kalerkantho


হাতুরাসিংহের প্রথম

থিসারা টিকিয়ে রাখলেন শ্রীলঙ্কাকে

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



থিসারা টিকিয়ে রাখলেন শ্রীলঙ্কাকে

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৪৪তম ওভারের পঞ্চম বলটিকে থিসারা পেরেরা আছড়ে ফেলেন মিড উইকেট বাউন্ডারির ওপারের গ্যালারিতে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সেই গ্যালারিতে কাল রাজ্যের শূন্যতা। টিকিট কেটে শ পাঁচেক দর্শকও ঢোকেনি। তবু পেরেরার ওই ছক্কার পর শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমের ঠিক পাশের গ্যালারিতে দুজন দর্শক কেমন প্রাণপণেই না ওড়াতে থাকল দেশটির পতাকা! জিতেছে যে শ্রীলঙ্কা!

যে জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে থাকার পাশাপাশি দেশের নুয়ে পড়া ক্রিকেট-পতাকাও যেন আবার উঁচিয়ে ধরে লঙ্কানরা।

কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। অধিনায়ক বদলেছে বারবার। কোচের আসনেও নানা ঘটনাপ্রবাহে নিয়ে আসা হয় চন্দিকা হাতুরাসিংহকে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ভাগ্য বদলাচ্ছিল না কিছুতেই। সর্বশেষ ১৭ ওয়ানডের মধ্যে মাত্র এক জয়—ভাবা যায়! চলতি টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে খাদের কিনারে চলে যায় তারা। কাল জিম্বাবুয়ের কাছে হারলেই ফাইনাল থেকে ছিটকে যেত। কিন্তু পেরেরার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ঠিকই পাঁচ উইকেটে জয়সূর্য ছিনিয়ে আনে শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশ তো দুই ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে ফাইনাল। আর তিন ম্যাচ শেষে সমান ৪ পয়েন্ট শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ের। দুই দলের শেষ ম্যাচ স্বাগতিকদের বিপক্ষে। তাতেই নির্ধারিত হবে ২৭ জানুয়ারির শিরোপা দ্বৈরথে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের প্রতিপক্ষ।

সর্বশেষ ১৭ ওয়ানডেতে এক জয়—দল হিসেবে শ্রীলঙ্কা যে কেমন দিশেহারা, রেকর্ডই তার সাক্ষী। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই খেলাতেও হারে তারা। গত বছর জিম্বাবুয়ের কাছে নিজ দেশে হেরেছে ওয়ানডে সিরিজ। কাল তাই পাহাড়সম চাপ সঙ্গী করে মাঠে নামে হাতুরাসিংহের দল। হ্যাঁ, চাপটা তো কোচেরও কম ছিল না! প্রথম মিশনেই যদি যাচ্ছেতাইভাবে ব্যর্থ হয়, তাহলে সমালোচনার তীর ধেয়ে যেত। কাল হাতুরাসিংহকে ঢাল হয়ে বাঁচালেন শিষ্যরা। বলা ভালো, থিসারা পেরেরা একাই। প্রথমে ৩৩ রানে চার উইকেট নিয়ে। পরে ২৬ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংসে।

অথচ কাল ম্যাচের শুরুটা খারাপ হয়নি জিম্বাবুয়ের। দশম ওভারে বিনা উইকেটে ৪৪ রানে পৌঁছে যায় তারা। তখনই শুরু বল হাতে পেরেরার জাদু। তাঁর শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (২০)। ক্রেইগ আরভিনকে (২) ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন স্লিপে। আর আরেকটি শর্ট বলে হুক করতে গিয়ে ভুল টাইমিংয়ে উইকেটরক্ষকের তালুবন্দি সলোমান মায়ার (২১)। ১০ বলের মধ্যে এই তিন উইকেট তুলে জিম্বাবুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন পেরেরা।

ব্রেন্ডন টেলর এরপর চেষ্টা করেন খুব। তাতে জিম্বাবুয়েকে খাদ থেকে হয়তো তুলতে পেরেছেন, কিন্তু জয়ের মতো রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে পারেননি। ৮০ বলে ৫৮ রান করেন টেলর। এরপর শিকার ওই পেরেরার; তাঁর আরেকটি শর্ট বলের। আট ওভারে ৩৩ রানে চার উইকেট এই পেসারের। আর ৪৪ ওভারে ১৯৮ রানে অল আউট হয় জিম্বাবুয়ে।

এই রান টপকে সহজে জেতার কথা শ্রীলঙ্কার। এক উইকেট হারিয়ে এক শ পেরিয়ে যাওয়ায় তো আরো সহজে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের তলানিতে থাকা দলের জন্য সেটিই কঠিন হয়ে যাওয়ার জোগাড় কাল। ৫৭ বলে ৪৯ করে কুশাল পেরেরা আউট হয়ে গেলেন; এক উইকেটে ১০৩ থেকে দেখতে না দেখতেই চার উইকেটে ১১৭। আর ১৪৫ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ার পর তো লঙ্কানদের জয় নিয়েই তৈরি হয় ঘোর অনিশ্চয়তা। তা দূর হয়ে যায় থিসারা পেরেরার ব্যাটে। অধিনায়ক দীনেশ চান্ডিমালের (৩৮*) সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৫৭ রানের জুটিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন এই অলরাউন্ডার। ২৬ বলে ৩৯ রানে তখন অপরাজিত তিনি।

এ ম্যাচ জিতে টুর্নামেন্টে টিকে রইল শ্রীলঙ্কা। যে জয়ের পর ম্যাচসেরা পেরেরাকে প্রশংসায় ভাসান অধিনায়ক চান্ডিমাল, ‘থিসারা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আজ সে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ভালো করেছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচ শেষেই আমরা সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটারকে (অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ) হারিয়েছি। এরপর থিসারা জ্বলে উঠল এমনভাবে। আমি সত্যিই আনন্দিত।’ আনন্দিত ফাইনালের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখার জন্যও। একই সঙ্গে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের প্রশংসাও করেন তিনি ‘চন্দিকার সঙ্গে কাজ করাটা সম্মানের এবং আনন্দের। তাঁর ক্রিকেটপ্রজ্ঞা প্রশ্নাতীত। এখন ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের তাঁর কাছ থেকে শিখতে হবে। আর প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর দলের অবস্থা বেশ কঠিন ছিল। সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু এরপর অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ কাঙ্ক্ষিত ফল পেলাম আমরা।’

শ্রীলঙ্কা তা পেল বলেই না ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা টিকে রইল! ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হওয়ার জন্য শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা!


মন্তব্য