kalerkantho


সালাউদ্দিনের সেঞ্চুরিতে রূপগঞ্জের জয়

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সালাউদ্দিনের সেঞ্চুরিতে রূপগঞ্জের জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মারকুটে ব্যাটিংয়ের সুনাম তাঁর আগে থেকেই। সেই সূত্রে প্রচুর ‘খেপ’ খেলার আমন্ত্রণ পেয়ে আসা সালাউদ্দিন পাপ্পু বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের জন্য আলাদা একটি নামও পেয়েছেন। ফেসবুক প্রফাইলে নিজের আসল নামের সঙ্গে ব্র্যাকেটে জুড়ে দিয়েছেন সেই ‘পাপ্পু বস’ নামটিও। এবার ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগেও রাখলেন মারমুখী ব্যাটিংয়ের সুনাম। বিকেএসপিতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে গতকাল করলেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। ৮১ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়া পাপ্পুর ৯৫ বলে ১২৫ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ৩১৪ রানের বিশাল স্কোর গড়া রূপগঞ্জ ২৬ রানে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রকে হারায়ইনি শুধু, উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার ২ নম্বরে। ৯ ম্যাচে ষষ্ঠ জয়ে তাঁদের পয়েন্ট এখন ১২। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে এখনো আবাহনীই।

সমানসংখ্যক ম্যাচে সপ্তম হারে অবনমনের চোখ-রাঙানি এখন কলাবাগানের সামনে। তবে চলতি প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্বের প্রায় শেষাঙ্কে এসে সুপার লিগে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তুলেছে নিচের সারির দলের মর্যাদা পেয়ে আসা খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল ১০ ওভার বাকি থাকতেই তারা ৬ উইকেটের অনায়াস জয় তুলে নিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডির বিপক্ষে। ৯ ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান এখন ৫ নম্বরে। ফতুল্লায় ব্রাদার্সকে ৩ উইকেটে হারানোর পরও অবনমনের শঙ্কা রয়ে গেছে নবাগত অগ্রণী ব্যাংকের।

৪৬ রানে ওপেনার আব্দুল মজিদকে (২০) হারানোর পর মোহাম্মদ নাঈমের (৪৫) সঙ্গে ১৫০ রানের দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপে পাপ্পু রূপগঞ্জের বড় সংগ্রহের ভিত দিয়ে যান। তাঁর ইনিংসে ১২টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল আটটি ছক্কার মারও। তাঁর বিদায়ের পর অধিনায়ক নাঈম ইসলামের (৫৩ বলে ৬১*) আরেকটি ঝোড়ো ইনিংস রূপগঞ্জকে ৩০০ পার করে নেয়। তবে ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রীভাটস গোস্বামী (৭৫) এবং মোহাম্মদ আশরাফুলের (৬৪) ব্যাটে দারুণ জবাব দিতে থাকা কলাবাগান পথ হারান পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা আর কার্যকর ইনিংস খেলতে না পারায়। অবশ্য কলাবাগানকে ২৮৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কম ভূমিকা রাখেননি রূপগঞ্জের ভারতীয় অফস্পিনার পারভেজ রসুল (৩/৫০) ও বাঁহাতি স্পিনার আসিফ হাসানও (৩/৪৩)।

আগের পাঁচ ম্যাচে কোনো উইকেটই না পাওয়া আরেক বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম ৩০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে শেখ জামালকে গুটিয়ে দিয়েছেন ১৬৭ রানে। ৬৯ রানে ৬ উইকেট হারানো দলটি অত দূরও যেত না, যদি না লেগস্পিনিং অলরাউন্ডার তানভীর হায়দার (৬৫ বলে ৫২) রুখে দাঁড়াতেন। ওদিকে ওপেনিংয়ে মিজানুর রহমান (১০২) ও জুনায়েদ সিদ্দীকের (৯২) ব্রাদার্সের রান ৬ উইকেটে ২৮৯, কারণ ওপেনারদের দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে অন্যদের সুবিধা করতে না পারা। আজমীর আহমেদ (৬৫), সালমান হোসেন (৬৩), ঋষি ধাওয়ান (৭০) এবং জাহিদ জাভেদ (৫৫)—এই চার ফিফটিতে ৫ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া অগ্রণী ব্যাংক তুলে নিয়েছে লিগে তাদের তৃতীয় জয়।


মন্তব্য