kalerkantho


সালাহর বিশ্বকাপ বেদনা

রাহেনুর ইসলাম   

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সালাহর বিশ্বকাপ বেদনা

হাহাকার, আকুতি, আবেগ— মিলেমিশে একাকার মোহামেদ সালাহর জন্য। তিনি খেললে দল হারতে পারে জেনেও সালাহকে চেয়েছিলেন উরুগুয়ের লুই সুয়ারেস। প্রতিপক্ষের কারো জন্য এই শ্রদ্ধাই বলছে কতটা বড় মাপের খেলোয়াড় সালাহ। কাঁধের চোটের জন্য খেলতে পারেননি প্রথম ম্যাচ। নামা উচিত ছিল না হয়তো রাশিয়ার বিপক্ষেও। তবু নামতে হলো দেশের ডাকে। পুরো ম্যাচে তাঁকে দেখে ইংলিশ সাবেক তারকা অ্যালান শিয়েরার বলছিলেন, ‘৬০ শতাংশ ফিট ছিল সালাহ। শুরু থেকে কষ্ট করে খেলছিল ও। সালাহ গোল পাওয়ায় আমি খুশি, কিন্তু কঠিন এক ম্যাচ গেল ওর জন্য।’

২৮ বছর পর সালাহর দ্যুতিতে বিশ্বকাপে ফিরেছে মিসর। বাছাই পর্বের শেষ রাউন্ডে আফ্রিকান অঞ্চলে করেছিলেন সবচেয়ে বেশি ৫ গোল। সেই সালাহর বিশ্বকাপটা শেষ হলো হয়তো ৯০ মিনিটেই! টানা দুই ম্যাচ হেরে গ্রুপ থেকে ছিটকে যাওয়াটা সময়ের অপেক্ষা (গাণিতিক অঙ্কে আশা থাকলেও উরুগুয়ের সঙ্গে সৌদি আরব হারলে বা ড্র করলেও বাদ পড়বে মিসর) মাত্র। বিরতির আগ পর্যন্ত ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। এ সময় মাত্র ১৯ বার তিনি পা ছোঁয়ান বলে। তাতে ভয়ংকর মনে হয়নি তাঁকে।

বিরতির পর স্বমহিমায় না ফিরলেও ৭৩ মিনিটে গোল পান সালাহ। তিনি ফাউলের শিকার হয়েছিলেন ডি-বক্সে, কিন্তু রেফারি দেন বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিক! পরে ভিএআরের সাহায্যে দেওয়া হয় পেনাল্টি, যা কাজে লাগাতে ভুল করেননি সালাহ। ততক্ষণে অবশ্য ম্যাচের লাগাম রাশিয়ার হাতে। ৪৭ থেকে ৬২—এই ১৫ মিনিটের ঝড়ে তিন গোল আদায় করে স্বাগতিকরা ছিটকে দিয়েছে মিসরকে। বিশ্বকাপটা তাই বেদনায় শেষ হলো সময়ের অন্যতম সেরা এই তারকার। কোচ হেক্তর কুপার সমবেদনা জানালেন তাঁকে, ‘আমাদের সঙ্গে প্রস্তুতির সবগুলো সেশনে ছিল না ও। এটা ফিটনেসে ঘাটতি হওয়ার কারণ। ইনজুরির জন্য কিছু করারও ছিল না। সবাই একটা দল হয়ে খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। বিরতির আগে রাশিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলেছি আমরা। এরপর ১৫ মিনিটে ওরা তিন গোল করে সব শেষ করে দিয়েছে।’

মিসরের আক্রমণগুলো সাধারণত হয়ে থাকে সালাহকে ঘিরে। কিন্তু বিরতির আগে আনফিট সালাহর জন্য ডান দিক দিয়ে তেমন আক্রমণই করেনি তারা। মিসরের আক্রমণগুলো হচ্ছিল বাঁ দিক দিয়ে। বিরতির পর বদলায় সেই ধারা। কিন্তু ১৫ মিনিটের ঝড়েই এলোমেলো সালাহ আর মিসরের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।



মন্তব্য