kalerkantho


ফেভারিট হয়েই নামছে উরুগুয়ে

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ফেভারিট হয়েই নামছে উরুগুয়ে

তিনি আছেন নাকি নেই? ‘ফারাও’দের প্রাণ মোহামেদ সালাহর খেলা না-খেলার ওপর হয়তো নির্ভর করছে আজ উরুগুয়ের বিপক্ষে মিসরের ভাগ্য। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে সাতবারের আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নরা। অথচ অনিশ্চয়তা দলের সেরা তারকাটিকে ঘিরে। হাহাকার আর আফসোসটা এ জন্যই। তবে সুখবর দিলেন মিসর কোচ হেক্তর কুপার। সালাহকে প্রায় শতভাগ ফিট বললেন তিনি,‘ আজকেও (গতকাল) অনুশীলনে ওকে দেখব আমরা। তবে আপনাদের প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করতে পারি যে, সালাহ খেলবে। ওর মাঠে থাকার ব্যাপারে আশাবাদী আমরা। খুব দ্রুত সেরে উঠছে সালাহ। প্রথমে ভেবেছিলাম ওর সেরে উঠতে তিন সপ্তাহের বেশি লেগে যাবে। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে ফিট করে তুলেছে সালাহ।’

সালাহ খেললেও আজকের ম্যাচের ফেভারিট উরুগুয়ে। ২০০৬ সালে দুই দল প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল একবারই। লাতিন দলটি জেতে ২-০ গোলে। বিশ্বকাপের অতীত বলছে, উরুগুয়ে কখনো হারেনি আফ্রিকান দলের বিপক্ষে। তিন ম্যাচে জয় একটি, ড্র দুই ম্যাচে। আর মিসর তো বিশ্বকাপে চার ম্যাচ খেলে জয়হীন এখনো। ১৯৩৪ বিশ্বকাপে প্রথমবার সুযোগ পায় মিসর। নক আউট ফরমেটের সেই ম্যাচে হাঙ্গেরির কাছে হারে ২-৪ গোলে। ১৯৯০ বিশ্বকাপেও তিন ম্যাচের দুটিতে হার, ড্র অন্যটিতে। দুইবার অংশ নিয়ে দুইবারই বাদ গ্রুপ পর্ব থেকে। উরুগুয়ে সেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের। আগের মতো পরাশক্তি না থাকলেও বিশ্বকাপে সবশেষ গ্রুপ পর্বের আট ম্যাচে হার মাত্র একটিতে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে উরুগুয়ে ১৪ আর মিসর রয়েছে ৪৫ নম্বরে।

এর পরও একটি পরিসংখ্যানে আশাবাদী হতে পারে মিসর। বিশ্বকাপে গত ছয় আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পায়নি উরুগুয়ে! সবশেষ ১৯৭০ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে ইসরায়েলকে হারিয়েছিল ২-০ গোলে। সাম্প্রতিক ফর্ম অবশ্য আশাবাদী করছে চতুর্থবার বিশ্বকাপে কোচ হয়ে আসা অস্কার তাবারেজকে। সব শেষ ছয় ম্যাচে উরুগুয়ের হার শুধু একটিতে। তিন ম্যাচে গোলও খেতে হয়নি। ছন্দে আছেন দলের সেরা তারকা  লুই সুয়ারেস ও এদিনসন কাভানি। গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে দুজন মিলে ৯৮ ম্যাচে করেছেন ৭১ গোল। জাতীয় দলের হয়ে শেষ তিন ম্যাচে সুয়ারেসের গোল দুটি আর কাভানির একটি। তাই তাবারেজের আশাবাদ, ‘আমাদের দলটি ছন্দে আছে। এটাই ধরে রাখতে চাই বিশ্বকাপে। অনেক দূরের পথ নিয়ে ভাবছি না। সব মনোযোগ এখন প্রথম ম্যাচে।’

রেকর্ড সাতবারের নেশনস কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও মিসরের ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে আসাটা বিস্ময়ের। দেশ ছাড়ার আগে মজা করে মোহামেদ সালাহ বলছিলেন, ‘২০০৬, ২০০৮, ২০১০—টানা তিনবারের নেশনস কাপ চ্যাম্পিয়ন আমরা। আফ্রিকার চ্যাম্পিয়নরাই থাকে বিশ্বকাপে। আমাদের না থাকাটা বিস্ময়ের!’ ২৮ বছর পর তাঁর দ্যুতিতেই বিশ্বকাপের টিকিট মিসরের। বাছাই পর্বে ঘানা, উগান্ডা, কঙ্গোকে পেছনে ফেলেছে ফারাওরা। শেষদিকে কঙ্গোর বিপক্ষে নাটকীয় পেনাল্টিতে রাশিয়ার টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন লিভারপুলের হয়ে এ মৌসুমে ৪৪ গোল করা সালাহ।

চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে চোট পাওয়ার পর তাঁকে ছাড়া খেলতে নেমে জয় পায়নি মিসর। এমনকি কুয়েতের বিপক্ষে ১-১ সমতায় মাঠ ছাড়া দল গোলই পায়নি অন্য ম্যাচে। হেক্তর কুপারের দল সবশেষ ছয় ম্যাচে পায়নি জয়ের দেখা। এই বৃত্তটা ভাঙতে যাঁর দরকার ছিল সেই সালাহ হয়তো বেঞ্চেই থাকবেন আজ। এর পরও আশাবাদী হেক্তর কুপার, ‘আমাদের রক্ষণটা ভরসার জায়গা। ২০১৫ সালে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর শুধু একটি ম্যাচেই দল হেরেছে এক গোলের বেশি ব্যবধানে। দলের সবার মধ্যে বোঝাপড়া ভালো। এটাই চাইব প্রথম ম্যাচে।’  সালাহ খেলতে না পারলে হাডার্সফিল্ড টাউনের রামাদান সোবাইকে নামাবেন কুপার। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার আবদাল্লা সাইদ বলের জোগান দিতে পারলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন তিনি। মিসরের প্রত্যাশাও সেটা। ফিফা ডটকম

 



মন্তব্য