kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

বক্সিংয়ের দুর্দিনে সাফওয়ান আশার আলো

অনেক দিন বাদে বক্সিং রিং আবার জমজমাট। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ইংল্যান্ডপ্রবাসী আল সাফওয়ান। ২০১০ এসএ গেমসের সোনাজয়ী বক্সার আব্দুর রহিম কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে এই টুর্নামেন্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে উচ্চাশার কথা জানিয়েছেন সাফওয়ানকে নিয়েও

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বক্সিংয়ের দুর্দিনে সাফওয়ান আশার আলো

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : চারবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন আপনি, পঞ্চম সোনার মিশন নিয়ে কতটা আশাবাদী?

আব্দুর রহিম : দুটি ম্যাচ জিতে এরই মধ্যে সেমিফাইনালে উঠে গেছি। সোনার জন্য বাকি আর দুটি ম্যাচ। শিরোপা ধরে রাখার জন্যই তো খেলছি। দেখা যাক।

প্রশ্ন : প্রস্তুতি যথেষ্ট হয়েছে?

রহিম : যথেষ্ট হয়েছে হয়তো বা। তবে শতভাগ হয়েছে বলা যাবে না। কারণ মাঝখানের একটা সপ্তাহ সেনাবাহিনীর নিজস্ব ট্রেনিংয়ে পুরোপুরি বক্সিংয়ের বাইরে ছিলাম। ফিরে এক সপ্তাহ অনুশীলন করেই আবার রিংয়ে নেমেছি। আশা করি সোনা জয়ের পথে সেটা খুব একটা বাধা হবে না। বাহিনীতে তো আমরা সারা বছরই অনুশীলনের সুযোগ পাই। জানুয়ারি থেকে আবার কমনওয়েলথ গেমসের জন্যও প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম।

প্রশ্ন : যে দুজনকে হারিয়েছেন, তাঁরা কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন?

রহিম : আমার খুব বেশি সমস্যা হয়নি। দুজনই ইংল্যান্ডপ্রবাসী। একজন অবশ্য অনেক দিন থেকেই দেশে আছে, আরেকজন মাসখানেক। তবে বক্সিং শেখাটা ওদের ইংল্যান্ডেই, একজন নাকি ইউএফসিও খেলে। তবে এখানে এসে সেভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি। ইউএফসিতে তো হাঁটু, পায়ের ব্যবহারও আছে। বক্সিংটা তো ভিন্ন। তবে ৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে যে খেলছে সাফওয়ান, ওকে কিন্তু বেশ ভালো মনে হয়েছে।

প্রশ্ন : হ্যাঁ, সাফওয়ানকে নিয়ে অনেকেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন, আপনি ওকে ঠিক কেমন দেখলেন?

রহিম : ওর আসলেই সম্ভাবনা আছে। স্কিল, বেসিক খুবই ভালো। আমাদের এই ওজন শ্রেণিতে ভালো বক্সারের যে ঘাটতি আছে, ওকে দিয়ে সেটা পূরণ করে নেওয়া সম্ভব। সামনের বছর এসএ গেমস হবে, সেখানেও সাফওয়ানকে নিয়ে ভালো একটা কিছু আশা করা যায়।

প্রশ্ন : ওর পরিকল্পনার কথা কিছু জানতে পেরেছেন?

রহিম : ওর বাবা বলছেন ওকে ইংল্যান্ডে রেখেই ট্রেনিং করাবেন। প্রতিযোগিতার সময় হয়তো দেশে নিয়ে আসবেন। আমার মনে হয় সেটাই ভালো হবে। কারণ এখনে প্রশিক্ষণের মানের তো ঘাটতি আছে, সেই মানের তো কোচও নেই। সাফওয়ানের এই পারফরম্যান্সটাকে ধরে রাখতে হলে তাই ইংল্যান্ডে থাকাই ভালো। আমাদের দুর্দিনের বক্সিংয়ে ও একটা আশার আলো।

প্রশ্ন : বক্সিংয়ে দুর্দিন তো নিয়মিত খেলার অভাবেই?

রহিম : হ্যাঁ, এটাই বড় কারণ। নিয়মিত টুর্নামেন্ট হলেই অনেক নতুন বক্সার বেরিয়ে আসত। কিন্তু আমাদের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপটাই অনিয়মিত, আর বড় কোনো টুর্নামেন্টও নেই। প্রতিভাবান কেউ এলেও পরিচর্যা নেই, ভালো কোচিংয়ের অভাব।


মন্তব্য