kalerkantho


বড় লক্ষ্যে ঝাঁপাবে সাইফ স্পোর্টিং

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বড় লক্ষ্যে ঝাঁপাবে সাইফ স্পোর্টিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে পা রেখেই সাইফ স্পোর্টিং এএফসি কাপের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে। তারা আজ আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচটি জয়ে স্মরণীয় করে রাখতে পারলেই টুর্নামেন্টের বন্ধ দুয়ার খোলার সম্ভাবনা জাগবে।

সম্ভাবনার গান গেয়েই সাইফের ইংলিশ কোচ রায়ান নর্থমোর সদলবলে ঝাঁপাবেন এএফসি কাপের প্লে-অফে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে। ঢাকার ম্যাচের পর তারা ৩০ জানুয়ারি মালদ্বীপে খেলবে অ্যাওয়ে ম্যাচ। এই দুই লেগের বৈতরণী পার হতে পারলেই সাইফ স্পোর্টিং প্রথমবারের মতো এএফসি কাপ খেলার সুযোগ পাবে।

চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে রানার্স-আপ হয়ে গত বছরই তারা প্রিমিয়ারে উঠেছে। সেখানেও জায়ান্ট হয়ে তাদের আত্মপ্রকাশ। দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় এবং দীর্ঘকালীন প্রস্তুতি ক্যাম্প মিলিয়ে বেশ শোরগোল ফেলেছিল প্রথম মৌসুমে। তবে মাঠের খেলায় অতটা হয়নি, ফেডারেশন কাপ ও প্রিমিয়ার লিগের কোনোটিতেই থাকতে পারেনি সেরা দুইয়ের মধ্যে। লিগে হয়েছে চতুর্থ, তবে অন্য দলগুলো এএফসি ক্লাব লাইসেন্সিং শর্ত পূরণ করতে পারেনি বলেই এএফসি কাপে খুলে গেছে তাদের ভাগ্য। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে তারা প্রথমবারেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ রাঙাতে চায়। এটা শুধুই চাওয়া নয়, কোচ রায়ান নর্থমোরের কথা ধরলে নবাগত দলটি আট ঘাট বেঁধেই নেমেছে, ‘আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে অভিষেকের জন্য আমরা প্রস্তুত। বিকেএসপিতে আমরা কিছু সময় কাটিয়েছি, ভালো প্রস্তুতি হয়েছে আশা করি। লোনে আমরা আটজন দেশি ফুটবলার নিয়েছি স্কোয়াডকে শক্তিশালী করতে। এই নতুন খেলোয়াড়রাও আমাদের দলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে।’ লিগের তৃতীয় দল চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে নেওয়া আটজনের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী হলেন গোলরক্ষক আশরাফুল রানা। কারণ নিয়মিত গোলরক্ষক জিকোর ফর্ম মোটেও ভালো যাচ্ছে না, যে কারণে লিগে ভুগতে হয়েছে তাদের।

তবে লিগে তাদের চরম হতাশ করেছেন ওয়েডসন অ্যানসেলমে। বড় স্বপ্ন নিয়ে মধ্যবর্তী দলবদলে এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ডকে নিয়েছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয় লেগের প্রথম ম্যাচে একটু ঝলক দেখা গিয়েছিল তাঁর পায়ে, এরপর প্রতি ম্যাচেই তিনি নিভু প্রদীপ। তাঁকে ছেড়ে দিয়ে নিয়েছে মোহামেডানের হয়ে ১৩ গোল করা স্ট্রাইকার কিংসলে চিগোজিকে। ফরোয়ার্ড লাইনে এই নাইজেরিয়ানের সঙ্গী হবেন সাইফের ঘরের বিদেশি চার্লি শেরিংহাম, ১০ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। মাঝমাঠে ফিরেছেন কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার কর্দোভা, এ ছাড়া এশিয়ান বিদেশি কোটায় যোগ হয়েছেন উমারজনব আখরর। খেলোয়াড় সংযুক্তির পাশাপাশি উপদেষ্টা কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন মারুফুল হক। উয়েফা লাইসেন্সধারী এই কোচের পরামর্শ টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পাথেয় হবে মনে করছে ক্লাবটি। 

টুর্নামেন্ট পরের কথা, প্লে-অফ উত্তরণ আগে। এই লড়াইয়ে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাব খানিকটা হলেও এগিয়ে আছে। কারণ গত বছর তারা চট্টগ্রামে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আবাহনী-মোহামেডান তো বটেই, ফাইনালে কোরিয়ান এফসি পোচেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। সুবাদে টিসির কোচ মোহাম্মদ নিজামের জন্য বাংলাদেশে খেলা এক অন্য রকম সুখানুভূতি, ‘আবার এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে। গতবার যেভাবে খেলেছি, সেই ধারায় খেলার প্রত্যাশা করছি। তবে শুধু ১২ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা প্লে-অফ খেলতে এসেছি। ১৫ ডিসেম্বর আমাদের প্রেসিডেন্টস কাপ শেষ হয়েছে, খেলোয়াড়রা অনেক ক্লান্ত ছিল বলে ছুটি দিতে হয়েছে। প্রাক-মৌসুম ট্রেনিংয়ের সময়ই পাওয়া যায়নি।’ অবশ্য স্থানীয় দলগুলো থেকে কয়েকজনকে ধারে নিয়ে তারা দলের শক্তি বাড়িয়েছে। তাদের খেলার একটা ছবি সাইফের কোচ নর্থমোরের মাথায় আছে, ‘তাদের খেলোয়াড়দের ফিটনেস ভালো এবং তারা কাউন্টারে খেলে। আর মাঝমাঠ মোটামুটি। তাদের বিপক্ষে আমাদের ভালো পারফরম করার সুযোগ আছে।’

নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ আছে দুই দলেরই। সাইফ স্পোর্টিং যেমন দেশের শীর্ষ ফুটবলে নবাগত, তেমনি প্রিমিয়ারে টিসি স্পোর্টসের বয়সও বেশি নয়। ২০১৪ সালে প্রিমিয়ারে নাম লেখানো দলটি তিনটি মৌসুম পার করলেও এখনো শিরোপার স্বাদ পায়নি। রানার্স-আপ হিসেবে এই প্রথম তাদের অভিষেক হবে এএফসির কোনো ম্যাচে। তেমনি আন্তর্জাতিক অভিষেকের জন্য তৈরি সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবও। স্বাভাবিকভাবে দুই দলই স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে ম্যাচটি। তাতে বিকেল ৩টায় দুই দলের অভিষেক ম্যাচ দেখার জন্য অপেক্ষা করছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।


মন্তব্য