kalerkantho


ক্রোয়েশিয়ার এখন মিশন ফাইনাল

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ক্রোয়েশিয়ার এখন মিশন ফাইনাল

প্রেসিডেন্ট থেকে শিশু, ক্রোয়েশিয়ার সব বয়সী সব শ্রেণির মানুষই এখন ফুটবল-জ্বরে রীতিমতো ‘মুমূর্ষু’! প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলছে ক্রোয়েশিয়া; প্রতিপক্ষ সেই ফ্রান্স, যাদের কাছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এগিয়ে গিয়েও হেরেছিল ক্রোয়েশিয়া। ৪১ লাখ মানুষের দেশে তাই ফুটবল ছাড়া অন্য কোনো প্রসঙ্গ নেই!

রাশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ছিলেন ভিআইপি গ্যালারিতে। ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার-কিটারোভিচ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে হয়ে উঠেছেন পরিচিত মুখ। মাত্র ৪৬ বছর বয়সেই ক্রোয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হওয়া কোলিন্দা শত ব্যস্ততার মাঝেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা হারাননি। রাশিয়ার সঙ্গে ম্যাচ দেখতে তিনি চলে এসেছিলেন বিমানের ইকোনমি ক্লাসে! ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ব্রাসেলস গেছেন তিনি, নিরাপত্তাসংক্রান্ত আলাপের ফাঁকেও রবিবারের ফাইনাল জয়ের আশা প্রকাশ করতে ভুল হয়নি তাঁর। ন্যাটোর গালা ডিনার খাবার ফাঁকে ফাঁকেই খেলা দেখছিলেন, জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট, ‘আমরা নৈশভোজ খেতে খেতে খেলা দেখছিলাম। অসাধারণ সময় কেটেছে, কারণ আমাদের বেশির ভাগ মিত্র দেশের বন্ধুরা আমাদের সমর্থক বনে গিয়েছিল।’ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে একই টেবিলে বসে নৈশভোজ সারছিলেন কোলিন্দা, রবিবার মস্কোতে আবার তাঁদের দেখা হচ্ছে। ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধানকে মিষ্টি হুমকি দিয়ে রেখেছেন ক্রোয়েশিয়ার সুন্দরী প্রেসিডেন্ট, ‘এই মহাসম্মেলনটা সফল হলো, রবিবারে কিন্তু আমরাই জিতব।’

লাল ট্রাউজার আর লাল-সাদা চেক জার্সিতে খেলা দেখতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট। মাঠে এমন পোশাকে তো আসাই যায়, তাই বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে জার্সি পরে যাওয়া? সেটাই করেছেন ক্রোয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভর বোজিনোভিচ। ড্রেস প্রটোকল ভেঙে তিনি ইনসব্রুকে, ইইউর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি হাজির হয়েছিলেন ক্রোয়াট জার্সি আর স্কার্ফ পরে। এতে করে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার তো তিনি হনইনি, বরং অন্য অনেক দেশের মন্ত্রীরাই তাঁকে জানিয়েছেন শুভ কামনা। বেলজিয়ামের আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন তাঁর সঙ্গে ছবি তুলে দিয়েছেন টুইটারে।

প্রেসিডেন্ট খেলা দেখতে যেতে না পারলেও ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই পেলেনকোভিচ ঠিকই গিয়েছিলেন মস্কোতে। খেলা শেষে ফিরে পরদিন মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকেও যোগ দিয়েছেন। বৈঠকে মন্ত্রী পরিষদের সব সদস্যই পরে এসেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার জার্সি! প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আমরা সবাই মিলে আরো একবার ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের সব ফুটবলার, কোচ জ্লাতকো দালিচ, ফুটবল ফেডারেশন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানাই, ক্রোয়েশিয়ার ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে আনন্দময় দিনটি উপহার দেওয়ার জন্য।’ একই সঙ্গে তিনি দেশেও নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আমরা রাশিয়ায় অনেক সুন্দর স্টেডিয়াম দেখেছি, এখন আমাদের জাতীয় স্টেডিয়ামটা নিয়েও কিছু একটা করতে হবে। এখন না করলে কখন? ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলের এটা প্রাপ্য।’

মডরিচদের জয়ে জাগরেব, দুব্রোভনিক, হ্যাভার, ওমিস শহরে হয়েছে আনন্দ মিছিল, উল্লাস। আনন্দের অশ্রু যেমন বেয়ে পড়েছে অনেকের চোখ থেকে, তেমনি আতশবাজির খেলা আর পটকার বিস্ফোরণে ক্রোয়েশিয়াবাসী উদ্‌যাপন করেছে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলতে পারার উপলক্ষটা। টিভি ধারাভাষ্যতে দ্রাগো কোসিচ জয়ের ঘোষণা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘রাশিয়ায় ঘটা সব অবিশ্বাস্য কাণ্ডের ভেতর সবচেয়ে অবিশ্বাস্য কাণ্ড! ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে! এর চেয়ে সুন্দর আর কিছু হতে পারে না।’

গণমাধ্যমেও চলছে ফুটবলারদের গুণকীর্তন। পেরিসিচ-মান্দজুকিচ, দুই গোলরক্ষকের সঙ্গে কোচ জ্লাতকো দালিচের কৃতিত্বকেও কেউ খাটো করে দেখছেন না। খুব কম সময় হাতে পেয়েছেন দলটা গোছাতে। তাতেই ১৯৯৮-র কীর্তি ছাপিয়ে দলকে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। দালিচ অবশ্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের, ‘দুজন ফুটবলার বলতে গেলে এক পায়ে খেলেছে, কিন্তু তারা সেটা প্রকাশ করেনি। অতিরিক্ত সময়ে কেউই মাঠ ছেড়ে আসতে চাইছিল না। তারা তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, সেটাই আমাকে গর্বিত করেছে। কেউ হাল ছাড়েনি।’

ফ্রান্সের সঙ্গে ফাইনালে দেখা হচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে সেমিফাইনালে ডেভর সুকারের গোলে এগিয়ে যাবার পরেও লিলিয়ান থুরামের জোড়া গোলে হারতে হয়েছিল ক্রোয়েশিয়াকে। সেই হিসাবটা চুকিয়ে দেবার প্রত্যাশায় আরো বেশি অনুপ্রাণিত ক্রোয়াটরা।

প্রস্তুতি পর্বে পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া। ফাইনালে ওঠায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে পেরু, ‘প্রস্তুতি পর্বে আমাদের দুই প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সকে অভিনন্দন। রবিবার দুই দলেরই সাফল্য কামনা করছি। আশা করছি সেরা দলই জিতবে।’ এএফপি



মন্তব্য