kalerkantho


মুন্নার পার্টনার রিসালাত না বাকী

সনৎ বাবলা   

২১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মুন্নার পার্টনার রিসালাত না বাকী

কমনওলেয়থ গেমসের আগে আগে ক্লাভস ক্রিস্টেনসেন যেন একটু ধাঁধায় পড়ে গেলেন! বাংলাদেশের এই ড্যানিশ রাইফেল কোচ গত অক্টোবরে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের দল সাজিয়ে ফেললেও এখন আবার নতুন করে ভাবছেন। রিসালাত না বাকী? দুই শ্যুটারের মধ্যে কে হবেন গোল্ড কোস্টে মুন্নার পার্টনার।

এ দেশে শ্যুটিং সব সময়ই আশা জাগানিয়া। কমনওয়েলথ গেমস এলে সেই আশার পালে লাগে আরেক দফা হাওয়া। এবার গোল্ড কোস্টে বাংলাদেশ ছয়টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিলেও একমাত্র শ্যুটিং দিচ্ছে পদকের প্রতিশ্রুতি। আগামী ২৪ মার্চ অস্ট্রেলিয়া রওনা হওয়ার আগে ক্লাভস ক্রিস্টেনসেন আগের মতোই আশাবাদী, ‘শ্যুটাররা খুব ভালো প্র্যাকটিস করেছে এবং সব কিছুই ভালোভাবে এগোচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ কঠিন ট্রেনিং শেষে শ্যুটারদের ক্লান্তি ঝাড়তে কয়েক দিন বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ভালো কিছুই হবে।’ সব সময়ের মতো এবারও পদকের আলোচনায় ভীষণভাবে আছে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল। গতবারের রুপাজয়ী আবদুল্লাহ হেল বাকীকে বাইরে রেখে গত অক্টোবরে কোচ দল সাজিয়ে ফেলেছিলেন রাব্বি হাসান মুন্না ও রিসালাতুল ইসলামকে নিয়ে। এখন আবার কোচ নিজেই খুলে দিয়েছেন বাকীর দুয়ার, ‘বাকীর জন্য ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের দুয়ার এখনো খোলা আছে। অক্টোবরে মুন্না ও রিসালাতকে নিয়ে এই ইভেন্টের দল চূড়ান্ত করে বাকীকে রেখেছিলাম ৫০ মিটার এয়ার রাইফেলের জন্য। এখন তিনজনকেই রাখছি বিবেচনায়, অস্ট্রেলিয়ায় প্র্যাকটিস দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ এই ইভেন্টে আগে তিনজনের নাম রেজিস্ট্রেশন করিয়ে রাখায় এখন সিদ্ধান্ত বদলের সুযোগ আছে।

কোচকে আসলে দ্বন্দ্বে ফেলে দিয়েছে রিসালাতের প্র্যাকটিস স্কোর। দল গঠনের সময় তাঁর স্কোর ছিল ৬২৭-৬২৯, যা এখন অবিশ্বাস্যভাবে নেমে গেছে ৬১০-৬১১-তে! স্কোর পতনের কারণ নাকি শ্যুটিং জ্যাকেট বদল, তাই আবার আগের জ্যাকেট গায়ে তুলে নিয়েছেন এই তরুণ শ্যুটার। আগে বাকীর খারাপ সময় গেলেও এখন নিশানা ফিরেছে তাঁর রাইফেলে। গড়ে ৬১৮-৬২০ স্কোর করছেন, একবার ৬২৫-ও মেরেছেন! মুন্নার গড় স্কোরও ৬১৮-১২০-এর মধ্যে আছে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের দল নিয়ে কোচ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও ড্যানিশ কোচ বিশ্বাস করেন, ‘তিন শ্যুটারেরই এ ইভেন্টের সেরা আটে ওঠার অর্থাৎ পদকের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য আছে। তবে ৫০ মিটার রাইফেল ইভেন্ট নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী নই।’

তবে পিস্তল কোচ মার্কো সোকিচ পিস্তল ইভেন্টেও পদকের সম্ভাবনা দেখেন, ‘কমনওয়েলথ গেমসে অবশ্যই পদকের সম্ভাবনা আছে। এ ব্যাপারে তো শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় না। তবে ট্রেনিংয়ে আমাদের শ্যুটাররা অনেক উন্নতি করেছে প্র্যাকটিসে। তাদের ট্রেনিং-স্কোর ধরে আমি বলতে পারি, আমাদের পিস্তল শ্যুটারদের কয়েকজন ফাইনালে খেলবেই, এরপর পদকের প্রশ্ন।’ ১০ মিটার ও ৫০ মিটার পিস্তল ইভেন্টের জুটি শাকিল আহমেদ ও আনোয়ার হোসেনের। তবে পদকের আলোটা জ্বালিয়েছেন এসএ গেমসের সোনাজয়ী শ্যুটার শাকিল। তুরস্কে গত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে পদকের খুব কাছাকাছি গিয়েও তিনি পারেননি মাঝপথে পিস্তল নষ্ট হয়ে যাওয়ায়। তিনি ওখানে এত ভালো মারছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের কোচ নাকি আগেভাগে অভিনন্দনও জানিয়ে বসেছিলেন বাংলাদেশের মন্টেনেগ্রো কোচকে। এখন প্র্যাকটিসেও তিনি ভালো মারছেন, এটা গোল্ড কোস্টে ধরে রাখতে পারলে এই তরুণের দুটো ইভেন্টে ফাইনালে খেলার ভালো সম্ভাবনা আছে।

সম্ভাবনা-সুযোগকে বাস্তবে রূপ দিতে এবার আগেভাগেই শ্যুটিং দল পৌঁছে যাচ্ছে কমনওয়েলথ গেমস শ্যুটিং রেঞ্জে। এই যাওয়াটা শ্যুটারদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন মার্কো সকিচ, ‘গেমস শুরুর অনেক আগে যাচ্ছি, এটা আমাদের জন্য খুব ভালো। শ্যুটাররা ওখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় পাবে। তা ছাড়া ২৭ মার্চ থেকে মূল শ্যুটিং রেঞ্জে প্র্যাকটিস করবে, সুতরাং কম্পিটিশনের আগে তাদের আড়ষ্টতা কেটে যাওয়ার সুযোগ আছে।’ ১২ জন শ্যুটার নিয়ে ২৪ মার্চ শ্যুটিং দল পৌঁছে যাবে অস্ট্রেলিয়ায়। এরপর দুই সপ্তাহ ওখানকার হাওয়া-বাতাস এবং রেঞ্জের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর তারা ৮ এপ্রিল থেকে নামবে পদকের লড়াইয়ে।


মন্তব্য