kalerkantho


বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলিং বনাম ব্যাটিং গভীরতা

১৮ মে, ২০১৮ ০০:০০




বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলিং বনাম ব্যাটিং গভীরতা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আইপিএল মাত করা রশিদ খানকে সামলানো কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে? কিংবা এই লেগ স্পিনারের সতীর্থ অফ স্পিনার মুজিবর রহমানও কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারেন? ইদানীং বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের ইত্যাকার নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে যেতেই হচ্ছে। জবাবও মিলছে। মাত্রই কয়েক দিন আগে মুশফিকুর রহিম জানিয়েছিলেন যে রশিদ-মুজিবদের সামলানোর ছক তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগেই কাটতে শুরু করে দিয়েছেন। কাল একই ধরনের প্রশ্নে মাহমুদ উল্লাহ আফগানিস্তানের বোলিং বৈচিত্র্যকে যেমন সমীহ করলেন, সেই সঙ্গে আস্থা রাখলেন নিজেদের ব্যাটিং গভীরতায়ও। তাঁর বিশ্বাস, এই বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্য আছে বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলিং আক্রমণ সামলে সফল হওয়ার।

৩, ৫ ও ৭ জুন দেরাদুনে অনুষ্ঠেয় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে যে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বই বেশি, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ইনিংসে উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাসে উড়তে থাকা মাহমুদ উল্লাহ। ভোলেননি ব্যাটসম্যানদের কাঁধে বাড়তি দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ব্যাখ্যা দিতেও। তাঁর মতে আফগান বোলিংয়ে বৈচিত্র্য বেশি বলেই সাকিব আল হাসানের দলের ব্যাটসম্যানদের কাজটা বেড়ে যাচ্ছে, ‘ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব থাকবে যেন আমরা বোলারদের ভালো একটা পুঁজি দিতে পারি। কারণ আমরা জানি যে ওদের বোলিংয়ে ভালো বৈচিত্র্য আছে।’

প্রতিপক্ষের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আছে বলে সিরিজটি সহজ হবে না বলেও মানছেন মাহমুদ উল্লাহ, ‘এটা আমাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং একটি সিরিজ হবে বলেই মনে হয় আমার।’ সেই চ্যালেঞ্জ সামলানোর প্রস্তুতিতে এখন নিত্য ভিডিও বিশ্লেষণও চলছে বলে জানালেন তিনি, ‘আমরা ইতিমধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখছি। যদিও মুজিবকে কখনোই খেলা হয়নি আমার। তবে রশিদ খানের বল খেলেছি। এর আগে যখন নিজেদের মাঠে আফগানিস্তানের বিপলে সিরিজ খেলেছি, তখন ওদের বোলারদের খেলেছি।’  

আফগানদের বিপলে যদিও এখন পর্যন্ত একটিই টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। সেটি নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তাতে আফগানদের উড়িয়ে দেওয়া গেলেও সময়ে এই দলটি অনেকটাই পরিণত হয়ে উঠেছে। বোলিংয়ের ধার বেড়েছে। তবে মাহমুদ উল্লাহ মনে করিয়ে দিচ্ছেন বেড়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং গভীরতাও। তাতে এমনই আস্থাশীল যে বলেই দিলেন, ‘ওদের বোলিং আক্রমণের যেমন বৈচিত্র্য আছে, তেমনি আমাদেরও ব্যাটিংয়ের গভীরতা আছে। ওদের বোলারদের সামলানোর সামর্থ্যও তাই আমাদের আছে।’

সেই সঙ্গে নিদাহাস ট্রফি দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে হাত পাকানোর আত্মবিশ্বাসও সঙ্গী মাহমুদ উল্লাহদের, ‘যেভাবে নিদাহাস ট্রফিতে হিসেবি ঝুঁকি নিয়ে খেলেছি, সেই জিনিসগুলোই আসন্ন সিরিজেও প্রয়োগ করা গেলে ইতিবাচক ফল আশা করতেই পারি।’ ব্যাটিং গভীরতায় জোর দেওয়া মাহমুদ উল্লাহ নিজেদের শক্তির দিকগুলো নিয়ে ভাবতেই বেশি আগ্রহী, ‘আমাদের ব্যাটিং গভীরতা যেহেতু আছে, ওটার ওপরই আমাদের জোর দিতে হবে। আর আমাদের বোলিং বিভাগও তো ভালো করছে। সাকিব আছে, অপু (নাজমুল ইসলাম) আছে, মিরাজ আছে। বোলিংয়ে বৈচিত্র্য কিন্তু আমাদেরও আছে। বোলিং শক্তির কথা বললে ওদের আর আমাদের শক্তিতে ভিন্নতা আছে। আমি বলব ওদের শক্তি নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমরা আমাদের শক্তির জায়গাগুলোতে মনোযোগী হলেই ভালো।’

কথায় কথায় এলো টি-টোয়েন্টি র্যাংকিং প্রসঙ্গও। যেখানে আফগানরা বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে। তারা ৮ নম্বরে আর বাংলাদেশ ১০ নম্বরে। যদিও আফগানরা সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে এগিয়ে গেছে ছোট দলগুলোর সঙ্গে বেশি বেশি ম্যাচ খেলেই। মাহমুদ উল্লাহ অবশ্য সে প্রসঙ্গে গেলেন না। তিনি বরং মনে করছেন র্যাংকিংয়ে এগোনোর সুযোগ হয়েই আসছে দেরাদুনের তিন ম্যাচের সিরিজ, ‘আমরা সঠিকভাবে নিজেদের প্রয়োগ করতে পারলে দারুণ একটা সিরিজ হবে। আপনি যদি র্যাংকিং দেখেন, ওরা আটে আর আমরা দশে। আমার মনে হয় এটা আমাদের জন্য ভালো একটি সুযোগ।’

এই সুযোগটা কাজে লাগাতে হলে একটি শর্তও জুড়ে দিচ্ছেন মাহমুদ উল্লাহ। সেটি হলো শুরুটা ভালো হওয়া চাই, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট দল বড় দল বলে কিছু নেই। জিততে হলে নির্দিষ্ট দিনে আপনাকে ভালো পারফরম করতেই হবে। তা আমরা আফগানিস্তান, ভারত কিংবা অস্ট্রেলিয়া, যার সঙ্গেই খেলি না কেন। আর এই ছোট ফরম্যাটে যেহেতু ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ খুব কম, তাই শুরুটা অবশ্যই ভালো করতে হবে আমাদের। সেটি প্রতিটি বিভাগেই।’

এর পরও মাহমুদ উল্লাহর বক্তব্য থেকে একটা উপসংহারে কিন্তু ঠিক পৌঁছানো যাচ্ছে। সেটি হলো, আসছে সিরিজে লড়াইটা হবে আফগানদের বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাটিং গভীরতার।

 


মন্তব্য