kalerkantho


অভিষেকের হিড়িক

৩ ফরম্যাট ৯ ম্যাচ ৩২ ক্রিকেটার

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



৩ ফরম্যাট ৯ ম্যাচ ৩২ ক্রিকেটার

তিন ফরম্যাট। ছয় সপ্তাহ। ৯ ম্যাচ। ১১ বার দল ঘোষণা। ৩২ জন ক্রিকেটারকে ডাকা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বিপর্যয়ের সারাংশ যেন লেখা হয়ে আছে এই সংখ্যাগুলোতেই।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও শূন্য হাতে ফিরেছিল বাংলাদেশ। তবে তাতে সর্বহারার হাহাকার এমন গমগমে ছিল না। দূরদেশের অচেনা কন্ডিশনের দোহাই ছিল যে! সঙ্গে প্রত্যাশা ঘরের মাটিতে প্রবল প্রত্যাবর্তনের। প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়ে এবং নিজেদের হারিয়ে খোঁজা শ্রীলঙ্কা বলে আশার ঘুড়ির ওড়াউড়ি ছিল প্রবল। সেটি যে এমন ভোকাট্টা হয়ে যাবে, তা কে ভাবতে পেরেছিলেন!

ত্রিদেশীয় সিরিজের ডাবল লিগের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮২ রানে অল আউটে ছিল অশনিসংকেত। কেউ তা আমলে নেয়নি সেভাবে। ফাইনাল হারে তাই একেবারে হতভম্ব হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ধীরগতির উইকেটের ধরন নিয়ে বেজে ওঠে ক্ষোভের সাইরেন। কিন্তু টেস্ট সিরিজে টার্নিং ট্র্যাক বানিয়েও তো লাভ হয়নি। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাটিংস্বর্গ বানিয়েও না। আর এই তিন ধরনের ২২ গজেই অসহায় আত্মসমর্পণের জন্য দল নির্বাচনের ওই অস্থিরতার দায়টা যে এড়ানো যাচ্ছে না কিছুতেই!

ছয় সপ্তাহে তিন ফরম্যাটে ৯ ম্যাচে ১১ বার দল ঘোষণায় ৩২ ক্রিকেটারকে ডাকা—ভাবা যায়!

ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয় ৭ জানুয়ারি। ১৬ সদস্যের স্কোয়াড। পরের দুই ম্যাচের জন্য স্কোয়াড নেমে আসে ১৫-তে; বাদ পড়েন ইমরুল কায়েস। ফাইনালের জন্য সেই ওপেনারকে যোগ করা হয় আবার; দল হয়ে যায় ১৬ সদস্যের। পাঁচ ম্যাচের জন্য তিনবার দল ঘোষণা—অবাক করা বই কি!

তবে এটিকেও ছাড়িয়ে যায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট। ওখানে যে এক ম্যাচের জন্যই দল ঘোষণা তিনবার! এখানে সাকিব আল হাসানের ইনজুরির বড় দায়; কম দায় নয় নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তহীনতারও। শুরুতে সাকিবকে অধিনায়ক করে প্রথম টেস্টের জন্য ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওই অলরাউন্ডার ইনজুরিতে পড়লে সে রাতেই তাঁর বিকল্প হিসেবে ডাকা হয় সানজামুল ইসলাম ও তানভীর হায়দারকে। পরদিন যোগ করা হয় অভিজ্ঞ আব্দুর রাজ্জাককে। অর্থাত্, এক সাকিবের বদলে তিন ক্রিকেটার! আর ঘরের মাঠে টেস্ট স্কোয়াড হয়ে যায় ১৬ জনের।

দ্বিতীয় টেস্টের জন্য তা নামে ১৫ জনে। না খেলেই বাদ রুবেল হোসেন; সঙ্গে অভিষেকে খরুচে বোলিং করা সানজামুল ইসলামও। স্কোয়াডে ফেরেন সাব্বির রহমান। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল গঠন নিয়েও কম সার্কাস হয়নি। এই দল ঘোষণাও চারবার। শুরুতে সাকিবকে অধিনায়ক করে। পরে এই অলরাউন্ডার নিজেই তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুও বলেন যে, প্রথম ম্যাচ যে সাকিব খেলতে পারবেন না, তা আগে থেকেই জানতেন। এরপর শুধু প্রথম টি-টোয়েন্টির জন্য সাকিবহীন দল ঘোষণা, যেখানে তাঁর স্থলাভিষিক্ত আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম। অনুশীলনে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম ব্যথা পেলে স্কোয়াডে ডাকা হয় মোহাম্মদ মিঠুনকে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সাকিবহীন এই স্কোয়াডটিই থাকে।

গত এক মাসে বাংলাদেশ দলে ডাক পাওয়া ৩২ ক্রিকেটারের মধ্যে ৯টি ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন শুধু চারজন—তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহ ও মুস্তাফিজুর রহমান। শুধু ওয়ানডের পাঁচ ম্যাচে পাঁচজন—মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, এনামুল হক, নাসির হোসেন ও আবুল হোসেন। শুধু টেস্ট স্কোয়াডে আটজন—লিটন দাশ, মমিনুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, নাঈম হোসেন, তানভীর হায়দার ও আব্দুর রাজ্জাক। শুধু টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে আরো আটজন—সৌম্য সরকার, আবু হায়দার, আবু জায়েদ, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান, জাকির হাসান, আফিফ হোসেন ও নাজমুল ইসলাম। এর মধ্যে শেষ ছয়জন প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে।

বাকি সাতজনের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে; মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও মোহাম্মদ মিঠুন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে। সাব্বির রহমান ছিলেন না শুধু প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে। রুবেল হোসেন বাদ শুধু দ্বিতীয় টেস্টে। ইমরুল কায়েস ত্রিদেশীয় সিরিজের তিন ম্যাচের সঙ্গে টেস্ট সিরিজে ছিলেন। আর সানজামুল ইসলাম ওয়ানডে সিরিজ ও প্রথম টেস্টে।

৯ ম্যাচে ৩২ ক্রিকেটার ডাকায় থাকতে পারে দুটো বার্তা। হয়তো ভালো মানের ক্রিকেটারের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে বাংলাদেশ নয়তো ওই মানখরায় ডাকতে হচ্ছে যাকে-তাকে। হয় প্রতি ফরম্যাটের প্রতি ম্যাচের জন্য রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা, নয় কোনো পরিকল্পনাই নেই।

কোন বার্তা নেবেন আপনি—তিন ফরম্যাটের ফল দেখে সিদ্ধান্তে আসুন!


মন্তব্য