kalerkantho


আমার জন্য এবারই শেষ সুযোগ

২৮ মে, ২০১৮ ০০:০০



আমার জন্য এবারই শেষ সুযোগ

বয়স হয়েছে ৩৩। বার্সেলোনা ছেড়ে গিয়েছেন চীনের হেবেই চায়না ফরচুন ক্লাবে। আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪২ ম্যাচ খেলা হাভিয়ের মাসচেরানো এই বিশ্বকাপে আর দুটি ম্যাচ খেললেই হয়ে যাবেন আকাশি-নীলদের জার্সি গায়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে মাঠে নামা ফুটবলার। সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে খেলতে নামা মাসচেরানোর মনে এখনো লড়াইয়ের আগুন

 

প্রশ্ন : শীর্ষ প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে আপনি। এর পরও বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী আপনি?

হাভিয়ের মাসচেরানো : আমি গোটা জীবন ধরে প্রতিযোগিতাই করে গেছি, আর যা কিছু করেছি নিজের দমে করেছি। আমাকে বাদ দেওয়াটাকে কোচের জন্য কঠিন করে তুলব আমি। তাঁকেই একসময় মেনে নিতে হবে দলে আমার উপযোগিতা ও ভূমিকা।

প্রশ্ন : গতবার হয়েছিলেন রানার্স-আপ। এটাই হয়তো আপনার শেষ বিশ্বকাপ। জিততে না পারলে কি বড় একটা আক্ষেপই থেকে যাবে?

মাসচেরানো : ফুটবল দলগত খেলা। এখানে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো কিছু জেতার সুযোগ দেখি না। এই বিশাল ক্যানভাস থেকে আমি আমার একার জন্য কিছু বেছে নিলে সেটা হবে বিরাট ভুল। আমার জন্য এবারই শেষ সুযোগ। হয়তো আরো কারো জন্যও। আশা করি, আমরা প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিয়ে লড়তে পারব। কখনো আমরা দেখেছি জয়ের দুই সেন্টিমিটার দূর থেকেও ফিরে আসতে হয়। এসব থাকবেই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আর্জেন্টিনা যেন দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খেলা খেলে।

প্রশ্ন : চোটের কারণে সের্হিও রোমেরো ছিটকে গেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে। তাঁর অভাব কতটা ভোগাতে পারে আপনাদের?

মাসচেরানো : আমরা একজন নেতাকে হারিয়েছি। রোমেরোর চোটের কারণে আমাদের দলে যে ধাক্কাটা লেগেছে, সেটা শুধু একজন গোলরক্ষককে হারানোরই নয়, একজন ব্যক্তিকে না পাওয়ারও। সে ১০ বছর ধরে দলের নেতৃস্থানীয় জায়গায় আছে। তবে এটাই ফুটবল, এমনটা হতেই পারে। আমাদের অবশ্যই গুজমানকে শুভ কামনা জানিয়ে আপন করে নিতে হবে আর সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের একটা অপ্রত্যাশিত ধাক্কা লেগেছে বটে, তবে ভালো দিকটা হচ্ছে, কোচ এখন ২৩ জন ফিট খেলোয়াড়কে বেছে নিতে পারবেন।

প্রশ্ন : ইউরোপ ছেড়ে খেলতে চলে গেছেন চীনে। সেখানে খেলতে কেমন লাগছে আর মানটাই বা কেমন?

মাসচেরানো : আমি যদি রাজনীতিবিদদের মতো করে বলতে পারতাম, তাহলে হয়তো বলতাম যে জাতীয় দলে খেলার জন্য আমি যাতে বেশি করে মাঠে থাকতে পারি এ জন্যই গিয়েছি। কিন্তু সিদ্ধান্তটা আসলে জীবনের। বার্সেলোনায় আমার খেলা দিনকে দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছিল, কারণ কোচ খুব বেশি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে স্কোয়াডের সবাইকে খেলাচ্ছিলেন না বরং একটা মূল দল চাচ্ছিলেন। সেই ১২-১৩ জনের দলটায় আমি ছিলাম না। বুঝলাম এরপর বার্সেলোনা ছাড়াটাও কঠিন হয়ে যাবে। বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়াটা সহজ ছিল না। কারণ তারা আমাকে অত্যন্ত সম্মান করেছে আর আমি গেছি শীতকালীন দলবদলের সময়, যখন মৌসুম অর্ধেক গড়িয়ে গেছে।

প্রশ্ন : বার্সেলোনা ছেড়ে তাহলে রিভারপ্লেটে গেলেন না কেন, সেখান থেকেও তো প্রস্তাব ছিল?

মাসচেরানো : আমি রিভারপ্লেটে ফেরার জন্য ফ্রান্সেসকোলির সঙ্গে (এনজো ফ্রান্সেসকোলি, রিভারপ্লেটের ম্যানেজার ও উরুগুয়ের কিংবদন্তি) কথা বলেছিলাম। তবে প্রস্তাবে তো একটা টাকার অঙ্ক থাকতে হবে, তাই না!

প্রশ্ন : তাহলে কি টাকার জন্যই চীনে গেলেন?

মাসচেরানো : না ঠিক টাকার জন্য নয়। শুধুই যে টাকার জন্য বা নিয়মিত খেলে জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হওয়ার জন্য চীনে এসেছি তা নয়, চীনে এসে আমার আবার নিজেকে খেলোয়াড় মনে হচ্ছে। আমি বার্সেলোনায় সাড়ে সাত বছর কাটিয়েছি। শেষের দেড়টা বছর স্রেফ বেঞ্চেই বসেছিলাম। আমার তো নিজের জীবন, নিজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে, না কি! জাতীয় দলের নির্বাচকরা মনে করেন এটা কোনো প্রতিযোগিতামূলক লিগ নয়। কিন্তু আমি তো এর ভালো আর খারাপ দিকটা বুঝি। তাই কোনো কিছু নিয়েই আমার অভিযোগ নেই।

 


মন্তব্য