kalerkantho


শিরোপায় মৌসুম শুরু আবাহনীর

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



শিরোপায় মৌসুম শুরু আবাহনীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রয়াত রহমতউল্লাহই জিতলেন। রহমতউল্লাহই জেতালেন। এই সংগঠক যখন ছিলেন তখন কেউ বোঝেনি তাঁর মর্ম। অকালপ্রয়াণের পর সবার উপলব্ধি হয়েছে এবং প্রয়াত সাধারণ সম্পাদকের নামেই নামকরণ হলো ক্লাব কাপ হকির। আর সেই টুর্নামেন্ট জিতল তাঁরই দল, যেখানে খেলে তিনি তারকা হয়েছেন, জিতেছে তাঁর সেই আবাহনী। মেরিনার্সকে ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা চতুর্থবারের মতো জিতেছে ক্লাব কাপ হকির শিরোপা।

ফাইনালে প্রথমে খলনায়ক হয়েই হাজির হয়েছিল বৃষ্টি। আধাঘণ্টার অঝোর ধারায় সব ডুবিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল মাঠে গড়ায় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর। এর পরের ৭০ মিনিটের নায়ক সোহানুর রহমান সবুজ, তাঁর স্টিকের ছোঁয়ায় নীল-আকাশির পালে  বিজয়ের হাওয়া। দুই পক্ষের খেলায় যখন ধারের অভাব, তখনই অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়কের স্টিকে গোলের সুরভি, ‘কোচ আমাকে বলেছিলেন, এই পেনাল্টি কর্নারের হিট তুমিই নেবে। এটা শুনে আমি একটু অবাক হয়েছিলাম, কিন্তু মনে মনে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ভালো হিটের। আমার হিট মেরিনার্সের জালে পৌঁছে যাচ্ছে দেখে এত আনন্দ হয়েছে, বলে বোঝাতে পারব না। শেষ পর্যন্ত এই গোলে শিরোপা জিতেছে...।’ এটা তাঁর ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত এক স্মৃতি হয়ে থাকবে অনেক দিন। ৪০ মিনিটে আবাহনী পায় প্রথম পেনাল্টি কর্নার। মালয়েশিয়ান ইজোয়ান ফেরদৌসের নেওয়া পেনাল্টি কর্নারটি থামায় সারোয়ার, এরপর সবুজের হিট মেরিনার্সের জালে পৌঁছে গেলে আনন্দে মেতে ওঠে আবাহনী শিবির। এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত অমূল্য হয়ে ওঠে।

অথচ প্রথমার্ধজুড়ে খেলার চেয়ে বেশি হয়েছে অকারণ উত্তেজনা। ক্ষণে ক্ষণে খেলা থেমেছে দুই পক্ষের আপত্তিতে। তবে দু-দুবার আবাহনীর শট মেরিনার্সের জাল ছুঁলেও বাতিল হয়ে যায় প্রতিপক্ষের আপত্তির মুখে। এর পরও যে আবাহনী যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে এগোয়নি, আম্পায়ারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে, এটাই দারুণ ব্যাপার। দেশের হকির জন্য এটা আসলে ব্যাপার বটে। দুই পক্ষই নামে বিদেশি নিয়ে। তাঁরাই আসল ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছে, আবাহনীর চার মালয়েশিয়ানের তুলনায় অনেকখানি নিষ্প্রভ মেরিনার্সের তিন ভারতীয়। বিশেষ করে মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড ইজোয়ান ফেরদৌস বারবার হুমকি দিচ্ছিলেন মেরিনার্সের ডিফেন্সে। প্রথমার্ধে মেরিনার্স একটু খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে একদমই খেলতে পারেনি। সেরকম কিছু করতেই পারেননি তাদের দেশি অ্যাটাকাররা। আবাহনী কোচ মাহবুব হারুন নাকি আটকে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের কৌশল, ‘অলিভার চায় বেস-লাইন ধরে খেলতে, ওখান থেকেই অ্যাটাক করতে। সেটা আমি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ওখানেই তাদের খেলার ছন্দপতন হয়েছে।’ সেখানেই জয় হয়েছে আবাহনীর, দেশি খেলোয়াড়ের শক্তিতে পিছিয়ে থেকেও তারা ফাইনাল জিতে নিয়েছে কৌশলে। এরপর এই ট্রফি উৎসর্গ করেছে তারা কৃতী সংগঠক রহমতউল্লাহর নামে।

এই বিজয়ে রোমান সরকার দারুণ গর্বিত, ‘আমার অধিনায়কত্বে আবাহনী শিরোপা জিতেছে, এটা আমার জন্য দুর্দান্ত ঘটনা। শক্তিতে মেরিনার্স এগিয়ে ছিল, কিন্তু আমরা মাথা ঠাণ্ডা রেখেই শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছি। তা ছাড়া কৌশলেও আমরা এগিয়ে ছিলাম।’ দ্বিতীয়ার্ধে মেরিনার্স একদম খেলতেই পারেনি। আবাহনী একটু ডিফেন্সিভ হয়ে খেললে মেরিনার্স খেলার সুযোগ পায়, কিন্তু সেরকম গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। আবাহনীর চার পেনাল্টি কর্নারের বিপরীতে মেরিনার্স পেয়েছে মাত্র একটি। সেটিও ঠিকঠাক পোস্টে রাখতে পারেনি। তবে শেষ হওয়ার মিনিটখানেক আগে নাঈম উদ্দিনের হিট পোস্টে ছিল, কিন্তু গোলরক্ষক নিপ্পন দুর্দান্ত ঠেকিয়ে আবাহনীর লিড ধরে রাখে। এই লিডেই আবাহনী মোহামেডান-ঊষার মতো চতুর্থ ক্লাব কাপ শিরোপা জেতে। ১৪ বছর আগের ফাইনালের মতোই মেরিনার্স হারে আবাহনীর কাছে। তবে মেরিনার্সের জার্মান কোচ অলিভারের আশা, ‘যারা ক্লাব কাপ জেতে তারা সাধারণত লিগ জেতে না।’ এই আশাতেই থাকল মেরিনার্স, তার আগ পর্যন্ত আবাহনী করবে ক্লাব কাপ শিরোপা উদ্‌যাপন। 


মন্তব্য