kalerkantho


একটু বাড়াবাড়িই হয়েছিল সেদিন

মনে করেন তাঁরা

২০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



একটু বাড়াবাড়িই হয়েছিল সেদিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ঘটনার আকস্মিকতা কেটে গেলে নিজেদের ভুলভ্রান্তিগুলোও ধরা পড়তে শুরু করে। যেমন ধরা পড়ছে বাংলাদেশ দলের কাছেও। ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফির অঘোষিত সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নো বল কাণ্ডে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ব্যাটসম্যান মাহমুদ উল্লাহ ও রুবেল হোসেনকে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসতে বলার ব্যাপারটি ‘ভুল’ ছিল বলেই মনে করছেন বাংলাদেশ শিবিরের অনেকে। এঁদের অন্যতম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদও। তাঁর ভাষায়, ‘না, আমি একদমই বলব না যে প্রতিবাদ করাটা ওইভাবে ঠিক ছিল। কারণ দিনের শেষে এটি খেলাই। সাকিব যেটা করেছে, পুরো আবেগী হয়ে করেছে।’

আবেগ থেকে যেভাবে প্রতিবাদ করেছেন সাকিব, সেটিকে বাড়াবাড়ি বলেও মনে হয়েছে অনেকের কাছেই। এর সঙ্গে দ্বিমত করলেন না মাহমুদও। গতকাল দুপুরে দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি এ সাবেক অধিনায়কও বলছিলেন সে কথাই, ‘প্রতিবাদের ভাষাটা একটু বেশিই হয়ে গেছে।’ তাই বলে মাহমুদ আবার কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখানোরও পক্ষপাতী ছিলেন না। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সাকিব ব্যাটসম্যানদের চলে আসতে বলার পর তা ঠেকানো মাহমুদ মনে করেন, অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া দেখানোটা দরকারও ছিল। তাঁর মতে, ‘আমরা নিজেরাও দেখেছি নো বল ডাকা হয়েছে, তার পরও নো বল কেন দেওয়া হবে না? আম্পায়াররা যে ভুল করেছে, সেটা আপনারাও জানেন। তবে আমি মনে করি, একদিক দিয়ে সাকিবের আক্রমণাত্মক হওয়াটা দরকার ছিল।’

অতীতে বিভিন্ন আসরে বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হওয়ার স্মৃতি ফিরে ফিরে আসছে বলেই মাহমুদ মনে করছেন, প্রতিক্রিয়া দেখানোটা জরুরি ছিল, ‘কারণ অনেক টুর্নামেন্টেই এমন হয়েছে। বিশ্বকাপে মেলবোর্নে (ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে) আপনারা যদি দেখেন, ওইখানেও আমাদের বেশ কিছু সমস্যা হয়েছিল। এবারও আম্পায়ারের কিছু সিদ্ধান্তে আমাদের এমন হতে হয়েছে।’ সব কিছুর পরেও মাঠে খেলে জবাব দেওয়ার ব্যাপারটিও তৃপ্তি দিচ্ছে মাহমুদকে, ‘তার পরও পরিস্থিতি ঠিক হয়েছে। আমরা খেলেছি, খেলে মাঠেই দারুণ জবাবও দিয়েছি। সেটাই বড় ব্যাপার ছিল আমাদের জন্য।’

সেই জবাব দেওয়ার আগে আম্পায়ারের নো বলের সংকেত দিয়েও তা প্রত্যাহার করার ঘটনায় থিসারা পেরেরার সঙ্গে লেগে যায় নুরুল হাসানের। একাদশের বাইরে থাকা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানকে দেখা যায় লঙ্কান অধিনায়ককে তর্জনী উঁচিয়ে শাসাচ্ছেন। কাল দেশে ফিরে নুরুলও জানিয়েছেন সেই ঘটনার বৃত্তান্ত, ‘‘মাঠে ঢুকে রিয়াদ (মাহমুদ উল্লাহ) ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তো স্কয়ার লেগ আম্পায়ারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, প্রথম বলটি বাউন্সার দেওয়া হয়েছিল কি না। তখন থিসারা এসে বলে, ‘তুমি কথা বলার কে, তুমি যাও, তোমার কথা বলা লাগবে না।’ আমি বলি, ‘তোমার সঙ্গে তো আমি কথা বলছি না।’ তখন ও আমাকে গালি দেয়।’’

নুরুল পাল্টা জবাব দিতেও ছাড়েননি। তাতেই পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক দিন পর ঘটনার ঘোর কেটে যাওয়ার পর এখন নুরুলেরও মনে হচ্ছে, ‘আমার চুপ থাকা উচিত ছিল। বলতে পারেন হিট অব দ্য মোমেন্টে আমিও কথার জবাব দিয়েছি।’ নো বল কাণ্ডে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে লেগে যাওয়ার জেরে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ফাইনালে সমর্থনও হারিয়েছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কানরা ভারতকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে গেছে। সেই প্রসঙ্গও এলো মাহমুদের কথায়, ‘ফাইনালে বাংলাদেশি সমর্থকও ছিল। কিন্তু সবার মাঝে তাঁদের আওয়াজটা খুব কমই শোনা গেছে। তবে এটা খেলারই অংশ। হয়তো আমরা শ্রীলঙ্কার শত্রু বনে গিয়েছিলাম কারণ আমাদের কারণে ওরা ফাইনালে উঠতে পারেনি। সেই আক্রোশ থেকে শ্রীলঙ্কানরা বাংলাদেশের বিপক্ষে গলা ফাটিয়েছে।’

স্বাগতিকদের এই আচরণ অবশ্য অনেকটা ছিল নিজের নাক কাটা যাওয়ার পর পরের যাত্রা ভঙ্গ করার চেষ্টার মতোই!

 



মন্তব্য