kalerkantho


পূর্ণতার দিকে সাফওয়ানের গল্প

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পূর্ণতার দিকে সাফওয়ানের গল্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পরশু শুরু হওয়া লন্ডনি বক্সারের গল্পটা এক নির্দিষ্ট বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছিল। হয় ম্যাড়মেড়ে হয়ে পড়বে নয়তো মধুরেণ সমাপয়েতের দিকে যাবে। সেমিফাইনালের সেই বাঁক অতিক্রম করে আল সাফওয়ান উদ্দিনের গল্পটা সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে ফাইনালের মঞ্চে দাঁড়িয়ে।

সেমিফাইনালটা ছিল সাফওয়ানের জন্য বড় পরীক্ষা। আগের দিন জেলার এক অখ্যাত তরুণকে রক্তাক্ত করার মধ্যে তেমন কৃতিত্বের কিছু ছিল না। তাই কাল সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত এবং সাফের দলে থাকা ফয়সালের বিপক্ষে তিনি কেমন লড়তে পারেন, সেটা ছিল দেখার বিষয়। এই লড়াইয়ের ওপরই যেন নির্ভর কছে পিতৃভূমে প্রবাসী বাংলাদেশি বক্সারের ভাগ্য। তিন রাউন্ডে কঠিন লড়াই হয়েছে তাঁর সঙ্গে ফয়সালের। দ্বিতীয় রাউন্ডে সেনা বক্সার একবার রিংয়ে লুটিয়ে পড়লেও ভালো খেলেছেন শেষ রাউন্ডে। এমন টেকনিক্যাল খেলা যে সাধারণ চোখে হার-জিতের নির্ণায়ক খোঁজা কঠিন। তা ছাড়া মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে সেনা সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং উল্লাসে সব দেখা-বোঝাই তালগোল পাকিয়ে যাওয়ার দশা। ফল ঘোষণার আগে হঠাৎ রিংয়ে দাঁড়িয়ে সাফওয়ান নিজেই দুহাত তুলে নিজের নামে জয়ধ্বনি দিতে শুরু করেন। মিনিটখানেক পর এটাই সত্যি হলো—তাঁর হাতই উঁচিয়ে ধরলেন রেফারি। ‘জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম আমি। কারণ আমি জানি, বক্সিংয়ের পয়েন্টের খেলাটা। কিভাবে খেলতে হয় এবং কোথায় মারলে পয়েন্ট পাওয়া যায়, সেটা আমি খুব ভালোভাবে জানি। দ্বিতীয় রাউন্ডে ফয়সালকে যখন লুটিয়ে ফেললাম তখন তার পয়েন্ট কাটা গেছে। এটা আমাকে খুব উজ্জীবিত করেছে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে’— সহাস্যে নিজের কৃতিত্বের কথা বলেছেন ১৯ বছর বয়সী বক্সার।

ম্যাচটার গুরুত্ব সাফওয়ানও টের পেয়েছিলেন আর তাই যেন ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন। সেমিফাইনাল জেতার পর দেশি-বিদেশি বক্সারদের মধ্যে একটা পার্থক্য ধরার চেষ্টা করেছেন এভাবে, ‘ইংল্যান্ডে আমি যাদের সঙ্গে খেলি তারা অনেক বেশি টেকনিক্যাল আর এখানকার বক্সারদের বেশি আছে স্পিরিট। যেমন আমার প্রতিপক্ষ লুটিয়ে পড়ার পরও দাঁড়িয়ে গেছেন, লড়াই করেছেন। এটা আমার ভালো লেগেছে।’ ১৯৯৫ সালে তাঁর মা-বাবা বিয়ানিবাজার ছেড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানোর পর তাঁর জন্ম। আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে গিয়েই তাঁর বক্সিংয়ে আগ্রহ তৈরি হয় এবং ক্লাব পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।  

ওখানে স্থানীয়ভাবে সফল হলেও ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে ওঠা কঠিন। তাই মা-বাবার দেশে ফিরেছেন আন্তর্জাতিক বক্সার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। তার আগে এ দেশের জাতীয় লড়াইয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। ফাইনাল জিততে হবে আজ ৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে। তাঁর সেমিফাইনাল দেখেই উচ্ছ্বসিত সাবেক বক্সার ও বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান, ‘এই অল্প বয়সে ওর টেকনিক ও স্টেপিং খুব ভালো। আধুনিক বক্সিংয়ের কৌশল জানে। সেমিফাইনালে সাফওয়ান খুব ভালো খেলেছে। তাকে দিয়েই আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা সম্ভব।’ ফেডারেশন সম্পাদক ফাইনালের আগেই সাফওয়ানকে পৌঁছে দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়! গল্পটা বোধহয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পূর্ণতার দিকেই যাচ্ছে।

একই দিনে কমনওয়েলথ গেমসগামী আরেক সম্ভাবনাময় বক্সার বিজেএমসির রবিন মিয়া হেরে গেছেন সেনাবাহিনীর খোরশেদ আলমের কাছে। তবে তাঁর এই হার অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বক্সিং স্টেডিয়ামে উত্তেজনা ছড়িয়ে আনসার ও সেনা সমর্থকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আনসারের কোচ শফিউল আজমের দাবি, ‘বিচারকরা পক্ষপাতদুষ্টু ছিলেন। তাঁরা জোর করে রবিনকে হারিয়ে দিয়েছেন।’


মন্তব্য