kalerkantho


মেসিকে আটকাতে তৈরি আইসল্যান্ড

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



মেসিকে আটকাতে তৈরি আইসল্যান্ড

প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসে গ্রুপে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনাকে পেতে চাওয়ার কথা নয় কোনো দলেরই। কিন্তু আইসল্যান্ড তাই চেয়েছিল। ‘ডি’ গ্রুপে তারা পেয়েছেও আর্জেন্টিনাকে। তারা কোত্থেকে পেল এই সাহস? ২০১৬-র ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-১ গোলে আটকে দেওয়া ম্যাচ থেকেই।

১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টায় মস্কোয় আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে ইউরোর সেই ম্যাচই আইসল্যান্ডের ফুটবলারদের জোগাচ্ছে লিওনেল মেসিকেও আটকে রাখার আত্মবিশ্বাস। দলটির মিডফিল্ডার ইয়োহান গুডমুন্ডসন সে কথা বলেই ম্যাচ পূর্ব উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে চাইলেন, ‘ড্রর সময়ই বলেছিলাম যে আমি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনাকে চাই। আমরা তাদের একটিকে পেয়েছিও। ইউরোতে আমরা প্রথম ম্যাচ খেলেছিলাম রোনালদোর বিপক্ষে। এখন বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচ খেলতে চলেছি মেসির বিপক্ষে। আমরা রোনালদোকে পুরোপুরি শান্ত রাখতে পেরেছিলাম। আশা করছি, একইভাবে মেসিকেও পারব।’

আইসল্যান্ড সেই সক্ষমতার জানান যদি আরেকবার দিতে পারে, তাহলে খেলার সৌন্দর্যহানি ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ ইউরোতে পর্তুগালের বিপক্ষে অতি রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে দলটি যথেষ্ট বিরক্তির কারণও হয়েছিল। বিশেষ করে রোনালদো নিজেও খুব চটেছিলেন তাদের খেলার ওই ধরনে। কিন্তু মেসিকে আটকাতে হলেও যে সেটিই হবে আইসল্যান্ডের মহৌষধ, সেটিও আগাম বলে দিচ্ছেন গুডমুন্ডসন। রোনালদোর মতো মেসিকেও তিনি ত্যক্ত-বিরক্ত করে ছাড়তে চান, ‘তাঁর (রোনালদো) খেপে যাওয়াই স্বাভাবিক ছিল কারণ তারা দ্বিতীয় গোল বের করতে পারেনি। সেটি ছিল বড় কোনো প্রতিযোগিতায় আমাদের প্রথম ম্যাচ এবং তাতে পর্তুগাল আইসল্যান্ডকে হারাতে পারেনি। রোনালদো তাই ক্ষুব্ধ ছিলেন। মেসির বিপক্ষে খেলা কঠিন হবে, কিন্তু যতক্ষণ তিনি হতাশ থাকবেন এবং গোল করতে পারবেন না, ততক্ষণ আমরাও খুশি। আর্জেন্টিনাকে হারানোর জন্য রোনালদোর চেয়ে আরো বেশি রাগানোর চেষ্টাই করে দেখা যাক না।’

অতি রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা আইসল্যান্ড কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করার চেষ্টাও করবে। অবশ্য তাদের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের কোচ হোর্হে সাম্পাওলিকেও সম্ভবত নিজের রণপরিকল্পনায় কিছুটা অদল-বদল আনতে হতে পারে। কারণ রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের উচ্চতার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দলটির নাম আইসল্যান্ডই। এই দলটির খেলোয়াড়দের গড় উচ্চতা ১ দশমিক ৮৫ মিটার বা ৬ ফুটের বেশি। তাই প্রতিপক্ষের বাতাসে ভেসে আসা আক্রমণ প্রতিহত করা কিংবা পাল্টা আক্রমণে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কথা আইসল্যান্ডের। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা আবার উচ্চতার দিক থেকে এই আসরের সবচেয়ে খাটো দল। তাদের খেলোয়াড়দের গড় উচ্চতা যে ১ দশমিক ৭৯ মিটার বা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির কিছুটা বেশি। উচ্চতায় প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে থাকার ব্যাপারটি এই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে ভাবাচ্ছে আর্জেন্টিনা শিবিরকেও। কারণ আইসল্যান্ডের খেলোয়াড়রা লম্বা হওয়ায় সেট পিস কিংবা দুই উইংনির্ভর আক্রমণে গিয়ে ফায়দা লোটার সম্ভাবনা কম। সেই সঙ্গে পাল্টা আক্রমণে আইসল্যান্ডও ‘এরিয়াল’ আক্রমণে উঠে আর্জেন্টিনার রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াতে পারে। কাজেই আগাম প্রস্তুতি নিয়েই তাই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে হবে লিওনেল মেসির দলকে।

যাঁর ২০০৮-এর বেইজিং অলিম্পিকে সোনা জেতা ছাড়া দেশের হয়ে আর কোনো সাফল্যই নেই। হেরেছেন পর পর তিনটি আসরের ফাইনালে। এর মধ্যে ২০১৪-তে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার তো আছেই, আছে ২০১৫ এবং ২০১৬-তে চিলির কাছে কোপা আমেরিকার ফাইনালের হারও। মেসির ওপর তাই বিশ্বকাপ জেতার চাপ আগের চেয়ে বেশি বলেই মনে করেন আর্জেন্টিনার সাবেক ডিফেন্ডার হাভিয়ের জানেত্তি, ‘ওর ওপর এখন অনেক চাপ। চাপ অতীতেও ছিল, এবার আরো বেশি। সবাই আশা করছে এটা ওরই বিশ্বকাপ হোক এবং আর্জেন্টিনা জিতুক। কিন্তু কাজটা তো আর সহজ হবে না। কারণ বিশ্বকাপ জেতার মতো সজ্জায় সজ্জিত হয়ে এসেছে আরো কয়েকটি দলই।’ তবু মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত যাবে বলেই আশা জানেত্তির, ‘দু-দুটি কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের হার মেসির ওপর চাপটা আরো বাড়িয়েছে। প্রত্যাশা যে অনেক বেশি। বিশ্বকাপ এলেই আমাদের দেশ থেমে যায়। দারুণ উৎসাহ এবং উদ্দীপনা নিয়ে সবাই খেলা দেখতে বসে। আশা করছি আমরা একেবারে শেষ পর্যন্ত যাব।’ গতবার মেসিরা শেষ পর্যন্ত গিয়েও পারেননি অল্পের জন্য। এবার সেই খানিকটা দূরত্ব ঘোচানোর অভিযান শুরু হচ্ছে অতি রক্ষণাত্মক মানসিকতার আইসল্যান্ডকে দিয়েই। সেই ম্যাচের জন্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একাদশ চূড়ান্ত করে ফেলেছেন সাম্পাওলি। গোলরক্ষক হিসেবে ক্যাবাইয়েরোর সামনে ওতামেন্দি, রোহো, সালভিও এবং তেগলিয়াফিকোকে নিয়ে চার ডিফেন্ডার। তাঁর সামনে মাসচেরানো এবং বিলিয়া। মেসিকে মাঝখানে রেখে তাঁর দুই দিকে মেজা এবং দি মারিয়া। আর একমাত্র ফরোয়ার্ড আগুয়েরো। ফোরফোরটু



মন্তব্য