kalerkantho


শিরোপাপ্রত্যাশী বাড়লেও ফুটবলার বাড়েনি

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শিরোপাপ্রত্যাশী বাড়লেও ফুটবলার বাড়েনি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক সাফল্য কিংবা জনপ্রিয়তায় দেশের ফুটবল যত পেছনে ঠিক ততটাই এগিয়ে ফুটবলাররা। ফুটবলের এই দুর্দিনেও ফুটবল খেলা দারুণ এক পেশা। প্রিমিয়ারের দলবদলের সময় এটা খুব ভালোভাবে বোঝা যায়। এক-আধটু খেলতে পারলেই নাকি চোখ-মুখ বন্ধ করেই দাম হাঁকিয়ে বসে ফুটবলাররা। ক্লাবগুলোরও করার খুব বেশি কিছু থাকে না। কারণ খেলোয়াড় সংকট প্রকট অথচ শিরোপার দল গড়তে চায় সাত দল!

পেশাদার যুগের আগে শক্তিশালী দল গড়ত চার ক্লাব—ঢাকা আবাহনী, মোহামেডান স্পোর্টিং, মুক্তিযোদ্ধা ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন। পেশাদার ফুটবল চালু হওয়ার পর সেই শক্তিশালী দলের সংখ্যা বেড়েছে। বাড়তে বাড়তে তা এখন সাত দলে ঠেকেছে। আবাহনী, শেখ জামাল ধানমণ্ডি, চট্টগ্রাম আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং, মোহামেডান, শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ও নবাগত বসুন্ধরা কিংস। সাতটি ক্লাব ভালো দল গড়ার লক্ষ্যে নামলে খেলোয়াড় সংকট প্রকট হবেই। তাই গত কয়েক বছরে যারা খানিকটা খেলে নামে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, তাদের পোয়াবারো অবস্থা হয়েছে। পাশাপাশি ছোট দলে গত মৌসুমে যারা একটু ঝলক দেখিয়েছে তাদের বৃহস্পতিও তুঙ্গে।

আরামবাগের কোচ মারুফুল হকও মনে করেন, ‘বাজারে অনেক ভালো খেলোয়াড় থাকলে দর-দামেও একটা যৌক্তিক এবং স্থিতাবস্থা থাকত। খেলোয়াড়দের নিয়ে টানাটানি হলে তারা সুযোগ নেবেই। এ জন্য দরকার খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থা করা। আমাদের এই অঞ্চলের প্রায় সব দেশ তৃণমূল থেকে ফুটবল স্কুলিং শুরু করেছে। আমাদের সে ব্যবস্থা নেই বলে আজ সংকট তৈরি হয়েছে।’ ক্লাবে একাডেমি কালচার নেই, ফুটবল ফেডারেশন চালু করেও সংগতির অভাবে চালাতে পারেনি।

সংকটের আরেকটি কারণ ঢাকার বাইরে জেলা লিগগুলো একদম বন্ধ। সেখানে নিয়মিত খেলা হয় না বলে নতুন খেলোয়াড়ও উঠে আসছে না। আশি-নব্বইয়ের দশকে একাডেমি ব্যবস্থা না থাকলেও প্রতিবছর বাইরে থেকে দুর্দান্ত সব ফুটবলার ঢাকায় আসত। নিয়মিত খেলার কারণে তখন পাওয়া যেত অনেক ফুটবলার, সুবাদে প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব হতো না। বাফুফের বর্তমান কমিটির নির্বাচনী ইশতেহারে জেলা ফুটবল চালুর প্রতিশ্রুতি থাকলেও এখনো করতে পারেনি। জেলা ফুটবল কমিটি গঠন করলেও তার কোনো কার্যক্রম নেই। তাই দেশের শীর্ষ ফুটবল পড়েছে কঠিন খেলোয়াড় সংকটে।

 


মন্তব্য