kalerkantho


১২০ মিনিটের দল ক্রোয়েশিয়া!

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



১২০ মিনিটের দল ক্রোয়েশিয়া!

ম্যাচে ফেভারিট ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দুর্দান্ত খেলে ‘ফুটবলের জনক’দের আবার হতাশায় পুড়িয়ে ক্রোয়েশিয়া উঠে গেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলছে ক্রোয়াটরা। ফুটবল খেলাটাকে তারা ১২০ মিনিটের ম্যাচ বানিয়ে ফেলেছে!

নক আউটে তারা কোনো ম্যাচ ৯০ মিনিটে শেষ করেনি। দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্ক ও কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকার জিতে মডরিচরা পৌঁছে সেমিফাইনালে। তুলনামূলক কঠিন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই লটারিতে যাওয়ার আগেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে ১২০ মিনিটে। মজা হলো, তিনটি ম্যাচেই তারা আগে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে এবং পরে ম্যাচ জেতে। জয়গুলো দেখলে বোঝা যায়, ক্রোয়াটরা মানসিকভাবে কত শক্তিশালী। আর এমন ঝাঁজালো ম্যাচ ১২০ মিনিট খেলা যে কত কঠিন সেটা একমাত্র ফুটবলাররাই জানে। সেরকম তিনটি ম্যাচ টানা খেলে যাওয়ার অর্থ শক্তি, স্ট্যামিনা ও স্পিরিটে ক্রোয়াটরা অনেক এগিয়ে। ওই শেষ পর্যন্ত জয়ের স্বপ্ন ধরে রেখে সেরাটা দেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। তাই আমার কাছে, ক্রোয়েশিয়া যোগ্যতর দল হিসেবেই ফাইনালে পৌঁছেছে।

পাশাপাশি এটাও স্বীকার করতে হবে, ম্যাচটি অনেক আনন্দ দিয়েছে। সত্যি বললে, এত প্রত্যাশা ছিল না এই ম্যাচে। শুরুতে ইংল্যান্ড ফ্রি-কিক গোলে এগোনোর পর আরো কিছু সময় ভালো খেলেছে। সুযোগও তৈরি করেছে। তারা জিততে যাচ্ছে, এই ভেবে যখন মনোযোগ হালকা হয়ে আসছিল তখনই পেরিসিচের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে ফেরে ক্রোয়েশিয়া। ধরলে ইংলিশ ডিফেন্ডার ওয়াকারের ভুল ধরা যায়, কিন্তু পেছন থেকে এসে এত ভালো টাইমিং ফ্লিকের জন্য পেরিসিচকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। এই পর্যায়ে এমন গোল দেখার প্রত্যাশায় থাকে ফুটবলানুরগীরা। ওই গোলের পরই ক্রোয়াটরা প্রবল বিক্রমে ম্যাচে ফেরে এবং মধ্যমাঠের আধিপত্য হাতবদল হয়। মডরিচ-রাকিটিচরা খেলেন দাপটের সঙ্গে আর ইংলিশদের বিশ্বাসে চিড় ধরতে শুরু করে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে মান্দজুকিচের ‘মাস্টারক্লাসে’ গুঁড়িয়ে যায় ইংল্যান্ডের ফাইনালের স্বপ্ন। প্রথমে এই ফরোয়ার্ডের ‘পয়েন্ট ব্লাংক’ শট পিকফোর্ড রুখে দেন। কয়েক মিনিট বাদে ইংলিশ রক্ষণ ও গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে মান্দজুকিচ বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়াট ফুটবলকে তুলে নেন নতুন উচ্চতায়।

বড় ফুটবলার হবেন এ রকম। বড় ম্যাচে দলের প্রয়োজনে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলবেন। হ্যারি কেইন এটা করতে পারেননি জাতীয় দলের ব্যানারে। টটেনহামের হয়ে অনেক গোল করেছেন, সেই কীর্তি লেখা থাকবে ক্লাব ইতিহাসে। কিন্তু জাতীয় দলে স্মরণীয় হবেন বিশ্বকাপ ব্যর্থতার নায়ক হিসেবে। ফাইনাল ছুঁতে না পারার ৫২ বছরের আফসোস কাহিনিতে ঢুকে গেলেন কেইন! ফুটবলবিশ্বের সেরা লিগ তাদের আর তারাই কিনা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে! আমার মনে হয়, ইংলিশ লিগ তাদের ফুটবলারদের সব শুঁষে নিয়েছে। তাদের প্রায় সবাই লিগের বড় দলে খেলেছেন। সেখানে খেলে ক্লান্ত হয়েই কি তারা বিশ্বকাপে গিয়েছিল!

 

♦ জাতীয় দলের সাবেক তারকা ♦



মন্তব্য