kalerkantho


টালমাটাল স্পেন তাই আশায় পর্তুগাল

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



টালমাটাল স্পেন তাই আশায় পর্তুগাল

এই কিছুদিন আগে পর্যন্ত বিশ্বকাপে মহাদেশীয় প্রাধান্য ছিল প্রায় অনিবার্য। যে মহাদেশে হবে চূড়ান্ত পর্ব, সেই মহাদেশেরই কোনো দল জিতবে বিশ্বকাপ—এটা যেন ছিল প্রায় স্বতঃসিদ্ধ। এখন সেটা নেই, কিন্তু ইউরোপের বিশ্বকাপে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের ফেভারিট তালিকায় না রেখে উপায় আছে? তার ওপর যদি সেই দলে থাকেন সর্বশেষ দশ বছরে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার!

এই হিসাব মেনে নিলে পর্তুগালের তো রাশিয়া বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটই হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইউরো জয়ের পরের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের রেকর্ড আছে মাত্র দুটি দলের, আর আজ ২০১৮ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেই দুই দলের একটি, স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে রোনালদোর দল। খোদ রোনালদোই মেনে নিচ্ছেন, বিশ্বকাপে তো বটেই, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১২টায় সোচির ফিহস্ত স্টেডিয়ামের ম্যাচেও তাঁরা পরিষ্কার ফেভারিট নন! এমনকি টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই দিন আগে কোচ বদলের ডামাডোলের পরও বাজির দরে এগিয়ে স্পেনই। লন্ডনের বিখ্যাত বাজিকর সংস্থা ল্যাডব্রুকসে বাজির দর গতকাল ছিল স্পেনের পক্ষে ২১/২০।

ইতিহাসও সে রকমই বলে। আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই প্রতিবেশী দলের এ পর্যন্ত ৩৬ বারের দেখায় ১৬ বারই জিতেছে স্পেন, পর্তুগালের জয় মাত্র ৬টি। বড় টুর্নামেন্টে দুই দলের সর্বশেষ দুইবারের দেখায়ও জিতেছে লা রোজারা—২০১০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেভিড ভিয়ার দেওয়া একমাত্র গোলে জিতেছিল তারা, ২০১২ ইউরোর সেমিফাইনালে গোলশূন্য ম্যাচ থেকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতে উঠেছিল ফাইনালে। দুইবারই শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল তারা।

কিন্তু তার পর থেকে আবার ইতিহাসের গতি এগোচ্ছে অন্য পথে। ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং ২০১৬ ইউরোতে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে স্পেন। পর্তুগালও ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরোতে না পারলেও ২০১৬ ইউরো থেকে ফিরেছে শিরোপা জিতে! হুলেন লোপেতেগির নেতৃত্বে তার পর থেকে চলছিল লা রোজাদের পালাবদল, কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে কোচের পদ থেকে তাঁর বহিষ্কার আবার ঘোলাটে করে তুলেছে পরিস্থিতি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর কোনো দলকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি কোনো দিন, তার ওপর গুঞ্জন আছে অধিনায়ক সের্হিয়ো রামোসের নেতৃত্বে স্পেনের খেলোয়াড়রা নাকি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন লোপেতেগির।

এ রকম টালমাটাল পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা, সেটায় আবার স্প্যানিয়ার্ডদের রেকর্ড তেমন ভালো না। গত আসরে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ১-৫ গোলের হার এখনো হয়ে আছে দগদগে ক্ষত। কিন্তু বিশ্বকাপে এমনটা নতুন নয় মোটে। বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ১২টি ‘প্রথম’ গ্রুপ ম্যাচের মাত্র দুটিতে জিতেছে তারা, হেরেছে ৭টিতেই! কিন্তু মাঠের খেলায় এসব কিছুই নয়, গুরুত্ব পাবে পারফরম্যান্স। গত মৌসুমে ইউরোপের বিভিন্ন লিগের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেই তাই বাজিকর সংস্থাগুলো একটু হলেও এগিয়ে রাখছে স্পেনকে। গতকাল অনুশীলনের ফাঁকে স্পেনের নতুন কোচ ফার্নান্দো হিয়েরোও মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটাই, ‘নিজেদের নিয়ে দুঃখবোধে আক্রান্ত হওয়ার সময় নেই আমাদের। দুই বছর ধরে এই দলটা প্রস্তুত করছে নিজেদের, লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ জয়। আমি ছেলেদের বলেছি, আমাদের সামনে দারুণ একটা সুযোগ আছে, (মাঠের বাইরের) এই সব বিষয়কে আমরা সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার অজুহাতে পরিণত করতে পারি না।’

রোনালদোর সতীর্থ বের্নার্দো সিলভাও মেনে নিয়েছেন স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব, আরেকটু এগিয়ে পর্তুগালের ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাই দিয়েছেন, ‘টেকনিকের বিচারে এই মুহূর্তে স্পেনই বিশ্বের সেরা জাতীয় দল। বার্সেলোনা আর রিয়ালের তারকাদের নিয়ে গড়া ওদের মধ্যমাঠ, সন্দেহ নেই এ ম্যাচে ওরাই ফেভারিট।’

সিলভার মতো অনেকেরই বিবেচনায় স্পেনের মূল শক্তি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার নেতৃত্বে গড়া তাদের মধ্যমাঠ। আর পর্তুগালের? রোনালদো যেখানে আছেন, সেখানে তো তাদের আক্রমণ সামলানোর চিন্তাই প্রতিপক্ষকে করতে হয় আগে। ঘটনাচক্রে যে কাজটা হয়তো আবার করতে হবে রোনালদোরই রিয়াল সতীর্থ রামোসকে। কিন্তু স্পেনের মধ্যমাঠ আর পর্তুগালের আক্রমণ, কিংবা রোনালদো বনাম ইনিয়েস্তা নয়, এমনকি রোনালদো বনাম রামোসও নয়, এ ম্যাচে হয়তো অলক্ষ্যে লড়াই হবে দুই দলের রক্ষণভাগেরও।

বাছাই পর্বে ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ৩টি করে গোল হজম করেছে স্পেন আর ইংল্যান্ড, তার পরের স্থানটাই পর্তুগালের। তাদের জালে বল ঢুকেছে মাত্র চারবার। আর ইতিহাস বলছে, বড় টুর্নামেন্টে এ দুই দলের দেখায় রক্ষণের লড়াইটাই হয় বেশি—বিশ্বকাপ আর ইউরো মিলিয়ে দুই দলের চারবারের দেখায় সব মিলিয়ে গোল হয়েছে মোটে চারটি। এবারও কি তেমন কিছুই অপেক্ষা করছে? এপি, রয়টার্স
 



মন্তব্য