kalerkantho


ইংলিশ মিডিয়ায় কেইনরা তবু নায়কই

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



জিতলে নায়ক। হারলে? খলনায়ক, আবার কী! ইংল্যান্ডের যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর এ-ই স্বাভাবিক চরিত্র। ইংল্যান্ডের যেকোনো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সাফল্যে দলকে, দলের সদস্যদের ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ঈশ্বরের পর্যায়ে তুলে নেয় তারা, কিন্তু একটা ম্যাচ হারলেই ঘুরে যায় পুরো ১৮০ ডিগ্রি। আগের দিনের নায়করাই তখন রাতারাতি বনে যান খলনায়ক, পত্র-পত্রিকায় হতে থাকে ব্যর্থতার কারণ ব্যবচ্ছেদ। কিন্তু গ্যারেথ সাউথগেটের দল এমনই জাদু করেছে ইংলিশদের, যে এমনকি ইংলিশ মিডিয়াও যেন ভুলে গেছে তাদের স্বভাব! বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পরদিনও তাই খলনায়ক নন হ্যারি কেইনরা, মিডিয়াজুড়ে প্রশস্তির ছড়াছড়িতে যেন দিন-বদলের সুর!

‘স্বপ্নের জগতে ছিলাম আমরা, ধন্যবাদ, ইংল্যান্ড’—কট্টরপন্থী দৈনিক ডেইলি এক্সপ্রেসের শিরোনাম এটা। একই পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠার প্রধান শিরোনাম, ‘সিংহের গর্ব’। সঙ্গে উপশিরোনামে তারা লিখেছে, ‘আমরা দেশে ফিরছি মাথা উঁচু করে।’ একই সুর টাইমসের শেষ পৃষ্ঠার শিরোনামেও, ‘মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরছে তারা।’ ফেরার কথাটা আসলে বুকে পাথর বেঁধেই লেখা, আগের দিনও তো তারা আশায় বুক বেঁধে গাইছিল ইংল্যান্ড দলের আনঅফিশিয়াল থিম সং, ‘থ্রি লায়ন্স : ফুটবলস কামিং হোম’।

টেলিগ্রাফের শিরোনামে ফেরার কথা নেই, কিন্তু আছে সেই একই বাণী, ‘মাথা উঁচু রাখো’। সাধারণ কোনো শিরোনাম না করে ডেইলি মেইল তুলে দিয়েছে পুরো একটা বাণীই, অধিনায়ক হ্যারি কেনের একটা কান্নার ছবি দিয়ে পাশে লিখেছে, ‘হ্যাঁ, কান্নায় শেষ হয়েছে সব। কিন্তু তারা আমাদের উপহার দিয়েছে গর্ব, এক করেছে পুরো জাতিকে।’ প্রথম পৃষ্ঠার মতো তাদের শেষ পৃষ্ঠায়ও ছাপা হয়েছে এমনই বাণী। সেখানে তুলনামূলক ছোট হরফে ‘তোমরা আমাদের হাসিয়েছ, গর্বিত করেছ, দিয়েছ আত্মবিশ্বাস। তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন নায়ক। এবার কোনো ট্রফি জেতা হলো না, কিন্তু মনে হচ্ছে এমন কিছু শুরু হলো, যাতে ইংল্যান্ডের প্রত্যেক নাগরিকই অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে। কাল রাতটা ছিল যন্ত্রণার, সকালে উঠে মনে হচ্ছে বিধ্বস্ত, কিন্তু, গ্যারেথ সাউথগেট....’ লেখার পর বড় অক্ষরে শিরোনাম, ‘তোমাদের অভিবাদন জানাই।’

ডেইলি মিররের শিরোনাম আবার সংক্ষিপ্ত, ‘নায়কেরা’; সঙ্গে একটু ছোট হরফে উপশিরোনাম, ‘আমরা সবাই গর্ব করি তোমাদের নিয়ে’। শেষের পাতায় ‘জাতীয় সম্পদ’ শিরোনাম দিয়ে তারা লিখেছে, ‘সাউথগেটের সাহসী সিংহের দল বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে ইংল্যান্ডের স্বপ্নে।’

চেনা সুর যে একেবারে নেই, তা অবশ্য নয়। গার্ডিয়ানের শিরোনামে যেমন হতাশার সুর, ‘স্বপ্নের মৃত্যু’। এরপর, আরো একবার শেষ চার থেকেই থ্রি লায়ন্সদের বিদায়ের দিকে ইঙ্গিত করে তারা লিখেছে, ‘ক্ষতটা রয়েই গেল’। গার্ডিয়ানের ফুটবল বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল টেলর তাঁর কলামে লিখেছেন, ‘এ যেন সুন্দর একটা চিত্রকর্মকে চোখের সামনে এক মুহূর্তে ছিঁড়ে ফেলতে দেখা।’ মস্কোর ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়া ইংলিশরা নিজেরাই তৈরি করেছিল সেই চিত্রকর্মের প্রেক্ষাপট, অতিরিক্ত সময়ে ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার মারিও মান্দজুকিচের গোলে যেন ছারখার হয়ে গেছে সেটা। ফিরে এসেছে সেই চিরচেনা, দুঃসহ দৃশ্যপট।

সেই ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ড, এর পর থেকে সেমিফাইনালই হয়ে উঠেছে তাদের শেষ গন্তব্য। বিশ্বকাপে অবশ্য সেই শেষ চারের দেখাও মিলল ২৮ বছর পর, এই তরুণ দলটিকে নিয়ে যে স্বপ্নও আসলে দেখেনি তারা। সে কারণেই এবার সেমিফাইনালে হারার পরও মিডিয়ায় সমালোচনার বদলে আশাবাদী সুর।

কিন্তু সবাই তো আর এই স্রোতে গা ভাসাবে না! পুরনো স্বভাব ধরে রেখে মেট্রো তাই শিরোনাম করেছে, ‘বলকানের লাথি’। ইঙ্গিতটা বলকান উপদ্বীপের ছোট্ট দেশ ক্রোয়েশিয়ার দিকে, তাদের কাছে হেরেই তো এবারের মতো শেষ হলো ইংলিশদের স্বপ্ন! এএফপি



মন্তব্য