kalerkantho


আফ্রিকার পতাকা ওড়াল সেনেগাল

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



আফ্রিকার পতাকা ওড়াল সেনেগাল

বড় দলের দীর্ঘশ্বাস দিয়ে শুরু বিশ্বকাপের। প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচে সেটা না থাকলে চলে! অঘটনের ধারাবাহিকতায় ফিফা র‌্যাংকিংয়ের আট নম্বর দল পোল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমকে দিল ২৭ নম্বরে থাকা সেনেগাল। বলের দখল, পোস্টে শট—সব কিছুতে এগিয়ে পোল্যান্ড। তাতে বয়েই গেছে সেনেগালের! ২০০২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে যে চমকের শুরু ১৬ বছর পরও অব্যাহত সেটা।

এই আসরে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে জয় পেল সেনেগাল। সৌভাগ্য আর বিতর্কের মিশেলেই এসেছে জয়টা। দুটি গোলই পোল্যান্ডের ‘উপহার’। ৩৭ মিনিটে প্রথম গোলটি আত্মঘাতী। ৬০ মিনিটে এমবায়ে নিয়াংয়ের গোলটা বিতর্কিত। চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে লাইনের কাছে ছিলেন তিনি। পোলিশ গোলরক্ষকের দিকে ব্যাকপাস আসতে দেখেই দৌড় নিয়াংয়ের! হতভম্ব পোল্যান্ডের ডিফেন্ডার কিংবা গোলরক্ষক সুযোগই পাননি নিয়াংকে রুখতে।

তবে বিতর্ক পাশ কাটিয়ে জয়ের কৃতিত্বটা দলের খেলোয়াড়দের দিলেন কোচ আলিউ সিসে। আর জয়টা উৎসর্গ করলেন আফ্রিকা মহাদেশের সবাইকে, ‘পুরো আফ্রিকা থেকে অভিনন্দন পাচ্ছি আমি। জয়টা গর্বিত করেছে আফ্রিকানদের। আমরা সৌভাগ্যবান ছিলাম তবে পোল্যান্ডকে কিভাবে থামাতে হবে সেই পরিকল্পনা করে নেমেছিলাম। আবেগ আর টেকনিক মিশিয়ে জিতেছি ম্যাচটি।’

সময়ের অন্যতম সেরা দুই তারকা রবার্ত লেভানদোস্কি আর সাদিও মানে ছিলেন দুই দলে। লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ গোল করা মানে গোল পাননি। বাছাই পর্বে ইউরোপিয়ান অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১৬ গোল করা লেভানদোস্কিও কড়া মার্কিংয়ে ছিলেন বিবর্ণ। ২০১২ ও ২০১৬ ইউরোর মতো তিনি ব্যর্থ এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। খেলা শেষে তাই গ্যালারিতে উপস্থিত স্ত্রীর কাছে খুঁজলেন সান্ত্বনা। ঝুঁকি নিয়ে খেলতে না পারাটাকে দায়ী করলেন এই হারের জন্য, ‘অনেক কিছুই পরিকল্পনামতো করতে পারিনি আমরা। ওদের দুটি গোল করতে দিয়েছি। আমার মনে হয় খুব বেশি ঝুঁকি নিয়ে খেলতে পারিনি। অনেক রক্ষণাত্মক ছিলাম। পরের ম্যাচে এই ধারা থেকে বের হতে হবে।’

৩৭ মিনিটে প্রথম গোলটার মূলে নিয়াং। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে চিতার দৌড়ে উঠে এসেছিলেন প্রতিপক্ষের অর্ধে। তাঁর কাছ থেকে বল পেয়ে সাদিও মানে বাড়ান ইদ্রিসা গানা গুইয়েকে। সাধারণ একটা শটই নেন ইদ্রিসা। সেটা থিয়াগো কোইনেকের পায়ে লেগে দিক বদলে জড়ায় জালে। বিশ্বকাপে এটাই প্রথম আত্মঘাতী গোল হজম  পোল্যান্ডের।

৬০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবায়ে নিয়াং। চোট পেয়ে মাঠের বাইরে গিয়েছিলেন তিনি। গ্রেগর্জ ক্রাইচুইয়াক প্রায় মাঝমাঠ থেকে ব্যাকপাস দিয়েছিলেন গোলরক্ষক ওশিয়েক শেজেসনি। সেটা ক্লিয়ার করতে ৩৫ গজ দৌড়ে আসতে হচ্ছিল তাঁকে। বল আর গোলরক্ষকের দূরত্ব দেখে প্রাণপণ দৌড় নিয়াংয়েরও। সেই রেসে জয়ী তিনি। এক ডিফেন্ডার আর গোলরক্ষককে পেছনে ফেলে বলের দখল নেন নিয়াং আর জড়ান জালে! নিয়াংয়ের নিয়ম মেনে মাঠে না নামার অভিযোগ জানায় পোলিশ খেলোয়াড়রা, কাজ হয়নি তাতে। এই গোলের দায় শোধ করে ৮৬ মিনিটে সেনেগালের জালে বল পাঠান গ্রেগর্জ ক্রাইচুইয়াক। তাতে ব্যবধান কমলেও আর সমতা ফেরানো হয়নি পোল্যান্ডের।

২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের নায়ক এল হাজি দিয়ুফ মাঠে বসে দেখেছেন ম্যাচটি। সাদিও মানেদের অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি তিনি, ‘দারুণ শুরু সেনেগালের। সবাই খুব ভালো খেলেছে। পরের চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হতে হবে এখন থেকে।’ এএফপি



মন্তব্য