kalerkantho


মানে ফেরাবেন সেই সেনেগালকে

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



মানে ফেরাবেন সেই সেনেগালকে

১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা। পেছনে সেই চমকজাগানো ইতিহাস—চ্যাম্পিয়নদের হারানো, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। এবারের সেনেগালকে নিয়েও তাই প্রত্যাশার ফানুস উড়ছে। সাদিও মানে তা আরো উসকে দিচ্ছেন। ইউরোপিয়ান ফুটবলের শীর্ষ সারিতে নিজেকে নিয়ে গেছেন। গত চ্যাম্পিয়নস লিগেই গোল করেছেন সেমিফাইনাল, ফাইনালে। এমন একজনকে নিয়ে সেনেগালিজরা তো আশায় বুক বাঁধতেই পারে। আরেকজন এল হাজি দিউফকে দেখছেন হয়তো তাঁরা তাঁর মাঝেই।

মানের জন্য এই বিশ্বকাপ তাই আলাদাভাবেই বড় উপলক্ষ। স্টার থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠার মঞ্চ। ২৬ বছর বয়সে প্রত্যাশার এই ভার সামলানোও সহজ কথা নয়। তবে লিভারপুল স্ট্রাইকার এ প্রসঙ্গে দারুণ স্বচ্ছন্দ, ‘আমি কোনো চাপই অনুভব করছি না। নিজের কাজ করে যাওয়াটাই উপভোগ করি সব সময়। আর সেটা হলো, দলের সবার সঙ্গে মিলে পারফর্ম করা। সেটা করতে পারলে আশা করি, আমরা গ্রুপ পর্বও পেরিয়ে যাব।’ নিজের ওপর থাকা চাপটা এভাবেই দলের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন সেনেগালের হয়ে ৪৯ ম্যাচ খেলা এ তারকা। দলই তাঁর মনোযোগের কেন্দ্রে। সেনেগালের মূল ভরসা তিনি—এমন ভাবনাও ঘুরিয়ে দিয়েছেন এই বলে, ‘আমাদের মূল হলো, আমাদের দল। আর সেই দল হিসেবেই শুধু আমরা সবচেয়ে ভালোটা করতে পারি।’ ২০০২-এর সেই সেনেগাল দলের অধিনায়ক আলিউ সিসে এবার কোচের ভূমিকায়। তিনিও খেলোয়াড়দের এক সুতায় গাঁথতে চাইছেন। লিভারপুলে মানে যেভাবে সফল হয়েছেন সেই পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা তাঁর জাতীয় দলও। মাঝে ৩-৫-২ ফরমেশনে দলকে খেলালেও খেলোয়াড়দের দাবিতেই লিভারপুলের মতো ৪-৩-৩ ফরম্যাশনেই ফেরার কথা তাঁর বিশ্বকাপে। তাতে উইংয়ে নিজের ঝলক দেখাতে পারবেন মানে। গত মৌসুমে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগে ২০ গোল করেছেন, এসিস্ট আটটি। জাতীয় দলের হয়ে ৪৯ ম্যাচে তাঁর ১৪ গোল। বাছাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যে ম্যাচ জিতে রাশিয়ার টিকিট কেটেছে সেনেগাল, তাতে দলের দুটি গোলেই তাঁর অবদান।

আক্রমণভাগে মানে, ডিফেন্সে নাপোলির কালিদু কোলিবালি আর মাঝখানে এভার্টনের ইদ্রিসা গিয়ায়িই—দল সেনেগালের তিন স্তম্ভ। বড় লক্ষ্য ছুঁতে এঁদের সবাইকেই একসঙ্গে পারফর্ম করতে হবে বলে মানে নিজের ওপর বাড়তি কোনো চাপই নিচ্ছেন না। গ্রুপে সেনেগাল এবার মুখোমুখি হবে পোল্যান্ড, কলম্বিয়া ও জাপানের। হেভিওয়েট কোনো প্রতিপক্ষ না থাকলেও এই গ্রুপ থেকে সেরা দুই বাছাই করাটাও কঠিন। মানেও জানেন শেষ ষোলোর সমীকরণটা কঠিন। বাধাটা পেরোতে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার বিকল্প তাই দেখছেন না তিনি, ‘পোল্যান্ড, কলম্বিয়া, জাপানকে নিয়ে আমাদের গ্রুপটা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতেই নিজেদের কাজটা করে যেতে হবে ঠিকঠাক।’ এভাবে শুধু নিজের ওপর দলের ওপর থেকেও যেন চাপটা সরিয়ে দিচ্ছেন এই তারকা। মিরর


মন্তব্য