kalerkantho


অন্য লড়াইয়ে রোনালদো-ইনিয়েস্তা

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



অন্য লড়াইয়ে রোনালদো-ইনিয়েস্তা

স্পেনের সর্বজয়ী দলের অন্যতম রূপকার তিনি। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনারও। কিভাবে জিততে হয়, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার চেয়ে ভালো করে আর কে জানে! সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে লা রোজাদের একটা সতর্কবাণী শুনিয়েছেন এই প্লে-মেকার। রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের দিনই কাজে লাগবে সেই সতর্কতা, আজই যে গ্রুপ পর্বে নিজেদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে ২০১০ বিশ্বকাপজয়ীরা। কাগজ-কলমে সেই পরীক্ষার নাম পর্তুগাল, কিন্তু ইনিয়েস্তার বিবেচনায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো!

পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার, তাঁর সম্পর্কে সতর্ক তো থাকতেই হয়। কিন্তু দলের খেলা বলে সাধারণত প্রকাশ্যে কেউ আলাদা করে চিহ্নিত করেন না নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে। তার ওপর পর্তুগাল এখন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন, দল হিসেবেই তাদের সমীহ করার কারণের অভাব নেই। ইনিয়েস্তাও জানেন সেটা, কিন্তু একটি স্প্যানিশ রেডিও চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কদিন আগে তিনি স্পষ্ট করেই চিহ্নিত করেছেন আসল চ্যালেঞ্জটা, ‘পর্তুগাল এমন একটি দল, যাদের হারাতে চাইলে মাঠে নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দিতে হয়। আর বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ছোটখাটো ভুলও সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। মনে রাখা দরকার ওদের দলে আছে রোনালদো, যেকোনো দলেরই মূল অস্ত্র হতে পারে সে, পর্তুগালেরও তা-ই। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

জাতীয় দলের হয়ে দুজনের দেখা খুব বেশি হয়নি, তবে প্রতিপক্ষ দলে রোনালদো থাকলে কী করতে হয়, বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহাসিক দ্বৈরথের কল্যাণে সেটা ভালোই জানা আছে ইনিয়েস্তার। মাঠে দুজনের পজিশন ভিন্ন হলেও পর্তুগাল দলে রোনালদো যেমন, স্পেন দলে তাঁর ভূমিকাটাও অনেকটা তেমনই। টানা দুটি ইউরো আর তার মাঝে ২০১০ বিশ্বকাপ জিতে শিরোপার হ্যাটট্রিক করেছিল স্পেনের যে দলটি, তার প্রতিনিধি হয়ে এখনো মাঝমাঠের নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন তিনি। কিন্তু নিজেও জানেন, থামার সময় হয়ে এসেছে। শৈশবের ক্লাব বার্সেলোনার সঙ্গে সম্পর্কটা এরই মধ্যে চুকিয়ে ফেলেছেন, আগামী মৌসুম থেকে খেলবেন জাপানের ক্লাব ভিসেল কোবেতে। বার্সেলোনার হয়ে বিদায়ী মৌসুমটা যেমন দুর্দান্ত কেটেছে, জাতীয় দলের হয়েও তেমন কিছু করতে চাইলে কিন্তু পথটা দেখাতে হবে তাঁকেই।

কথাটা অনেক বেশি খাটে রোনালদোর ক্ষেত্রে। স্পেন দলে তারকার অভাব নেই, লা লিগা আর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দাপট দেখানো বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছে তাদের। সেই তুলনায় রোনালদোদের দলটাকে ম্রিয়মাণই লাগবে। এমনকি জাতীয় দলেও পূর্বসূরি লুই ফিগো-রুই কস্তাদের সময়ের মতো ‘সোনালি প্রজন্ম’ পরিচিতি নেই, এটা যেন শুধুই রোনালদোর প্রজন্ম। ইউসেবিও-ফিগোরা যা পারেননি, তিনি সেটা পেরেছেন—সেলেসাওদের এনে দিয়েছেন শিরোপার স্বাদ। প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনায় এখানে অনেক এগিয়ে তিনি। যখনই প্রয়োজন পড়েছে, জাতীয় দলকে উদ্ধার করেছেন তিনি বারবার। এখানে আবার ইনিয়েস্তার সঙ্গে মিল, নিজের দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তিনি। দুজনের লড়াইটা উপভোগ্যই হবে তাই। এপি, স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড, রয়টার্স

 



মন্তব্য