kalerkantho


কাল অনুশীলনে

বোলিং সামর্থ্য ফেরাল মোসাদ্দেককে!

২১ মে, ২০১৮ ০০:০০



বোলিং সামর্থ্য ফেরাল মোসাদ্দেককে!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচেই নিজের অফস্পিনের কার্যকারিতা দেখিয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। ছন্দ খুঁজে পেয়ে বড় সংগ্রহের দিকে ছুটতে থাকা নিউজিল্যান্ডের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয় এই তরুণের বোলিংয়েই। তিন বলের মধ্যে তুলে নেন দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা নেইল ব্রুমের সঙ্গে কোরে অ্যান্ডারসনকেও। পরের ওভারে জিমি নিশামকেও। ৩ ওভারে ১৩ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নেওয়া সেই পারফরম্যান্সই এবার তাঁর ব্যাটিংয়ের চেয়ে বিবেচিত হলো বেশি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ভাবনায় মোসাদ্দেকের ঢুকে পড়ার আরেক কারণ মেহেদী হাসান মিরাজের ইনজুরি নিয়ে শঙ্কাও। অস্ত্রোপচার ছাড়াই এই অফস্পিনারের ডান কাঁধের চোট সারিয়ে তোলার চেষ্টায় যথেষ্ট সাড়া মিললেও এখনো পুরোপুরি ফিট নন তিনি। তাই এর আগে সব সময় ব্যাটিং সক্ষমতার জন্যই ডাক পেয়ে আসা মোসাদ্দেক এবার মিরাজের ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে জায়গা করে নিলেন দেরাদুনের সিরিজে। শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফির ১৭ জনের দলের সঙ্গে পার্থক্য বলতে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্তি এই একজনেরই। বাদ পড়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ইমরুল কায়েস এবং উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান। অনেক দিন পর নিদাহাস ট্রফি দিয়ে জাতীয় দলে ফেরা শেষেরজন বাদ পড়লেন কোনো ম্যাচ না খেলেই।

অবশ্য প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন জানালেন, সামনের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কথা ভেবেই নুরুলের মতো ইমরুলকেও ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে টেস্ট প্রস্তুতির জন্য নিদাহাস ট্রফিতে একটি ম্যাচও না খেলা ইমরুলকে রেখে দেওয়া হচ্ছে দেশেই, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে টেস্টের প্রস্তুতি নেওয়াটা খুব কঠিন। সামনে লম্বা সফর। যে কারণে কিছু খেলোয়াড়কে এই সিরিজে নেওয়া হয়নি। তাদের মধ্যে ইমরুল একজন।’ নুরুলকে নিয়েও অন্য রকম ভাবনার জানান দিলেন প্রধান নির্বাচক, ‘আফগানিস্তানের সঙ্গে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে। এত সংক্ষিপ্ত পরিসরে খেলিয়ে কাউকে ঠিকঠাকমতো দেখাটাও কঠিন। তার ওপর সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর আছে। সামনের ব্যস্ততার কথা চিন্তা করেই সোহানকে (নুরুলের ডাকনাম) এই সিরিজের দলে রাখা হয়নি। ওকে নিয়ে আমাদের অন্য রকম চিন্তাভাবনা আছে।’

অন্য রকম ভাবনায় নুরুল ছিটকে গেলেও ঢুকে পড়েছেন মোসাদ্দেক। তাঁর অফস্পিনে আস্থা নির্বাচকদের, ‘অলরাউন্ডারের চিন্তা থেকেই মোসাদ্দেককে নেওয়া হয়েছে। কারণ মিরাজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সন্দেহ আছে আমাদের। এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, তাতে ও শতভাগ ফিট নয়। ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে ওর। এ জন্যই মিরাজের ব্যাকআপ হিসেবে সুযোগ দেওয়া হয়েছে মোসাদ্দেককে।’ টি-টোয়েন্টিতে মোসাদ্দেক আস্থার প্রতিদান দিতে পারবেন বলেও আশা মিনহাজুলের, ‘আমরা মনে করছি, টি-টোয়েন্টিতে বোলিং করার মতো যথেষ্ট দক্ষতা মোসাদ্দেকের রয়েছে। ওর প্রতিভার কথাও আমরা জানি। মাঝখানে একটু ছন্দপতন হয়েছিল। এই মুহূর্তে ফিটনেসসহ যাবতীয় বিষয়গুলো দেখে এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলাপ করে আমরা ওকে দলে নিয়েছি।’

বেশ কিছুদিন ধরে ছন্দে না থেকেও কেউ কেউ জায়গা ধরে রেখেছেন নির্বাচকদের দলে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নামটি সৌম্য সরকারের। নিদাহাস ট্রফিতে পাঁচ ম্যাচ খেলে মাত্র ৫০ রান করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ব্যর্থতায় টেস্ট এবং ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়া এই ওপেনার। শ্রীলঙ্কায় যদিও একটি ম্যাচেই নিজের প্রিয় ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন। রানে ফেরানোর জন্য একই আসরে তাঁর ব্যাটিং অর্ডারও বদল করে দেখা হয়েছে। দুই ম্যাচে নেমেছিলেন ৩ নম্বরে। একটি করে ম্যাচে খেলেছিলেন ৪ ও ৫ নম্বরে। তবু রানে ফেরানো যায়নি সৌম্যকে। এর পরও তাঁর দলে থাকার কারণ কোচ আর অধিনায়কের ইতিবাচক মনোভাব বলেই জানিয়েছেন মিনহাজুল, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমরা যত খেলোয়াড় নিয়ে চিন্তা করি, সৌম্যর কথাটা সবার আগে চলে আসেই। শ্রীলঙ্কায় ওর বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা অধিনায়ক (সাকিব আল হাসান) এবং কোচের (কোর্টনি ওয়ালশ) সঙ্গেও কথা বলেছি। তাঁরা সৌম্যর ব্যাপারে ইতিবাচক ছিলেন।’


মন্তব্য