kalerkantho


সব শেষে...

হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় বিদায়

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় বিদায়

নিতান্তই নিয়ম রক্ষার এক ম্যাচ। লিগ শিরোপা জয় যে আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে বার্সেলোনার! তবু এই খেলাটির জন্য অপেক্ষায় ছিল ক্লাব। এই ম্যাচটি বহু বহুকাল স্মৃতির সিন্দুকে জমিয়ে রাখবেন বার্সা সমর্থকরা। এদিনই যে খেলোয়াড় হিসেবে শেষবারের মতো বার্সেলোনার জার্সি গায়ে উঠল আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার!

ঘোষণাটা আগেই দিয়েছিলেন—বার্সায় এটিই তাঁর শেষ মৌসুম। এর পর থেকেই এই ম্যাচটির ক্ষণগণনা। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ফিলিপে কৌতিনিয়োর একমাত্র গোলে জিতেছে বার্সা। কিন্তু এই ফল একেবারেই গৌণ। আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ইনিয়েস্তা। সেই ছোট্টটি থেকে লা মেসিয়ায় বেড়ে ওঠা, এরপর বার্সেলোনা ও স্পেনের কত কত গৌরবগাথা লেখা তাঁর জাদুকরী পায়ে! ক্লাবের জার্সিতে তাঁকে শেষবিদায় দিতে পরশু কার্পণ্য করেনি বার্সা।

ম্যাচ শুরুর আগেই নু ক্যাম্পের গ্যালারিতে ভেসে ওঠে ইনিয়েস্তাকে নিয়ে করা চিত্র। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে। আর ম্যাচের ৮১তম মিনিটে কোচ এর্নেস্তো ভালভের্দে যখন তুলে নেন, করতালিতে আকাশ ফেটে পড়ার উপক্রম। চোখে জল নিয়ে বার্সার খেলোয়াড় হিসেবে শেষবারের মতো মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান ইনিয়েস্তা। ফেরেন আবার রেফারির শেষ বাঁশির পর। এরপর তাঁর বিদায়পর্ব চলে ঘণ্টাখানেক। সেখানে গান ছিল, ডিসপ্লে ছিল। বার্সেলোনার সব খেলোয়াড় আবার মাঠে ফেরেন সতীর্থের আট নম্বর জার্সি গায়ে দিয়ে। স্প্যানিশ লিগের প্রেসিডেন্টের হাত থেকে লা লিগা ট্রফি নেন ইনিয়েস্তা। আর পুরোটা সময়জুড়ে দর্শকদের করতালি আর অভিনন্দন তো ছিলই।

চোখে জল নিয়ে বিদায় নেন ইনিয়েস্তা। তবে হৃদয়ে যে বার্সাই থাকবে সব সময়, সে ঘোষণাও দিয়ে যান, ‘আমি চলে যাচ্ছি তবে তোমাদের সবাইকে হৃদয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এটি ছিল অবিশ্বাস্য ২২ বছর। এই ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করাটা ভীষণ আনন্দের; অনেক গর্বের। সে জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছ, সে জন্য ধন্যবাদ। একজন শিশু হিসেবে এ ক্লাবে এসেছিলাম; এখন চলে যাচ্ছি পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবে।’ আর খেলা শেষে বার্সা টিভিতে ইনিয়েস্তার প্রতি মুগ্ধতা ঝরেছে কোচ ভালভের্দের কণ্ঠেও, ‘আজকের দিনটি ছিল আন্দ্রেসের। সমর্থকরা এটিকে স্পেশাল দিন বানিয়েছে। ওর মতো ফুটবলারদের নিয়ে আলোচনা হবে ভবিষ্যতের অনেক অনেক দিন। এমন ফুটবলারদের আবার তৈরি করা যায় না। ঐতিহাসিক ফুটবলার আন্দ্রেসকে সবাই মনে রাখবে।’

যেমনটা মনে রেখেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সতীর্থ জাভি এর্নান্দেস। বার্সা ছেড়েছেন তিনি কয়েক বছর আগে। আর এই ক্লাব ছাড়ার দিনে ইনিয়েস্তার প্রতি খোলা চিঠি লিখেছেন জাভি, ‘আন্দ্রেস হচ্ছে এমন একজন, যাঁর নিজস্ব স্বর্গদূত রয়েছে। আমাকে জিজ্ঞেস কোরো না, তা কেন ও কিভাবে? ওর শুধু তা আছে। যেমনটা ইকের ক্যাসিয়াসেরও। আমাদের বাকি কারো তা নেই। ওদের সেই ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতা রয়েছে বলেই ঠিক সময়ে ওরা ম্যাচ জেতানো গোল করতে পারে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে পারে। বার্সেলোনা ও স্প্যানিশ জাতীয় দলে আমরা বেঁচে ছিলাম আন্দ্রেসের সময়ে।’

বার্সেলোনার সেই ইনিয়েস্তার সময়টা শেষ হয়ে গেল পরশু। সব আয়োজন শেষে সব কোলাহল থেমে যাওয়ার পর শূন্য নু ক্যাম্পে আরো একবার প্রবেশ করেন তিনি। একাকী। খালি পায়ে হেঁটে গিয়ে বসেন মাঠের মাঝখানে। শেষবারের মতো খেলোয়াড় হিসেবে নু ক্যাম্পের ঘাসের ঘ্রাণ দিলেন। এরপর?

নতুন গন্তব্যে চলে যাবেন ইনিয়েস্তা। কিন্তু বার্সেলোনায় তাঁর কিংবদন্তি চলবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেই গোল, চেলসির বিপক্ষে স্টামফোর্ড ব্রিজের গোল... আরো কত কী! মার্কা

 


মন্তব্য