর্জনের চেষ্টা করছি।’

চেষ্টা করছেন বড় ইনিংস খেলার ক্ষেত্রে তামিম ইকবালের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ারও। অনেক দিন পর তামিমের সঙ্গে আবার ইনিংস ওপেন করতে পারার আনন্দেই শুধু বুঁদ হয়ে থাকছেন না, চাইছেন অভিজ্ঞ ওপেনারের মতো বড় ইনিংস খেলতেও, ‘বড় ইনিংস খেলা যে একটা অভ্যাসের ব্যাপার, সেটি তামিম ভাইকে দেখলেই বুঝতে পারি। তিনি ২০১৫ সাল থেকে যেভাবে বড় ইনিংস খেলে যাচ্ছেন, জুনিয়র ব্যাটসম্যান হিসেবে তা আমার জন্যও শিক্ষণীয় ব্যাপার। দুটি ম্যাচে সেট হয়েছি কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারিনি। মাত্র তো দলে ফিরলাম, আশা করি সামনে আরো বেশি কিছু শিখতে পারব এবং বড় কিছু করতে পারব।’

বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও তারকা ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সের যোগফল যখন বড় বড় অর্জনে সমৃদ্ধ করে একটি দলকে, তখন তা ড্রেসিংরুমের আবহাওয়াও বদলে দেয়। দলে ফিরেই সেই বদলটা ধরতে পারা এনামুলকেও এমন পরিবেশে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হতে গেলে তো বড় কিছু করতে হবেই!


মন্তব্য