kalerkantho


অনেক কিছুই বদলাতে হবে ফ্রান্সকে

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



অনেক কিছুই বদলাতে হবে ফ্রান্সকে

ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা—বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রায় সব বিশ্লেষক এভাবে তাঁদের ফেভারিট তালিকা সাজিয়ে ফেলেছিলেন। প্রথম ম্যাচেই তাতে জোর ধাক্কা লেগেছে। একমাত্র ফ্রান্স বাদে অঘটনের শিকার হয়েছে সবাই। তাই বলে ফ্রান্স যে এগিয়ে গেছে এমন নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বরং তাদের সীমাবদ্ধতাই ফুটে উঠেছে বেশি সামর্থ্যের চেয়ে।

আঁটসাঁট ডিফেন্সের বিপক্ষে আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান-কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলেদের ম্যাজিক কাজ করেনি ঠিকঠাক। শক্ত-সমর্থ, দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের বাধা ডিঙাতে পরে অলিভিয়ের জিরোদকে নামিয়েছিলেন দেশম, তা-ও নাম্বার টেন গ্রিয়েজমানকে তুলে নিয়ে। মিডফিল্ডে বায়ার্ন মিউনিখে খেলা কোরেন্তিন তুলিসো, ব্লেইস মাতুইদি নাকি থমাস লেমার, এখনো যেন ঠিক করে উঠতে পারেননি ’৯৮-এর বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। আজ পেরুর বিপক্ষে নিশ্চিতভাবেই তাই শুরুর একাদশে বদল আসছে। পরশু ‘ক্লোজড ডোর’ অনুশীলনে দলকে ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলিয়েছেন। দেম্বেলেকে বসিয়ে গ্রিয়েজমান আর জিরোদকে রেখেছেন ওপরে, গত ম্যাচে বদলি নামা মাতুইদিও শুরুর একাদশে তুলিসোর বদলে।

আজ জিতলে শেষ ষোলো একরকম নিশ্চিত হয়ে যাবে লে ব্লুদের। তবে দেশম নিশ্চয় তাকিয়ে থাকবেন পারফরম্যান্সের উন্নতির দিকেও। এমন প্রতিভাবান একটা দল নিয়ে শিরোপা জিততে না পারাটাই তো হবে হতাশার। জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার দুঃসময়ের সুযোগ নিতে না পারাটাও তো তাই। আজ পেরুর বিপক্ষে সেই পরীক্ষাই ’৯৮-এর চ্যাম্পিয়নদের। দলের সহ-অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারান বাস্তবতাটা জানেন ভালোভাবেই, ‘ফেভারিটদের কেউ কেউ ড্র করেছে, কেউ হেরেছে। সেখানে আমরা জিতলেও জানি কোথায় কোথায় আমাদের উন্নতি করতে হবে, আমরা ঠিক কী চাই। গত ম্যাচে ভালো, খারাপ যা-ই হয়েছে এটা নিশ্চিত যে আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে আরো বেশি করে ম্যাচে থাকতে হবে, মাঠে নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনতেই হবে।’

খেলাটা হবে রাশিয়ার ভেন্যুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্বের শহর ইকাতেরিনবার্গে। ’৮২-র পর আবার বিশ্বকাপে ফেরা পেরুকে নিয়ে সে দেশের সমর্থকদেরও আশার শেষ নেই। এখনো পর্যন্ত রাশিয়া মাতাচ্ছেন যেসব দেশের সমর্থকরা, তাদের মধ্যে পেরুভিয়ানরা ওপরের সারিতেই থাকবেন। দুই দিন আগে থেকেই ইকাতেরিনবার্গের একরকম দখল নিয়েছেন তারা। সারানস্কে ডেনমার্কের কাছে হেরে তারা অশ্রুসজল হয়েছেন। অথচ ম্যাচটি তাদের জেতারই কথা। সে রকম পারফরম্যান্সই ছিল পাওলো গেরেরোদের। দলের সবচেয়ে বড় তারকা গেরেরো এই বিশ্বকাপে এসেছেন বড় একটা লড়াই জিতে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ার পর ফিফা, সিএএস এবং সুইস ফেডারেল কোর্টে আইনি লড়াই চালিয়ে তবেই রাশিয়ার টিকিট পেয়েছেন। বাছাই পর্বেও পেরুর ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা ছিলেন সেরা ফর্মে। নিষিদ্ধ হওয়ার পর সতীর্থরা তাঁর দিকে চেয়েই যেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফের বাধাটা পেরিয়ে গেছেন। গেরেরো ফিরেই জোড়া গোল করেছেন বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে। কিন্তু শুরুর ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা তাঁকে কেন যে বেঞ্চে বসিয়ে রাখলেন রিকার্দো গারেকা সে এক ধাঁধা। গেরেরো থাকলে হয়তো ক্রিস্তিয়ান কুয়েভাকেও ওই পেনাল্টিটা উড়িয়ে মারতে হয় না। শেষ ৩০ মিনিটে ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ঠিকই তাঁর ঝলক দেখিয়েছিলেন। আজ বাঁচা-মরার ম্যাচে শুরু থেকেই তাঁর খেলার কথা। দ্বিতীয় ম্যাচটিও তাই ফ্রান্সের সহজ হবে না। ফিফা ডটকম

 



মন্তব্য